Friday, March 20, 2026

বিজেপি বাংলার মসনদে এলে মুখ্যমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ?

Date:

Share post:

কী হতে চলেছে তা শেষপর্যন্ত স্পষ্ট হবে ২ মে রাতে। তবে যদি তর্কের খাতিরে ধরে নেওয়া যায় অঘটন ঘটিয়ে বিজেপিই বাংলার মসনদে বসছে, তাহলে পরের প্রশ্নটাই হবে, মুখ্যমন্ত্রী কে?

নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহরা বাংলায় মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থীর নাম ঘোষণা না করলেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, বাংলার ভূমিপুত্র ও জনপ্রিয় মুখকেই মুখ্যমন্ত্রী করা হবে। আর এই মাপকাঠি ধরলে দৌড়ে এক নম্বরে রয়েছেন বিজেপির বর্তমান রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ (dilip ghosh)। সে যতই তাঁর দলের একাংশের তাঁকে নিয়ে ছুৎমার্গ থাক না কেন! এবার এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক, কোন অঙ্কে দিলীপের পাল্লা সবচেয়ে ভারি।

১) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পছন্দের, শাহ-নাড্ডার আস্থাভাজন। তার চেয়েও বড় কথা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের আশীর্বাদধন্য।

২) মরশুমি বা সুযোগসন্ধানী দলবদলু রাজনৈতিক নেতা নন। মতাদর্শগতভাবেই বহু বছর ধরে আরএসএস ও বিজেপির ভাবধারা ও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংপৃক্ত। দলের অনুশাসন ও শৃঙ্খলা মেনে চলা লোক।

৩) বিজেপির আগেকার রাজ্য সভাপতিদের মত পার্টি অফিসে বসে দল চালানোয় বিশ্বাসী নন। ‘মুখেন মারিতং জগৎ’ টাইপ নন। বরং প্রয়াত তপন শিকদারের পর সবচেয়ে বাস্তবমুখী নেতা।

৪) ঠাণ্ডা ঘরে বসে কৌশল তৈরির চেয়েও রাজ্যের প্রতিটি জেলায় ঘুরে ঘুরে কর্মীদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ সংযোগে বিশ্বাসী। কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েই তাঁদের জন্য ভোকাল টনিক দেওয়ার নীতিতে বিশ্বাসী।

আরও পড়ুন-উপসর্গহীন ও মৃদু উপসর্গে আইসোলেশনে থাকলে কী করনীয়? গাইডলাইন স্বাস্থ্যমন্ত্রকের

৫) দিলীপ ঘোষ রাজ্য সভাপতি হওয়ার সময় বিজেপির দলীয় বৃত্তের বাইরে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এমনকি অন্য দলের নেতাদের কাছেও প্রায় অপরিচিত মুখ ছিলেন। সেখান থেকে সচেতনভাবে একটা লড়াকু ইমেজ তৈরি করে এখন সর্বত্র পরিচিতি তাঁর।

৬) সোজাসাপটা কথায় বহু সময়ে বিতর্ক তৈরি হলেও সেটাই তাঁর ইউএসপি। মুষ্টিমেয় বিদ্বজ্জনের অপছন্দের হলেও সাধারণ মানুষের কাছে জননেতার পরিচয় তৈরি করতে পেরেছেন। তাঁর সোজাসুজি চোখা প্রতিক্রিয়া আমজনতারও পছন্দের।

৭) নির্বাচনী রাজনীতিতে নেমেই কামাল করেছেন। প্রবল তৃণমূলের হাওয়াতেও প্রথমবার বিধানসভা ভোটে দাঁড়িয়ে জিতেছেন, প্রথমবার লোকসভা নির্বাচনে দাঁড়িয়েও সসম্মানে বাজিমাৎ করেছেন।

৮) ভূমিপুত্র, লড়াকু নেতা, সংগঠক, নির্বাচনে জেতার ট্র্যাক রেকর্ডের পাশাপাশি তাঁর নামের পাশে কোনও দুর্নীতির দাগ নেই। পারিবারিক পিছুটান না থাকা সর্বক্ষণের রাজনৈতিক কর্মী।

৯) জনপ্রিয়তার বিচারে মমতা ব্যানার্জির চেয়ে অনেকটা পিছিয়ে থাকলেও বিরোধী দলের বাকি সব নেতার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় মুখ হিসাবে উঠে এসেছেন। অন্তত জনমত সমীক্ষাগুলির পূর্বাভাস তেমনই।

১০) রাজ্য বিজেপির নানা চোরাস্রোতের মধ্যেও এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি অনুগামী তাঁরই।

ফলে বিজেপি বাংলায় সরকার গড়লে দিলীপ ঘোষই সেরা বাজি হওয়ার দাবিদার।

Advt

Related articles

বিজেপিতে পরিবারতন্ত্র! বিধানসভার ৩ আসনে প্রার্থী অধিকারী-ভাইরা

স্বজনপোষণ নিয়ে বিরোধীদের খোঁচা দেওয়া বিজেপির (BJP) রন্ধ্রে রন্ধ্রে পরিবারতন্ত্র। আর সেই স্রোতে গা ভাসালেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা...

নয়া অর্থবর্ষে মিলবে ৭৪০০ টাকা, সিভিক ভলান্টিয়ারদের বোনাস বৃদ্ধির ঘোষণা রাজ্যের  

নতুন অর্থবর্ষের শুরুতেই সিভিক ভলান্টিয়ারদের জন্য বড় ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে তাঁদের বার্ষিক অ্যাড-হক বোনাস বাড়িয়ে...

কমিশন দেখতে পেয়ে SP না করে দেয়: খাকি উর্দি পরে সরস খোঁচা কুণালের

সদ্য মুক্তি পেয়েছে তাঁর অভিনীত প্রথম ছবি 'কর্পূর'। আবার সদ্য প্রকাশিত হয়েছে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা যেখানে তিনি বেলেঘাটা...

আরজি কর মামলায় গতি, নতুন বেঞ্চ গঠন হাইকোর্টে 

আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় নতুন করে মোড় নিল আইনি প্রক্রিয়া। এই...