প্রতিষেধক শূন্য দিল্লি! এর জন্য দায়ী কে?

এ এক আজব পরিস্থিতি! আগামীকাল ১ মে থেকে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে সকলকে ভ্যাকসিন দেওয়ার কথা কেন্দ্রের, অথচ খোদ দিল্লি প্রতিষেধক শূন্য। অগত্যা মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের অনুরোধ, অহেতুক যেন কেউ টিকাকেন্দ্রের বাইরে লাইন না দেন ।
কিন্তু দিল্লিতে এই মুহূর্তে কোনও প্রতিষেধক কেন মজুত নেই? কেন্দ্রের বৈষম্যমূলক রাজনীতিকেই এর জন্য দায়ী করেছে আপ সরকার । শুক্রবার সকালে দিল্লিবাসীর উদ্দেশে টুইট করে মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল অনুরোধ করেছেন, টিকাকেন্দ্রে লাইন দিয়ে অহেতুক ভিড় বাড়াবেন না। প্রতিষেধক দিল্লি এসে পৌঁছলে সকলকেই জানিয়ে দেওয়া হবে।
গত বৃহস্পতিবার কেজরিওয়াল জানিয়েছিলেন, আগামী ৩ মাসের মধ্যে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে সব দিল্লিবাসী প্রতিষেধক পাবেন। সে অনুযায়ীই তাঁদের সমস্ত পরিকল্পনা তৈরি। পরিকল্পনা অনুযায়ী সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে কথাও হয়েছে। প্রথম দফায় ৩ লাখ কোভিশিল্ড ডোজ দিল্লি পৌঁছনোর কথা। পরে আরও ৫০ লাখ ডোজের অর্ডারও দেওয়া হয়ে গিয়েছে সেরামকে।
কিন্তু আগামিকাল সারা দেশের সব রাজ্যে ১৮ বয়সের ঊর্ধ্বে প্রত্যেকের প্রতিষেধক পাওয়ার কথা। সেখানে দিল্লি এখন প্রতিষেধক শূন্য।
শুক্রবার দিল্লিবাসীকে আশ্বস্ত করতে আরও একটি টুইট করে কেজরিওয়াল জানান, সংস্থার সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। এখনও কোনও প্রতিষেধক হাতে পাইনি। তবে আগামী ১-২ দিনের মধ্যেই প্রতিষেধক এসে পৌঁছবে বলে আমরা আশাবাদী। প্রথমে আমাদের কাছে কোভিশিল্ডের ৩ লাখ ডোজ পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছেন তাঁরা।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী যতই রাজ্যের মানুষকে আশ্বস্ত করুন না কেন, বাস্তব চিত্র কিন্তু জলের মত পরিস্কার। অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গে দিল্লিতে যে ভ্যাকসিন নিয়ে রাজনীতি চলছে তা প্রকাশ্যে চলে আসায় রীতিমতো অস্বস্তি বেড়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের। এরই মধ্যে চলছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক এবং এই বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সেদিকেই তাকিয়ে আছে গোটা দেশ।

Advt