Thursday, February 5, 2026

চার মন্ত্রী বিধায়ককে সিবিআইয়ের গ্রেফতার নিয়ে কী বলছেন রাজনীতিবিদরা?

Date:

Share post:

আজ সোমবার বেনজিরভাবে নারদ-কাণ্ডে গ্রেফতার চার ৷ ধৃতদের মধ্যে আবার তিনজন বিধায়ক ৷ সেই বিধায়কদের মধ্যে দু’জন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যাবিনেটের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ৷ তাই সোমবার সকালে তাঁদের গ্রেফতারির পর প্রশ্ন উঠছে, সিবিআই-এর গ্রেফতারি কি আইন মেনে হয়েছে ? নাকি পুরোটাই বেআইনি ভাবে করা হল ?

কংগ্রেস নেতা অরুণাভ ঘোষ এই গ্রেফতারিকে আইনসঙ্গত বলছেন ৷ তবে একই সঙ্গে তিনি গোটা প্রক্রিয়াটিকে প্রতিহিংসামূলকও মনে করছেন ৷ কিন্তু তিনি মনে করছেন যে নিজাম প্যালেসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধরনা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যাবে ৷ কারণ, জামিনের সময় এটা ইস্যু হবে ৷ ধৃতদের বিরুদ্ধে প্রভাবশালী হওয়ার অভিযোগ উঠবে ৷

আইনজীবী শমীক বাগচিও একই কথা বলছেন ৷ তিনি জানাচ্ছেন, অধ্যক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন ৷ কারণ, তাঁরা বিধায়ক হিসেবে শপথ নিয়ে নিয়েছেন৷ আরও অনেক অভিযুক্ত রয়েছেন ৷ তাঁদের গ্রেফতার করা হয়নি ৷

কংগ্রেস নেতা তথা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার যেন বাংলার কেউ না হয় । কাউকে ধরব কাউকে ছাড়ব সিবিআই এই নীতি গ্রহণ করতে পারে না ।

কোনও মন্ত্রীর বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়ার আগে বিধানসভার অধ্যক্ষের একটা অনুমোদন প্রয়োজন ৷ হাইকোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও আমার থেকে কোনওরকম অনুমোদন নেওয়া হয়নি, বললেন বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় ৷

টুইট করে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তৃণমূল যুব সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আর্জি, লকডাউনের বিধিনিষেধ ভাঙে, এমন কিছু করবেন না। সংযত থাকুন। বাংলা ও বাংলার মানুষের বৃহত্তর স্বার্থের কথা মাথায় রেখে শান্ত থাকুন। তিনি আরও লেখেন, বিচারব্যবস্থার উপর আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে। আইনি পথে আমরা এই লড়াই লড়ব।

আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেছেন, সিবিআইয়ের উচিত সবাইকে গ্রেফতার করা। কিন্তু স্পিকারের অনুমতির প্রয়োজন নেই। রাজ্যপালের অনুমতি যথেষ্ট । মুকুল রায়, শুভেন্দুকেও গ্রেফতার করে চার্জশিট দিক সিবিআই ।

তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, নির্বাচনে গোহারা হারের পর প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে অসভ্যতা শুরু করেছে বিজেপি । এর কোনও ক্ষমা নেই । কোভিড যুদ্ধে রাজ্য প্রশাসন ও পৌরসভা যখন সর্বশক্তি দিয়ে মোকাবিলা করছে তখন সকালে বাড়িতে এজেন্সি পাঠিয়ে এই ধরণের পদক্ষেপ । গত কয়েকদিন ধরে রাজ্যপালকে বাড়ি বাড়ি ঘুরিয়ে প্ররোচনামূলক বিবৃতি দেওয়া করিয়েছে । আর এখন এই পদক্ষেপ ।

Advt

তৃণমূল বিধায়ক তাপস রায় বলেন, এটা নিয়ম নয়, এটা আইন নয়। ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগেই নারদ কাণ্ড হয়েছিল । স্পিকারের অনুমতি ছাড়া এভাবে কাউকে গ্রেফতার করা যায়না । রাজ্যপাল সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে অনুমতি দিয়েছেন। যা হচ্ছে তা নিয়মবহির্ভূত, আইন বহির্ভূত।

spot_img

Related articles

“বাংলায় অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচানোর চেষ্টা!” রাজ্যসভায় মোদির ভাষণের পাল্টা ধুয়ে দিল তৃণমূল 

সুপ্রিম কোর্টে বুধবার সওয়ালে ঝড় তোলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। কোর্ট চত্বরে মমতাকে নিয়ে তুঙ্গে ওঠে...

ফের বিপর্যস্ত ব্লু লাইন মেট্রো, সপ্তাহের মাঝেই বন্ধ পরিষেবা

ফের আত্মহত্যার চেষ্টায় ব্যাহত কলকাতা মেট্রোর ব্লু লাইনের (Kolkata Blueline Metro) পরিষেবা। বৃহস্পতিবার বিকেলে রবীন্দ্র সরোবর মেট্রো স্টেশনে...

বাংলায় বিধানসভা ভোটে ‘একলা চলো’ নীতি কংগ্রেসের: সিদ্ধান্ত নিয়ে কী বলছেন সুজন-কুণাল

বামেদের সঙ্গে গাঁটছড়া খুলে এবার বাংলায় ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে একলা চলো নীতি কংগ্রেসের। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় ও প্রদেশ...

৪৪ বছর পর বেকসুর খালাস! ১০০ বছরে মুক্তি অভিযুক্তের

৪৪ বছরের পুরনো একটি খুনের মামলায় একমাত্র জীবিত অভিযুক্তকে বৃহস্পতিবার বেকসুর খালাস দিল এলাহাবাদ হাই কোর্ট(Allahabad High Court)।...