Saturday, May 9, 2026

হারার কারন খুঁজতে নেমে বিপাকে অমিত শাহ

Date:

Share post:

রাজ্যে ষষ্ঠ দফার ভোটের পর থেকেই কার্যত নিখোঁজ বিজেপির বাংলা দখল অভিযানের প্রধান সেনাপতি অমিত শাহ৷ রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, তখনই তিনি ধরে ফেলেছিলেন গেরুয়া বেলুনের হাওয়া দ্রুত বেরিয়ে যাচ্ছে৷ কমিশনের করোনা-ফতোয়াকে হাতিয়ার করে সেই যে দিল্লি ফিরেছেন, তার পর থেকে আর খবরই পাওয়া যায়নি৷

শেষপর্যন্ত বঙ্গ-বিজেপি হদিশ পেয়েছে শাহের (Amit Shah)৷ গেরুয়া- সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার থেকে রাজ্যের নিচুতলার বিজেপি (BJP) কর্মীদের কাছে দিল্লি থেকে ফোন আসা শুরু হয়েছে। অমিত শাহ নাকি লজ্জাজনক পরাজয়ের কারন খুঁজতে নেমেছেন৷ শাহি-নির্দেশেই বাংলায় বিজেপির নিচুতলার কর্মীদের কাছ থেকে মতামত সংগ্রহ করছেন অমিতের দফতরের একদল কর্মী।

কেন এই হার? জানা গিয়েছে, নিচুতলার কর্মীরা দিল্লিকে এর কারন হিসাবে যা যা বলছেন, তাতে বঙ্গ-বিজেপির নেতারা তো বটেই, দিল্লির নেতারাও একের পর এক কাঠগড়ায় উঠছেন৷ বাদ যাচ্ছেন না মোদি-শাহও৷

কর্মীদের মারফৎ বিজেপি’র এই ভরাডুবির কারণ হিসাবে দিল্লি জেনেছে,

১) চরম সাংগঠনিক দুর্বলতা ৷

২) বিজেপি-র রাজ্য তথা জেলার নেতাদের মাত্রাছাড়া আত্মতুষ্টি ৷

৩) কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ৷

৪) বাংলাজুড়ে ভিনরাজ্যের নেতাদের হিন্দি ভাষায় বক্তৃতার জোয়ার ৷

৫) প্রধানমন্ত্রীর মুখে ‘দিদি, ও দিদি’ জাতীয় শব্দবন্ধ ৷

৬) অতিরিক্ত ‘জয় শ্রীরাম’ তথা ধর্মীয় মেরুকরণ ৷

৭) দিল্লির শীর্ষনেতাদের কথায় রাজ্য নেতাদের
‘গেরুয়া-হাওয়া’র উপর ভরসা করা৷

৮) দলের অন্দরে আদি- নব্য দ্বন্দ্ব৷

৯) তৃণমূল থেকে আসা সাংগঠনিক নেতাদের একাংশকে সে ভাবে বড় কোনও সাংগঠনিক দায়িত্ব না দেওয়া৷

১০) বুথ স্তরের সংগঠন না থাকায় ভোট প্রচারে অনেকটা পিছিয়ে শুরু করা৷ বাড়ি বাড়ি ভোটার স্লিপ বিলি করতে না পারা৷

১১) ভোটের দিন বেশিরভাগ বুথে এজেন্ট দেওয়া যায়নি৷ গণনার দিনও এজেন্ট দেওয়া যায়নি।

১২) রাজ্য নেতারা প্রকৃত পরিস্থিতি বুঝতে ব্যর্থ হওয়ায় যে সব জায়গায় তৃণমূলের জেতার কথা নয়, সেখানেও বিজেপি প্রার্থী হেরেছে৷

১৩) প্রাথী বাছাইয়ে নিচুতলার কর্মীদের লিখিত মতামতকে গুরুত্ব না দেওয়া৷ স্বপন দাশগুপ্তকে গ্রামীণ কেন্দ্রে প্রার্থী করা, দু’বারের সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়কে নিজের কেন্দ্রে প্রার্থী না করা, কল্যাণ চৌবেকে কৃষ্ণনগরে প্রার্থী না করা ইত্যাদি দিল্লির সিদ্ধান্ত ভুল ছিলো৷

নিচুতলার কর্মীদের কাছ থেকে পরাজয়ের কারন জানতে গিয়ে কার্যত ফেঁসেছেন অমিত শাহ নিজেই৷ কর্মীরা যে ধরনের গলদের কথা তুলে ধরছেন, তার প্রতিটির পিছনেই সায় ছিলো অমিত শাহের নির্দেশ৷ ফলে এই পরাজয়ের জন্য
রাজ্য কমিটিকে নিশানা করে নিজেদের দায় এড়ানোর শাহি-কৌশল কার্যত ব্যুমেরাং হতে চলেছে৷

আরও পড়ুন:মেদিনীপুরে দুষ্কৃতী হামলার শিকার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, অভিযোগ- পাল্টা অভিযোগে সরগরম রাজনীতি

Advt

 

Related articles

রাজ্যপাল ইচ্ছা করে বাধা দিচ্ছেন বিজয়কে: সরব সিপিআইএম, মামলা সুপ্রিম কোর্টে

ম্যাজিক ফিগার না ছুঁলেও বিধানসভায় দাঁড়িয়ে সরকার গঠনের সময়ে নিজের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে পারেন কি না তা দেখার...

পালাবদলের পরেই ‘গণশক্তি’-র পাতাজোড়া রাজ্যের বিজেপি সরকারের বিজ্ঞাপন!

রাজ্যে পালাবদল ঘটতেই সিপিআইএমের (CPIM) দৈনিক মুখপত্র ‘গণশক্তি’-র (Ganashakti) পাতাজোড়া রাজ্য সরকারের বিজ্ঞাপন। বাংলায় বিজেপি সরকার আসতেই শিকে...

সেলফির নামে রোহিতের কোটি টাকার ঘড়ি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা! ক্ষুব্ধ হিটম্যান

অনুরাগীর নিজস্বী তোলার আবদার মেটাতে গিয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছিল প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মাকে (Rohit Sharma)।...

ডোপিং বিতর্কে নোটিশ যশস্বী-শেফালিকে!

আইপিএল চলাকালীন বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেন রাজস্থান রয়্যালস দলের তারকা ওপেনার যশস্বী জয়সওয়াল (Yashasvi Jaiswal)। ডোপ টেস্ট সংক্রান্ত নিয়ম...