Monday, January 12, 2026

হাওয়ালায় কয়েক দফায় ধনকড় নেন ১০.২৫ লক্ষ টাকা! অভিযোগ সাংবাদিক সঞ্জয়ের

Date:

Share post:

রাজ্যের রাজ্যপাল জাগদীপ ধনকড়ের সঙ্গে জৈন হাওয়ালায় মামলার সম্পর্কের কথা কয়েকদিন আগেই দাবি করেছিল রাজ্যের শাসক দল। এবার ওই মামলার একটি তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই জগদীপ ধনকড়ের সঙ্গে ওই জৈন হাওয়ালায় মামলার যোগাযোগের ছবি স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
প্রখ্যাত সাংবাদিক তথা লেখক সঞ্জয় কাপুর রীতিমতো তথ্য-প্রমাণ দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন হাওয়ালায় মামলাতে ধনকড়ের যোগাযোগ ছিল ওতপ্রোত।

সালটা ছিল ১৯৯১। ব্লিৎজ পত্রিকার প্রখ্যাত সাংবাদিক ও লেখক সঞ্জয় কাপুর জৈন শিল্পপতিদের টাকা হাওয়ালায়ের মাধ্যমে কীভাবে বিভিন্ন প্রভাবশালীদের কাছে পৌঁছেছে তা নিয়ে একের পর এক তদন্তমূলক প্রতিবেদন সামনে এনেছিলেন। সুপ্রিমকোর্টে জৈন হাওয়ালায় কেলেঙ্কারির শুনানির সময় সেই প্রতিবেদনের তথ্যগুলি প্রমাণ হিসেবে দাখিল করা হয়েছিল।

গত সপ্তাহে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই হাওয়ালায়া কেলেঙ্কারিতে সরাসরি ধনকড়ের যোগ থাকার অভিযোগ এনেছিলেন। এমনকি চার্জশিটেও তাঁর নাম আছে বলে তিনি দাবি করেছিলেন। এরপরেই সাংবাদিক বৈঠকে ধনকড় সাফাই দিয়ে জানিয়েছিলেন, এই মামলার সঙ্গে তার কোনও যোগাযোগ নেই এবং চার্জশিটেও তার নাম নেই। যদিও তার কোনও স্পষ্ট প্রমাণ তিনি দিতে পারেননি।

এরপরেই সাংবাদিক বিনীত নারায়ণ এবং সঞ্জয় কাপুর মমতাকে সমর্থন করে জানিয়ে দেন যে তৃণমূল সুপ্রিমো যে অভিযোগ করেছেন তা সম্পূর্ণ সত্য। হাওয়ালায়ের মাধ্যমে জৈনদের কাছ থেকে ধনকড় বিপুল পরিমাণ টাকা উৎকোচ হিসেবে নিয়েছিলেন। এমনকি মমতাকে সমর্থন করে সঞ্জয় কাপুর লেখেন, তার ১৯৯১ সালে জৈন হাওয়ালায় কেলেঙ্কারি নিয়ে যে বই প্রকাশিত হয়েছিল ,তাতে সমস্ত তথ্য প্রমাণ দেওয়া আছে। ওই বইতে ব্যাখ্যা করা আছে কীভাবে প্রতিবেদনটি কে কাজে লাগিয়ে জনৈক ব্যক্তি নিজের ইমেজ তৈরি করেছিলেন। এমনকি সঞ্জয় কাপুর এই কথাও জানিয়েছেন যে, জাগদীপ ধনকড় হাওলার মাধ্যমে কত টাকা নিয়েছিলেন । তার বিশদ তথ্য প্রমাণ তার প্রকাশিত বই ‘ব্যাড মানিব্যাগ ব্যাড পলিটিক্স’-এ স্পষ্ট উল্লেখ করা আছে।

কেরলের ভাজপা ঘনিষ্ঠ রাজ্যপাল আরিফ মহম্মদ খান ঘুষ হিসেবে কয়েক দফায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা নিয়েছিলেন এবং জাগদীপ ধনকড় তিন চার দফায় ১০.২৫ লক্ষ টাকা ঘুষ হিসাবে নিয়েছিলেন । সঞ্জয় কাপুর আরও জানিয়েছেন যে জগদীপ ধনকড় প্রতি দফায় কত টাকা করে নিয়েছিলেন তা এতদিন পর এই মুহুর্তে তার পক্ষে মনে করা সম্ভব হচ্ছে না।
শুধুমাত্র হাওয়ালায় কেলেঙ্কারি নিয়ে লেখা সঞ্জয় কাপুরের বইতেই নয়, বিনীত নারায়ণের অভিযোগ পত্রেও জৈন হাওয়ালায় কেলেঙ্কারিতে ঘুষ নেওয়ার প্রসঙ্গে এই দুই রাজ্যপালের নাম উল্লেখ রয়েছে। তাই রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তৃণমূল সুপ্রিমো ধনকড়ের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুলেছেন তা যতটা সহজে এড়িয়ে যেতে পারবেন বলে মনে করেছিলেন বাংলার রাজ্যপাল, তা কিন্তু তার পক্ষে সম্ভব নয়।

spot_img

Related articles

স্বামী বিবেকানন্দের জন্মজয়ন্তীতে কাজের মধ্যেই শ্রদ্ধা: সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী

তিনিই বলেছিলেন গীতাপাঠের চেয়ে ফুটবল খেলা ভালো। যার অন্তর্নিহিত অর্থ কর্মই অনেক বেশি কাঙ্খিত, ধর্মের আলোচনার থেকে। আর...

ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প: ট্রুথ হ্যান্ডেলে ঘোষণা করে দিলেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি!

জোর করে দেশে ঢুকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছেন দেশের রাষ্ট্রপতিকে। তার জন্য নিজের দেশের কংগ্রেসে প্রবল সমালোচিত। কংগ্রেস...

সাত সকালে আগুন: বাঘাযতীন স্টেশন লাগোয়া আগুনে সাময়িক বিপর্যস্ত ট্রেন পরিষেবা

শীতের সকালে ফের আগুন আতঙ্ক শহরের রেলস্টেশন লাগোয়া এলাকায়। শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার বাঘাযতীন স্টেশন লাগোয়া দোকানগুলিতে আগুন (shop...

প্রয়াত সমীর পুততুণ্ড, আন্দোলনের ‘সঙ্গী’কে হারিয়ে শোকপ্রকাশ মুখ্যমন্ত্রীর

মধ্যরাতে প্রয়াত পিডিএস নেতা সমীর পুততুণ্ড। দীর্ঘদিন রোগে শয্যাশায়ী ছিলেন তিনি। বাম আদর্শ নিয়ে রাজনীতি করলেও সিপিআইএম-এর (CPIM)...