Saturday, May 23, 2026

চার মন্ত্রী বিধায়ককে সিবিআইয়ের গ্রেফতার নিয়ে কী বলছেন রাজনীতিবিদরা?

Date:

Share post:

আজ সোমবার বেনজিরভাবে নারদ-কাণ্ডে গ্রেফতার চার ৷ ধৃতদের মধ্যে আবার তিনজন বিধায়ক ৷ সেই বিধায়কদের মধ্যে দু’জন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যাবিনেটের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ৷ তাই সোমবার সকালে তাঁদের গ্রেফতারির পর প্রশ্ন উঠছে, সিবিআই-এর গ্রেফতারি কি আইন মেনে হয়েছে ? নাকি পুরোটাই বেআইনি ভাবে করা হল ?

কংগ্রেস নেতা অরুণাভ ঘোষ এই গ্রেফতারিকে আইনসঙ্গত বলছেন ৷ তবে একই সঙ্গে তিনি গোটা প্রক্রিয়াটিকে প্রতিহিংসামূলকও মনে করছেন ৷ কিন্তু তিনি মনে করছেন যে নিজাম প্যালেসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধরনা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যাবে ৷ কারণ, জামিনের সময় এটা ইস্যু হবে ৷ ধৃতদের বিরুদ্ধে প্রভাবশালী হওয়ার অভিযোগ উঠবে ৷

আইনজীবী শমীক বাগচিও একই কথা বলছেন ৷ তিনি জানাচ্ছেন, অধ্যক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন ৷ কারণ, তাঁরা বিধায়ক হিসেবে শপথ নিয়ে নিয়েছেন৷ আরও অনেক অভিযুক্ত রয়েছেন ৷ তাঁদের গ্রেফতার করা হয়নি ৷

কংগ্রেস নেতা তথা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার যেন বাংলার কেউ না হয় । কাউকে ধরব কাউকে ছাড়ব সিবিআই এই নীতি গ্রহণ করতে পারে না ।

কোনও মন্ত্রীর বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়ার আগে বিধানসভার অধ্যক্ষের একটা অনুমোদন প্রয়োজন ৷ হাইকোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও আমার থেকে কোনওরকম অনুমোদন নেওয়া হয়নি, বললেন বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় ৷

টুইট করে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তৃণমূল যুব সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আর্জি, লকডাউনের বিধিনিষেধ ভাঙে, এমন কিছু করবেন না। সংযত থাকুন। বাংলা ও বাংলার মানুষের বৃহত্তর স্বার্থের কথা মাথায় রেখে শান্ত থাকুন। তিনি আরও লেখেন, বিচারব্যবস্থার উপর আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে। আইনি পথে আমরা এই লড়াই লড়ব।

আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেছেন, সিবিআইয়ের উচিত সবাইকে গ্রেফতার করা। কিন্তু স্পিকারের অনুমতির প্রয়োজন নেই। রাজ্যপালের অনুমতি যথেষ্ট । মুকুল রায়, শুভেন্দুকেও গ্রেফতার করে চার্জশিট দিক সিবিআই ।

তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, নির্বাচনে গোহারা হারের পর প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে অসভ্যতা শুরু করেছে বিজেপি । এর কোনও ক্ষমা নেই । কোভিড যুদ্ধে রাজ্য প্রশাসন ও পৌরসভা যখন সর্বশক্তি দিয়ে মোকাবিলা করছে তখন সকালে বাড়িতে এজেন্সি পাঠিয়ে এই ধরণের পদক্ষেপ । গত কয়েকদিন ধরে রাজ্যপালকে বাড়ি বাড়ি ঘুরিয়ে প্ররোচনামূলক বিবৃতি দেওয়া করিয়েছে । আর এখন এই পদক্ষেপ ।

Advt

তৃণমূল বিধায়ক তাপস রায় বলেন, এটা নিয়ম নয়, এটা আইন নয়। ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগেই নারদ কাণ্ড হয়েছিল । স্পিকারের অনুমতি ছাড়া এভাবে কাউকে গ্রেফতার করা যায়না । রাজ্যপাল সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে অনুমতি দিয়েছেন। যা হচ্ছে তা নিয়মবহির্ভূত, আইন বহির্ভূত।

Related articles

ইমপার বৈঠকে চূড়ান্ত অসভ্যতা! পিয়াকে হেনস্থা, আস্থা ভোটে সভাপতি বদলের ইঙ্গিত

বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতার রদবদলের পরই টালিগঞ্জ পাড়ায় রদবদলের ইঙ্গিত মিলেছে। এবার কার্যত সেই ইঙ্গিতেই শিলমোহর। ইমপার (EIMPA)...

কীভাবে পুরসভার অধিবেশন বেআইনি বাতিল: পুলিশি তদন্তের দাবিতে থানায় চেয়ারম্যানের

কলকাতা পুরসভা শুক্রবার নজিরবিহীন অধিবেশন বাতিলের সাক্ষী থেকেছে। তার পরে বিজেপির কাউন্সিলররা বিধায়কদের নেতৃত্বে কলকাতা পুরসভাতেও (Kolkata Municipal...

শহরে আসছেন মার্কিন বিদেশ সচিব রুবিও: পরিদর্শনই উদ্দেশ্য

কোয়াড বৈঠকে যোগ দিতে তিনদিনের ভারত সফরে আসছেন আমেরিকার বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও। শনিবার কলকাতায় পৌঁছনোর কথা তাঁর।...

৩ কাউন্সিলরেই অনাস্থা! রাজ্য দখলের পরে কলকাতা পুরসভা দখলে বিজেপির হুঁশিয়ারিতে চক্রান্ত

কলকাতা পুরসভায় নজিরবিহীন অধিবেশনের সাক্ষী থেকেছেন শুক্রবার কাউন্সিলররা। বৈঠক ডাকা, বাতিল, ক্লাব রুমে অধিবেশনের মতো ঘটনাও ঘটেছে। এরপরই...