এলাকার মানুষের স্বার্থে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেই হবে। সেই কারণেই বুধবারে নবান্ন সভাঘরে যোগ দেন বিরোধী বিধায়করাও। ‘গঠনমূলক বিরোধী’র ভূমিকা পালনের বার্তা দিয়ে হাজির ছিলেন কলকাতা, হাওড়া ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রশাসনিক বৈঠকে বিজেপি (BJP) বিধায়কদের পাশাপাশি ছিলেন তৃণমূলের (TMC) প্রায় ২০ জন বিধায়ক। ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim), কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh), জাভেদ খান, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক বিরোধী জনপ্রতিনিধির উপস্থিতি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। প্রকল্পের পাশাপাশি হকার উচ্ছেদ, হিংসার কথাও বৈঠকে উল্লেখ করেন তৃণমূল বিধায়করা

বৈঠক শেষে বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নয়, এলাকার মানুষের সমস্যা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতেই নবান্নে এসেছিলেন। ভোট পরবর্তী হিংসা, হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়ন, রাস্তা সম্প্রসারণ, হকারদের ভবিষ্যৎ-সহ একাধিক বিষয় নিয়ে তিনি লিখিত প্রস্তাবও জমা দিয়েছেন।

কুণালের কথায়, বিরোধীদলের বিধায়ক হলেও এলাকার মানুষের স্বার্থে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেই হবে। একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, তাঁরা তৃণমূলের প্রতীকেই নির্বাচিত হয়েছেন এবং বিরোধী দলের ভূমিকাতেই থাকবেন।

নবান্ন সূত্রের খবর, বৈঠকে বর্ষা মোকাবিলা, জল জমা, নিকাশি ব্যবস্থা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা রোধ এবং বিভিন্ন দফতরের সমন্বয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সব দলের বিধায়কদের বক্তব্যও শোনা হয়।

সূত্রের খবর, তাৎপর্যপূর্ণভাবে মুখ্যমন্ত্রী তথা রাজ্যের পুলিশ শুভেন্দু অধিকারী (Suvevdu Adhikari) পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন বিরোধী বিধায়কদের ফোন ও অভিযোগকে সমান গুরুত্ব দিতে। রাজনৈতিক পরিচয় নয়, জনপ্রতিনিধি হিসেবেই তাঁদের বক্তব্য শুনতে হবে বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তৃণমূলের একাংশের মতে, রাজ্যের মানুষের সমস্যা নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে কথা বলা এবং সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করাই বিরোধীদলের দায়িত্ব। এদিন নবান্ন বৈঠকে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সেই বার্তাই তুলে ধরতে চাইল তৃণমূল নেতৃত্ব।

–

–
–
