Monday, January 5, 2026

শীতলকুচি কাণ্ড: কে অর্ডার দিলো? গুলি চালানো পদ্ধতি নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

Date:

Share post:

হাইভোল্টেজ নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election) মধ্যেই কোচবিহারের শীতলকুচি (Shitalkuchi) কাণ্ড নিয়ে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। চতুর্থ দফা ভোট গ্রহণের সকালেই শীতলকুচিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর (Central Force) গুলির বলি চারটি তরতাজা প্রাণ। এই ঘটনার দায় কার? একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ শাসক-বিরোধীর।

Advt

কী বলছেন প্রাক্তন পুলিশ কর্তা থেকে শুরু করে আইনজীবীরা?

ভোটের দিন কেন্দ্রীয় বাহিনীর এভাবে গুলি চালানোর পিছনে কোনও যুক্তি খুঁজে পাচ্ছেন প্রাক্তন পুলিশকর্তা থেকে আইন বিশেষজ্ঞরা। ঠিক কী পরিস্থিতিতে গুলি চালানো হয়েছিল, কে বা কারা গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিল? ইত্যাদি অনেক প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে।

প্রাক্তন পুলিশ কর্তা চয়ন মুখোপাধ্যায়ের ব্যাখ্যা, গুলি চালানোর পরিস্থিতি হলে সেটা পায়ে চালানো যেতে পারতো। তাতে মৃত্যুর ঘটনা এড়ানো যেত। ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই কংগ্রেসের মহাকরণ অভিযানের দিন ব্রাবোন রোডে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন তদানীন্তন ডিসি ট্রাফিক চয়ন মুখোপাধ্যায়। শীতলকুচির প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, সেদিন কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকদের সামলাতে হিমশিম খেতে হলেও একটি বারের জন্য গুলি চালানোর কথা ভাবেননি তিনি।কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটিয়ে উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করেছিলেন।

তাঁর কথায়, এইরকম পরিস্থিতিতে ঠান্ডা মাথায় সবচেয়ে কম শক্তি প্রয়োগ করে বেশি সাফল্য চায় পুলিশ। সেই কারণেই তো পুলিশ বা কেন্দ্রীয় বাহিনীতে মাসের পর মাসে ট্রেনিং চলে। রায়ট কন্ট্রোল ট্রেনিংয়ে সবকিছু শেখানো হয়। পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবিলা করতে হবে, তা হাতেকলমে শেখানো হয়।

চয়নবাবু আরও জানান, অনেক মানুষের একত্রিত গোলমাল থামাতে প্রথমে লাঠিচার্জ করতে হবে। তাতেও উত্তেজিত জনতা ছত্রভঙ্গ না হলে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুঁড়তে হবে। কিন্তু উত্তেজনা হাতের বাইরে চলে গেলে সেক্ষেত্রে গুলি চালানোর প্রয়োজন পড়ে। সেক্ষেত্রে অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলতে হয় পুলিস রেগুলেশন অব বেঙ্গল (পিআরবি)-এর নির্দেশাবলীকে। সেখানে স্পষ্ট বলা রয়েছে, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, গুলি চালাতে হবে শূন্যে বা হাঁটুর
নীচে। কখনই তা মাথা বা বুক লক্ষ্য করে নয়। শীতলকুচিতে এই কপি বুক ফলো করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন প্রাক্তন পুলিশ কর্তা।

বিশিষ্ট আইনজীবী তথা কংগ্রেস নেতা অরুণাভ ঘোষ প্রশ্ন তুলে বলেছেন, গুলি চালানোর নির্দেশ কে দিল? জেলা শাসক যদি সেই নির্দেশ দিয়ে থাকেন, তাহলে তাঁর লিখিত অর্ডার কোথায়? এক্ষেত্রে মৌখিক নির্দেশে কিছু হয় না। তাই প্রথমেই চিহ্নিত করা দরকার গুলি চালানোর অর্ডার কার থেকে পেল কেন্দ্রীয় বাহিনী। অর্ডার না থাকলে তারা গুলি চালাতে পারে না। কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবি, তাদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে ঘিরে ধরা হয়। তাহলে বাহিনীর কেউ আহত হলেন না কেন? পুলিশের কেউ আহত হয়েছে বলে শোনা যায়নি। আগ্নেয়াস্ত্র বার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ তুলছে কেন্দ্রীয় বাহিনী, সেই বেআইনি আর্মস বাজেয়াপ্ত করে স্থানীয় থানায় জমা দিয়ে তারা লিখিত অভিযোগ করেছে কি? ধারালো অস্ত্রসস্ত্রই বা গেল কোথায়?

 

spot_img

Related articles

নাগরিকত্ব না থাকলে ভোটার তালিকাতেও নয়! মতুয়াদের কোপ বিজেপির সর্বভারতীয় নেতার

এসআইআর করে যেভাবে রাজ্যের মতুয়া সম্প্রদায়ের একটা বড় অংশের ভোটারদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন তাতে...

তৃণমূলের ৪০০ BLA-2-কে সংবর্ধনা, বিধানসভা ভোট উপলক্ষ্যে মন্ত্রীর থিম সং লঞ্চ

দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার বাংলার বুথ স্তরে দলের বিএলএ ২...

অভিষেকের হস্তক্ষেপে রূপশ্রী অনুদান প্রক্রিয়া! মিলা নাগাশিয়ার নথি সংগ্রহ বিধায়কের 

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) নির্দেশে রূপশ্রীর অনুদান না পাওয়া দুই মহিলা চা শ্রমিকের পাশে দাঁড়ালেন আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সুমন...

সম্প্রীতির লিট্টি-চোখা উৎসব: বিভেদের রাজনীতিকে কটাক্ষ তৃণমূলের

শুধুমাত্র বাংলা নয়, গোটা দেশে বিভেদের বিষ ছড়িয়েছে বিজেপি। তবে বাংলাতেই সেই বিষ প্রতিহত হয়েছে। এর পিছনে গুরুত্বপূর্ণ...