কাঁদলেন সুপ্রিমো। দার্জিলিং নিজে না গেলেও সতীর্থ নেতাদের মাধ্যমে দলের পতাকা গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা বিমল গুরুংয়ের হাতে তুলে দিলেন বিনয তামাং। শুক্রবার সকালে দার্জিলিঙের পাতলেবাসে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার আদি কার্যালয়ে ওই দৃশ্যের স্বাক্ষী হতে উপচে পড়েছিল ভিড়। বিনয় ঘনিষ্ঠ অন্তত ১০ জন মোর্চা নেতা-নেত্রী একে একে দলের পতাকা গুরুং ও তাঁর সহযোগী রোশন গিরির হাতে তুলে দেন। সেই সঙ্গে বিনয় তামাংয়ের পাঠানো একটি চিঠিও দেন তাঁরা।

ওই পাতাকা ও চিঠি পেয়ে আবগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিমল গুরুং। বিনয়ের পাঠানো পতাকা ও চিঠি হাতে নিয়ে কপালে ঠেকিয়ে কেঁদে ফেলেন বিমল গুরুং। তাঁক বলতে শোনা যায়, মোর্চার পথ চলা শুরু হয়েছিল যখন, তখন বিনয় আমাদের সঙ্গে ছিল। আগামী দিনেও ওঁকে পাশে চাই। তিনি এটাও জানিয়ে দেন, পরিবারের অভিভাবক হিসেবে ছোটদের কোনও ভুলত্রুটি হলে সেটা ক্ষমা করে দেওয়াটাই বড়দের কর্তব্য। কাজেই বিনয়ের কাজকর্ম নিয়ে তাঁর মধ্যে আর কোনও ক্ষোভ নেই বলেও জানিয়ে দেন তিনি।

তা হলে কি বিনয় ও বিমল ফের একসঙ্গে একই দলে রাজনীতি করবেন! সেই প্রশ্নে বিমল জানান, তা সময়ই বলে দেবে। তবে বিনয়ের হয়ে আসা প্রতিনিধিদের খাদা (সম্মান সূচক উত্তরীয়) পরিয়ে অভিভাবদন জানান বিমল ও রোশন। তাঁরা জানিয়ে দেন, পাহাড়ের সার্বিক উন্নয়ন ও দীর্ঘদিনের আবেগ সমন্বিত যে দাবি রয়েছে তা পূরণের জন্য সকলকে একযোগে চলতে হবে।

এই অবস্থায় পাহাড়ের আরেক মোর্চা নেতা অনীত তাপা কী করবেন! তাঁর সহযোগীরাই বা কোন পথে এগোবেন! তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে এদিনই কার্শিয়াঙে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার অনীত থাপা গোষ্ঠীর নেতারা বৈঠকে বসেছেন। বিকেলের মধ্যেই অনীত থাপারা কী করবেন তা স্পষ্ট হয়ে যাবে। হতে পারে, অনীত থাপারা পাহাড়ে এককভাবে রাজনৈতিক অস্তিত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করতে পারেন। আবার অনীত গোষ্ঠীর একাংশ চান, সকলে মিলে ফের একই ছাতার তলে অর্থাৎ বিমল গুরুংয়ের নেতৃত্বে ফের গোর্খা জাতিসত্ত্বার দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ার কথা ভাবা হোক।


এতসবের মধ্যে কিন্তু বিনয় তামাং সরাসরি বিমলের সঙ্গে আগামী দিনে একযোগে হাঁটতে চলেছেন সে কথা এখনও বলেলননি। বরং, তিনি পাহাড়ে মোর্চার আদি অভিভাবক হিসেবে বিমলকে মেনে নিয়ে নিজে সরে গিয়েছেন। তৃণমূলের সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ হলে তিনি রাজ্যের শাসক দলের হয়ে পাহাড়ের হাল ধরার চেষ্টা করবেন বলেও অনেকে মনে করছেন।


বিনয় কী করবেন তা ক’দিন পরেই স্পষ্ট হবে। আপাতত পাহাড়ের একটা রাজনৈতিক বৃত্ত সম্পূর্ণ হল। তা হল, বিমল গুরুং ২০১৭ সালে পাহাড় ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। তার পরে তৃমমূলের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে পাহাড়ের সর্বেসর্বা হয়ে উঠেছিলেন বিনয় তামাং। ২০২০ সালে বিমল গুরুং তৃণমূলকে সমর্থন করে পাহাড়ে ফিরেছেন। তার পর থেকে তিনি গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার অবিভাবক হিসেবে ফের স্বীকৃতি চাইছিলেন। তা বিনয় তামাংয়ের কাছ থেকে আসুক বলেও ইচ্ছে ছিল তাঁর। সেই ইচ্ছে পূরণের কারণেই হয়তো বিমল গুরুংয়ের চোখেও এদিন জল দেখা গেল।
