Friday, June 26, 2026

স্বাধীনতা দিবসের দিন ফের একবার ট্র্যাক্টর র‍্যালির ডাক কৃষকদের

Date:

Share post:

ফের একবার ট্র্যাক্টর র‍্যালির ডাক দিল কৃষকেরা। কেন্দ্রের তিন কালা কানুনের বিরুদ্ধে ফের ট্র্যাক্টর নিয়ে রাস্তায় নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে কৃষক সংগঠন। আগামী ১৫ অগস্ট হরিয়ানার জিন্দ এলাকায় আন্দোলনরত কৃষকেরা ট্র্যাক্টর র‍্যালিতে অংশ নেবেন বলে জানা গিয়েছে। তবে গত ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন যে ঘটনা ঘটেছে তার পুনরাবৃত্তি চাইছে না কেউ। তাই দিল্লি নয় এবার জিন্দ থেকে সড়কপথে চণ্ডীগড় শহরের দিকে মিছিল করবেন তারা।

আন্দোলনরত কৃষকেরা আরও জানিয়েছেন, কোনও মন্ত্রীকে তারা সেদিন জাতীয় পতাকা তুলতে দেবেন না।

কেন্দ্রের তিন কালা আইনের বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলন চালাচ্ছেন কৃষকেরা। দিল্লি-পঞ্জাব সীমান্ত, দিল্লি-উত্তরপ্রদেশ সীমান্তে দীর্ঘ আটমাসের বেশি আন্দোলন করেই চলেছেন কৃষকেরা। গাজিপুর, টিকরি সীমান্তে রয়েছেন তারা, হরিয়ানাতেও এই আইনের প্রতিবাদ চলছে টানা আটমাস। তাই এবার হরিয়ানার মধ্যেই আন্দোলন করে বিশেষ বার্তা দিতে চাইছেন কৃষকেরা।

জানানো হয়েছে, ১৫ অগস্ট কৃষকরা যে আন্দোলন করবেন, সেখানে চাষবাসের সরঞ্জাম, সার, কীটনাশক কিংবা বীজ থাকবে, যা নিয়ে ট্র্যাক্টর র‍্যালিতে অংশ নেবেন তারা। তবে কোনও অশান্তি নয় শান্তিপূর্ণ আন্দোলন হবে বলেই জানা গিয়েছে।

এই বিষয়ে কৃষক নেতা বিজেন্দর সাধু জানিয়েছেন, ‘ট্র্যাক্টরে করে আমরা বিরাট বড় মিছিল বার করব। আমাদের নিজস্ব ব্যানারে সেই মিছিল হবে। রুট ম্যাপ পুলিশের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া আছে। কোনও মন্ত্রীকে দেশের পতাকা তুলতে দেখলেই তাদের প্রত্যাখান করে কালো পতাকা দেখানো হবে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা।
তার অভিযোগ, কৃষি আইন লাগু নিয়ে উঠেপড়ে লেগেছে কেন্দ্র। কিন্তু কৃষকদের এই লড়াই আন্দোলন নিয়ে কোনও হেলদোল নেই কেন্দ্রের ।

যদিও প্রশ্ন উঠেছে, কৃষক আন্দোলন ঠেকাতে কি এবার জাতীয় নিরাপত্তা আইন ব্যবহার করবে কেন্দ্র? দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর অনিল বৈজলের একটি বিজ্ঞপ্তির পর সেই জল্পনাই মাথা চাড়া দিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কোনও ব্যক্তিকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক বলে মনে করলে, তাকে আটক করা যাবে। জাতীয় নিরাপত্তা আইনে এই পদক্ষেপ নিতে পারবেন পুলিশ কমিশনার। ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত এই নির্দেশ কার্যকর থাকবে। লেফটেন্যান্ট গভর্নরের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ্যে আসতেই নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, তিনটি কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে কৃষকরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে বেশ কয়েকবার বৈঠক হলেও জটিলতা কাটেনি। এরমধ্যেই যন্তরমন্তরে কিষাণ সংসদ শুরু করেছেন কৃষকরা। চলবে সংসদের বাদল অধিবেশনের শেষ দিন পর্যন্ত। আগামী দিনে আন্দোলনের ঝাঁঝ আরও বাড়বে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কৃষক নেতারা। এই পরিস্থিতিতে আন্দোলনে রাশ টানতে নয়া এই নির্দেশিকা ব্যবহার করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

 

Related articles

নবান্নে কাকলি-শতাব্দী-সুদীপ: শুভেন্দু-সাক্ষাতে কী কথা!

তৃণমূলে বিক্ষোভ দেখিয়ে কমপক্ষে ১৯জন সাংসদ নিয়ে এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন বর্ষীয়ান সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার (Kakoli Ghoshdastidar। জানিয়েছেন তাঁরা...

নেই হাজিরা, মামলা নিষ্পত্তিতে অনীহা, নতুন সরকারের আইনজীবী প্যানেল নিয়ে ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর এবার নতুন সরকারের সরকারি আইনজীবী প্যানেল নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতে...

ধান্দাবাজরা চলে গিয়েছে! আসল সম্পদ কর্মীরাই, তৃণমূলই থাকবে: বার্তা নেত্রীর

যারা চলে গিয়েছে যেতে দিন। নিজেকে আর পরিবার বাঁচাতে ধান্দাবাজরা বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। কিন্তু যাদের ঘাম-রক্ত-পরিশ্রম-আত্মত্যাগের বিনিময়ে...

দিদির সঙ্গেই আছি, থাকব! দুর্যোগ উড়িয়ে শপথ জেলা তৃণমূলের কর্মিসভায় 

বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বজ্রবিদ্যুৎ সহ প্রবল দুর্যোগ শহরজুড়ে। জল থইথই অবস্থা সর্বত্র। এই দুর্যোগের মধ্যেও ভিড়ে উপচে পড়ল...