বিধানসভায় ‘নীরব’ মুকুল, এড়ালেন দিলীপের বৈঠক, পুরনো দলেই ফিরছেন, ফের চর্চা শুরু

“মানুষের জীবনে এমন দু’একটা দিন আসে, যখন মানুষকে চুপ থাকতে হয়।”

শুক্রবার বিধানসভায় বিধায়ক হিসাবে শপথ নিতে এসে সংবাদমাধ্যমে কথা না বলার কথা এভাবেই শুনিয়েছেন বিজেপির সদ্য নির্বাচিত বিধায়ক মুকুল রায়৷ মুকুল এদিন একইসঙ্গে বলেছেন, “আজ সুব্রত বকসির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে।”
এদিকে শুক্রবারই বিধানসভায় দলের নতুন বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করেন দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ৷ ওই বৈঠকে পা রাখেননি ‘নতুন বিধায়ক’ মুকুল রায়৷ কেন বৈঠকে গেলেন না, এই প্রশ্নের কোনও জবাবও দেননি তিনি।
আর এরপরেই চর্চা শুরু হয়েছে বিজেপিতে কোনঠাসা মুকুল রায় কি পুরনো দলেই ফিরছেন?

রাজ্যে গোটা দলের এক রকম ভরাডুবিই হয়েছে৷ তবে কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্র থেকে জিতেছেন বিজেপির (BJP) মুকুল রায় (Mukul Roy)৷ তিনি এখন বিরোধী দলের বিধায়ক। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্য, দল হারার দুঃখের থেকেও মুকুল এখন অসন্তুষ্টিতে ভুগছেন৷ দলের প্রতি অভিমানও আছে৷ সেই অভিমানের অনেকটাই যেন ধরা পড়েছে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানেও।
শুক্রবার নদিয়ার বিধায়কদের শপথের কর্মসূচি ছিল। বিধায়ক পদে শপথ নিতে বিধানসভায় যান মুকুল রায় । মিনিট কুড়ি ছিলেন। শপথের সময় মুখ খোলা ছাড়া বাকি সময়ে পুরোপুরি নীরব।

বিধানসভা ছাড়ার সময়
সংবাদমাধ্যম কার্যত ঘিরে ধরে মুকুল রায়কে৷ নানা প্রশ্ন করা হয়৷ উত্তরে তিনি একটাই লাইন বলেন, “আমি এখন কিছু বলব না। যখন বলার হবে, তখন সাংবাদিকদের ডেকে নেব। মানুষের জীবনে এমন দু’একটা দিন আসে, যখন মানুষকে চুপ থাকতে হয়।”
আর মুকুলের এভাবে চুপ থাকা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক মহলে। ভোটের মাঝেই জল্পনা ছিলো, তৃণমূলের সঙ্গে পুরনো সম্পর্ক ঝালিয়ে নেওয়ার কজে নেমেছেন মুকুল। ঘটনাচক্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও একবার বলেও বসেন, “ওদের থেকে মুকুল অনেক ভালো।” তারপরই ‘ভালো’ মুকুলকে নিয়ে চর্চা শুরু হয়৷ মুকুল- ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্য, গেরুয়া অন্দরে ক্রমশই দেওয়লে পিঠ ঠেকছে মুকুলের৷ সামগ্রিকভাবে ‘নিষ্ক্রিয়’ রাখতে এবার প্রার্থী করে তাঁকে ‘আটকে’ রাখা হয়৷ বিজেপির শীর্ষ নেতারা এই বিধানসভা ভোটে মুকুলকে কুটোটিও নাড়তে দেয়নি৷ স্বাভাবিকভাবেই অসন্তোষ আর অভিমান বাড়তে থাকে৷ এদিন বিধানসভায় একেবারেই চুপ থাকায় ফের জল্পনা শুরু হয়েছে, তাহলে কি পুরনো দলেই ফিরছেন মুকুল?

Advt