‘অন্নদাতা’-র ভূমিকায় সোনু, গোটা একটা গ্রামকে খাওয়ানোর দায়িত্ব তুলে নিলেন নিজের কাঁধে

মানুষ যখন বিপদে পড়ে তখন ঈশ্বরকেই প্রথম মনে পড়ে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে মধ্যপ্রদেশের করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় আগামী ৭ মে পর্যন্ত লকডাউনের কথা ঘোষণা করেছে সরকার। তাই গ্রামের অনেকেই না খেতে পেয়ে মারা যাচ্ছে। এই অবস্থায় রিয়েলিটি শো-এর বিচারকের কাছে, কান্নায় ভেঙে পরলেন শো-র এক প্রতিযোগী। প্রতিযোগীর কাতর আবেদন ফেলেননি সোনু। বরং একটি-দুটি পরিবার নয়, মধ্যপ্রদেশের একটি প্রত্যন্ত গ্রামের ‘অন্নদাতা’-র  দায়িত্ব তুলে নিলেন নিজের কাঁধে।

একটি রিয়েলিটি শো-এর বিচারক সোনু সুদ। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে সম্প্রতি তিনিও কোভিড পজিটিভ হয়েছিলেন। কিন্তু তাতেও দমেননি সোনু। রিয়েলিটি শো-এর এক প্রতিযোগী কাতর স্বরে মধ্যপ্রদেশের প্রত্যন্ত এক গ্রাম, নিমাচের কথা জানিয়েছিলেন ‘ত্রাতা’ সোনুকে। করোনা পরিস্থিতি উন্নতি না হওয়ায় লকডাউন বেড়ে ৭ মে পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মধ্যপ্রদেশ সরকার। তাই দিন- আনি দিন খাই লোকেরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। দু’বেলা খাওয়ার মতো অবস্থা পর্যন্ত নেই বলে সোনুর কাছে কাতর আর্তনাদ করেন রিয়েলিটি শো-এর প্রতিযোগী উদয়। যিনি নিজেও পেশায় দিনমজুর। এরপরই ‘ত্রাতা’ সোনু জানান,  ‘আমি তোমার মাধ্যমে তোমার সমস্ত গ্রামবাসীকে বলতে চাই ওখানে একমাস, দু’মাস-ছ’মাস যতদিনই লকডাউন হোক না কেন, সকল গ্রামবাসী যাতে রেশন পায় সেই ব্যবস্থা আমি করব। গ্রামবাসীদের চিন্তা করতে বারণ করো। তোমার গ্রামের কেউ অভুক্ত থাকবে না, সে লকডাউন যতদিনই চলুক না কেন।’

করোনার প্রথম পর্বে পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরানোর ব্যবস্থা করে রাতারাতি ‘হিরো’ হয়ে উঠেছিলেন পর্দার ‘ভিলেন’। কিন্তু করোনাকালে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা গেছে তাঁকে।  মানুষের চোখে ‘ঈশ্বর’ হয়ে উঠেছেন তিনি।মানুষ তাদের যাবতীয় সমস্যার কথা জানাচ্ছেন তাঁদের “ত্রাতা’-কে। সোনু সুদ তাঁর ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে শেয়ার করেছেন একটা ভিডিয়ো। প্রায় ৫০ সেকেন্ডের ওই ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে , তাঁর মোবাইল ফোনের স্ক্রিন।তাতে ভেসে উঠছে একের পর এক ফোন আর মেসেজ।মানুষের আর্তিতে অসহায় অভিনেতাও। লিখেছেন, ‘সবরকম সাহায্য করার চেষ্টা চালাচ্ছি। যদি আপনার কাছে পৌঁছতে না পারি ক্ষমা করবেন।’

Advt