গোপন ডেরায় বসে দিদির জন্য প্রার্থনা আবু তাহেরের

তৃণমূল সুপ্রিমো নন্দীগ্রামে। তিনি দেখা করতে যেতে পারছেন না। ১ তারিখে ভোটটাও ‘দিদি’কে দেওয়া হবে না। এই যন্ত্রণা নিয়ে গোপন ডেরায় বসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Bandopadhyay) জন্য প্রার্থনা করছেন তৃণমূল (Tmc) নেতা আবু তাহের (Abu Taher)। রবিবার, এনআইএ (Nia)-র হাতে তৃণমূল নেতা ছত্রধর মাহাত (Chatradhar Mahata) গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই গোপন ডেরায় আবু তাহের। এক জায়গায় থাকছেন না। সমানে আস্তানা বদলাচ্ছেন। কাউকে জানতে দিচ্ছে না নিজের গতিবিধি। কিন্তু মন পড়ে আছে নন্দীগ্রামে (Nandigram)।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে প্রার্থী। আর তিনি প্রচার করতে পারছেন না। আবু তাহের এখন নন্দীগ্রাম ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি। পরিবহণ দফতরের ডিরেক্টরও। নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় একাধিক মামলায় জড়িয়েছিলেন তাহের। সেই তালিকায় ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী এজেন্ট শেখ সুফিয়ান (Shekh Sufiyan)। সেই মামলাগুলির বেশ কয়েকটা আগেই তুলে নেয় সরকার। শেষ ১০টা মামলা তোলা হয় মাস চারেক আগে। ডিসেম্বরে শুভেন্দু অধিকারী বিজেপি-তে যাওয়ার পর ৫ মার্চ কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। ওই মামলাগুলি অনৈতিক ভাবে তুলে নেওয়া হয়েছে বলে আদালতে অভিযোগ করা হয়। ১৫ মার্চ আদালত নতুন করে তাহেরদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। মাসখানেক আগে রাজ্যের পক্ষ থেকে তাঁকে ওয়াই ক্যাটেগরির নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হতেই সেই নিরাপত্তাও তুলে নেওয়া হয়েছে।

নন্দীগ্রামের চৌরঙ্গিবাজার পেরিয়ে গোপীমোহনপুর গ্রামে আবু তাহেরের বাড়ি। কিন্তু সেই বাড়ি এখন খাঁ খাঁ করছে। পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তাহের।

রবিবার, নন্দীগ্রাম গিয়েছেন মমতা। আগামী ১ এপ্রিল ভোট। অথচ নন্দীগ্রাম আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সৈনিক তাহের গত কয়েক দিন ধরে বাড়িছাড়া। শনিবার, সুপ্রিম কোর্টে আবার আবেদন করেছেন তাহের। তবে তার শুনানি ৪ এপ্রিলের আগে হবে না। এই পরিস্থিতিতে গোপন ডেরায় বসে এখন শুধু নেত্রীর জন্য প্রার্থনা করা ছাড়া আর কিছু করার নেই তাহেরের।

Advt