কুণালের পাশে দাঁড়িয়ে আদি বিজেপি নেতার ডাক: বঙ্গে দিদিকে চাই

কাঁথি উত্তর কেন্দ্রে প্রচার সভায় তৃণমূল (Tmc) মুখপাত্র কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh) মঞ্চে বড় চমক। বিজেপির (Bjp) লোকসভার এই কেন্দ্রের প্রার্থী নিজে তৃণমূলের মঞ্চে এসে আবেদন করলেন, “আদি বিজেপিরা তৃণমূলকে ভোট দিন”। তৃণমূলের দলীয় প্রার্থীদের হয়ে গত কয়েকদিন ধরেই নন্দীগ্রাম-সহ মেদিনীপুরের প্রত্যন্ত প্রান্তে একের পর এক জনসভা করছেন কুণাল। সব জনসভাতেই উপচে পড়ছে ভিড়। বৃহস্পতিবার, দলীয় প্রার্থী তরুণকুমার জানার (Tarun Kumar Jana) সমর্থনে কাঁথি উত্তরে সভা করেন তিনি। 27 তারিখ এই কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ। তার আগে এদিনই ছিল প্রচারের শেষ দিন। সেখান থেকেই আদি বিজেপি কর্মীদের প্রতি কুণাল ঘোষ আবেদন জানান, তৃণমূলের সমর্থন দেওয়ার থেকে উন্নয়নের স্বার্থে তাঁরা তৃণমূলকে সমর্থন করুন”।

তৃণমূল মুখপাত্র বলেন, আদি বিজেপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাঁদের আদর্শগত পার্থক্য আছে। কিন্তু ওই অঞ্চলে যে তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে এতদিন সংগঠন করেছেন আদি বিজেপি নেতা-কর্মীরা। এখন সেই তৃণমূল নেতারাই ভোল পাল্টে বিজেপিতে ঢুকে প্রার্থী হয়েছেন। যাঁদের অত্যাচারের শিকার একসময় হতে হয়েছে আদি বিজেপি কর্মীদের, এখন কীভাবে তাঁদের হয়ে প্রচার করবেন তাঁরা? প্রশ্ন তোলেন কুণাল। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Bandopadhyay) উন্নয়নের যজ্ঞে সামিল হতে আদি বিজেপি কর্মীরা সরাসরি তৃণমূলে যোগ দিন। অথবা তৃণমূলকে ভোট দিন।

আরও পড়ুন:কোনও ভয় না পেয়ে, পক্ষপাতিত্ব না করে ভোট দিন: রাজ্যপাল

কুণাল ঘোষের সভায় সবচেয়ে বড় চমক ছিল, 2014 সালের কাঁথি লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী আইনজীবী কমলেন্দু পাহাড়ির (Kamolendu Pathari) উপস্থিতি। তিনি নিজে আদি বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ” আত্মসম্মান থাকলে তৎকাল বিজেপিদের ছেড়ে তৃণমূল প্রার্থীদের ভোট দিন। অথবা সরাসরি তৃণমূলে যোগদান করুন”। আদি বিজেপি নেতা কমলেন্দু পাহাড়ি ও তৃণমূল প্রার্থী তরুণকুমার জানার হাত ধরে কুণাল মঞ্চে একটি ঐক্যের বার্তা দেন।

এবার এই কেন্দ্রে গেরুয়া শিবির প্রার্থী করেছে, এক তৎকাল বিজেপি নেতাকে। তাঁর বিরুদ্ধে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ স্থানীয় আদি বিজেপি নেতা-কর্মীদেরা। এদিনের মঞ্চ থেকে সেই আদি বিজেপিদেরই মুক্তমনে আহ্বান জানালেন কুণাল। তিনি বলেন, এই তৎকাল বিজেপির সঙ্গে আদি বিজেপিদের কোনও সম্পর্ক নেই। এরাই এক সময় তৃণমূল থেকে বিজেপিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন। অথচ গেরুয়া শিবির এখন তাঁদেরকেই প্রার্থী করেছে আদি বিজেপি কর্মীদের বঞ্চিত করছে।

মঞ্চে দলীয় প্রার্থী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় (Sougata Ray)। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জনকল্যাণমূলক কাজ এবং প্রকল্পের খতিয়ান তুলে ধরেন তিনি। দুপুরের চড়া রোদ উপেক্ষা করেই বিপুল জনসমাগম হয় সভায়। মহিলাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সভা মঞ্চ থেকে যখনই তৎকাল বিজেপিদের নাম উঠেছে তখনই সভা থেকে আওয়াজ ওঠে ‘গদ্দার’, ‘মীরজাফর’।

Advt