ধর্মীয় ও রাজনৈতিক জমায়েত ভারতে করোনা সংকট ঘোরালো করেছে: WHO

ভারতে (India) করোনা (corona) সংকট তীব্র হয়ে ওঠার পিছনে অন্যতম কারণ হল লাগামহীন ধর্মীয় ও রাজনৈতিক জমায়েত ( religious and political gathering)। স্পষ্টভাবে এবার এই সমালোচনা করল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)। হু-র পর্যবেক্ষণ, করোনার অতি সংক্রামক ভ্যারিয়েন্ট যে আরও মারাত্মক আকারে এদেশে ছড়িয়েছে তার কারণ, করোনাবিধিকে অগ্রাহ্য করে লাগাতার ধর্মীয় ও রাজনৈতিক জমায়েত করে যাওয়া। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের পূর্বাভাসকে গুরুত্ব না দিয়ে লাগামহীন গণ জমায়েতের ফলেই পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। করোনাবিধি যথাযথভাবে মেনে চললে এবং বড় জমায়েতের উপর কড়াকড়ি থাকলে এই অবস্থা হত না। প্রসঙ্গত, কুম্ভমেলা উপলক্ষ্যে সুবিশাল জমায়েত ও বাংলা সহ পাঁচটি রাজ্যে নির্বাচনের প্রচারে বড় বড় জনসভা, মিছিল হয়ে গিয়েছে দীর্ঘ সময় ধরে। এর পাশাপাশি দুমাস আগে কেন্দ্রীয় সরকার সগর্বে প্রচার করেছিল, ভারত করোনাযুদ্ধ জয় করে ফেলেছে। তাতে উৎসাহিত হয়ে সাধারণ মানুষ সমস্ত করোনাবিধি শিকেয় তুলে ফেলার সাহস দেখিয়েছে। আগাম সতর্কতা উপেক্ষা করে ধর্মীয় বা রাজনৈতিক গণ জমায়েতে কোনও রাশ টানার চেষ্টা করেনি কেন্দ্রীয় সরকার। আর এখন দেশের করোনা পরিস্থিতি সংকটজনক হওয়ার পর সেই ধর্মীয় ও রাজনৈতিক গণসংযোগ অনুষ্ঠান যা জমায়েতকেই কাঠগড়ায় তুলেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

WHO জানিয়েছে,২০২০ সালের অক্টোবরে ভারতে প্রথম পাওয়া গিয়েছিল কোভিড -১৯-এর বি.১.৬১৭ ভ্যারিয়েন্ট (Indian Covid Variant)। এরপরই করোনার এই নতুন প্রজাতির ভয়াবহতা কতটা তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়। কিন্তু এই বিষয়টিকে তোয়াক্কা না করে ক্রমান্বয়ে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠান জারি ছিল ভারতে। যার জেরে দৈনিক সংক্রমণ পৌঁছে গিয়েছে প্রায় ৪ লাখের কাছাকাছি। বাড়ছে মৃত্যুও। পাশাপাশি হু-র অভিযোগ, সঠিকভাবে মেনে চলা হয়নি সামাজিক স্বাস্থ্যবিধি। অর্থাৎ ভারতের এই পরিস্থিতির জন্য দেশবাসীর ভুলের দিকেই আঙুল তুলছে WHO। এই সপ্তাহের শুরুতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (The World Health Organization) ঘোষণা করে, করোনা বি.১.৬১৭ ভ্যারিয়েন্টের আরও তিনটি উপ-প্রজাতি রয়েছে। প্রাথমিক কয়েকটি গবেষণায় এই ভ্যারিয়েন্ট (Indian Covid Variant) আরও বেশি সংক্রামক জানা গেলেও সমস্ত উপ-প্রজাতির ক্ষমতা কতটা তা এখনও বোঝা যাচ্ছে না। করোনার সবকটি প্রজাতির ক্ষেত্রেই বর্তমান ভ্যাকসিন সমান কার্যকর হবে কিনা তাও পরীক্ষাসাপেক্ষ।