Tuesday, May 12, 2026

বিরোধী দলনেতা কে? বিজেপির অন্দরেই আদি-তৎকাল প্রবল লড়াই

Date:

Share post:

রাজ্য বিধানসভায় বিজেপি পরিষদীয় দলের নেতা কে হবেন? আপাতত সে নিয়ে বিজেপির অন্দরে নানা টানাপোড়েন। একদিকে শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ কয়েকজন নেতা ধরেই নিয়েছেন, প্রাক্তন মন্ত্রী, তিন বারের বিধায়ক শুভেন্দু পদটা পেয়েই গিয়েছেন। পালটা মুকুল শিবিরেরও দৌরাত্ম অব্যাহত। চাপ রাখতে মুকুল মৌনতা নিয়েছেন। পরে বলব বলে সাসপেন্স তৈরি করেছেন। কিন্তু তাতে কী ভবি ভোলবার? গতবারের বিজেপি পরিষদীয় নেতা মনোজ টিগগা নিশ্চিতভাবে দৌড়ে আছেন। সোমবার দুপুরে বিজেপির পরিষদীয় দলের বৈঠক। সেখানে বসার আগে সব শিবিরই গুটি সাজাচ্ছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কাদের প্রার্থীর গায়ে সিলমোহর দেয়, তারই অপেক্ষা।

মাদারিহাটের বিধায়ক মনোজের পিছনে আদি বিজেপির অধিকাংশ দলীয় নেতা আছেন। তাঁরা কেন মুকুল-শুভেন্দুর পাশে কেন নেই, তার ব্যাখ্যাও দিচ্ছেন দিল্লির নেতৃত্বকে। তাঁদের যুক্তি কী?

এক. মুকুল বা শুভেন্দু বিরোধী দলনেতা হলে আজ না হয় কাল নারদা ও সারদা মামলা আসবেই। তখন এদেরকে বাঁচানোটা একটা বড় দায় হয়ে দাঁড়াবে দলের। মুখ বাঁচাতে তখন মাঝপথে সরিয়ে দিতে হলে আর একবার মুখ পুড়বে বিজেপির।

দুই. দলের মধ্যে প্রবলভাবে যে প্রশ্নটা উঠেছে তা হল, এরা যদি এসেই সব ‘লোভনীয়’ পদগুলি পেয়ে যায়, তাহলে তো আদি বিজেপি বলে দলে আর কিছুই রইল না। প্রার্থী নির্বাচনে যা হয়েছিল, তা তো বিরোধী দলনেতা নির্বাচনেও দেখা যাবে! ফলে দলের মধ্যে আদি বিজেপির অস্তিত্ব সঙ্কট হতে বাধ্য। এভাবে দলবদলুদের হাতে দল তুলে দেওয়ার অর্থ দলটার ‘সত্যনাশ’।

তিন. বিরোধী দলনেতাকে কেন্দ্র করে দলটার মধ্যে যদি একটা আলাদা ভরকেন্দ্র তৈরি হয়ে যাবে যদি মুকুল বা শুভেন্দু দায়িত্ব পান। সেক্ষেত্রে কংগ্রেসের মতো বিরোধী দলনেতা আর প্রদেশ সভাপতিকে কেন্দ্র করে রাজ্য বিজেপি দু’ভাগে ভাগ হয়ে যাবে। একদিকে আদি, অন্যদিকে তৎকাল। এটাই আগামিদিনে দলের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

চার. রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে কোনঠাসা করে রাখার ফল কী হয়, তা দিল্লির নেতৃত্ব হাড়ে হাড়ে বুঝেছে। লোকসভায় দিলীপকে খোলা মনে খেলতে দেওয়া হয়েছিল, তিনি সাফল্য দিয়েছেন। আর বিধানসভায় দলবদলুদের পাল্লায় পড়েন কেন্দ্রীয় নেতারা। তার ফলও পেয়েছেন। এবার দিলীপকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া উচিত আগামিদিনের কথা ভেবেই।

সোমবার দুপুরে এই বিতর্কের অবসান হলেও অন্দরের খবর, দিল্লির নেতৃত্ব নাকি বিজেপির প্রাণ ভোমরাটাকে তৎকাল বিজেপির হাতেই তুলে দিয়েছেন!

Advt

 

 

 

Related articles

ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে হাইকোর্টে মামলা তৃণমূলের 

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় আক্রান্ত তৃণমূল (TMC) কর্মীরা। কোথাও সোজাসুজি জোড়াফুলের...

চন্দ্রনাথ খুনের তদন্তে সিবিআই, আজই রাজ্যের থেকে দায়িত্ব নেবে কেন্দ্রীয় সংস্থা

ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যজুড়ে নির্বাচন পরবর্তী হিংসার ছবি ধরা পড়েছে। গত ৬ মে উত্তর ২৪ পরগনার...

অসুস্থ মদন, হাসপাতালে ভর্তি করা হল কামারহাটির বর্ষীয়ান নেতাকে 

শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি তৃণমূল নেতা মদন মিত্র (Madan Mitra)। প্রস্রাবের সমস্যার কারণেই সোমবার (১১মে) রাতে তাঁকে...

চিকিৎসা পরিষেবায় শিল্পীদের সুবিধার্থে বড় পদক্ষেপ আর্টিস্টস ফোরামের

ওয়েস্ট বেঙ্গল মোশান পিকচার আর্টিস্টস ফোরামের (West Bengal Motion Picture Artist's Forum) সদস্যদের জন্য সুখবর। সংস্থার সঙ্গে যুক্ত...