Wednesday, April 29, 2026

ফের শেখ হাসিনার ‘অতি জরুরি’ ভিত্তিতে রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক সাহায্যের দাবি

Date:

Share post:

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা :

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘অতি জরুরি’ ভিত্তিতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন জোরদার করার দাবি জানালেন।তার স্পষ্ট কথা, এই সঙ্কট প্রশ্নে প্রধান আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর নিষ্ক্রিয়তা বাংলাদেশকে মর্মাহত করেছে। অথচ, সীমিত সম্পদ সত্ত্বেও মানবিক দিক বিবেচনা করে বাংলাদেশ শরানার্থীদের আশ্রয় দিয়েছিল।

নিউইয়র্কে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনের ফাঁকে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের উচ্চ পর্যায়ের এক আলোচনায় তিনি বলেন, ‘আমি বারবার বলেছি, তারা (রোহিঙ্গারা) মায়ানমারের নাগরিক। সুতরাং, তাদের অবশ্যই নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিয়ে তাদের জন্মভূমি মায়ানমারেই ফিরে যেতে হবে।’
হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।এই বিষয়ে জরুরি প্রস্তাব গ্রহণ করা প্রয়োজন।আমরা বাংলাদেশে যা কিছু করছি তা সম্পূর্ণরূপে অস্থায়ী ভিত্তিতে করা হচ্ছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের তাদের জন্মভূমিতে ফিরে যাওয়া নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যা কিছু করা সম্ভব, তা অবশ্যই করতে হবে। এদিকে, তারা নিজেরাও তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে চায়।
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে বাংলাদেশের পৃষ্ঠপোষকতায় ‘হাই-লেভেল সাইড ইভেন্ট অন ফরসিবলি ডিসপ্লেস মিয়ানমার ন্যাশনালস (রোহিঙ্গা) ক্রাইসিস : ইম্পারেটিভ ফর এ সাস্টেইনাবল সল্যুশন’ শীর্ষক ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।সেখানেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গারা দলে দলে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার পর থেকেই এই সংকটের একটি স্থায়ী সমাধানের জন্য একেবারে ধারাবাহিকভাবে ইউএনজিএ’র অধিবেশনে তিনি সুনির্দিষ্ট বিভিন্ন প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। এ ব্যাপারে ‘আমাদের সরকার মিয়ানমারের সাথে দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ বজায় রেখেছে।’
শেখ হাসিনার বক্তব্য, ‘আঞ্চলিক ক্ষেত্রে, তারা চিন ও ভারতসহ প্রধান শক্তিগুলোকে এই সঙ্কট সমাধানে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করেছে। বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রে, আমরা বিশ্বেও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দেশ ও জাতিসঙ্ঘ সংস্থাগুলোর মনোযোগ আকর্ষণ করে জাতিসঙ্ঘ প্রস্তাবের মাধ্যমে বিষয়টি আলোচনার টেবিলে ধরে রেখেছি। তবে, দুঃখজনকভাবে ‘দুর্ভাগা, গৃহহীন হয়ে পড়া মায়ানমারের নাগরিকদের দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য চালানো তাদের প্রচেষ্টা এখনও পর্যন্ত কোনও আলোর মুখ দেখেনি।’
তিনি বলেন, বিগত চার বছর ধরে বাংলাদেশ অনেক আশা নিয়ে অপেক্ষা করে রয়েছে যে বাস্তুহারা এসব মানুষ নিরাপদে এবং মর্যদাসহকারে তাদের নিজের দেশ মায়ানমারে ফিরে যেতে পারবে। তিনি বলেন, ‘তা সত্ত্বেও, আমাদের আহ্বান অবহেলিত রয়ে গেছে এবং আমাদের প্রত্যাশা অসম্পূর্ণ রয়েছে। এ সঙ্কটের পঞ্চম বছর চলছে। এখনও, আমরা রোহিঙ্গা সঙ্কটের একটি স্থায়ী সমাধানের আশা রাখছি।’
প্রধানমন্ত্রী এই সঙ্কট সমাধানে পাঁচ দফা আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন। এক্ষেত্রে প্রথমত, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ‘আমাদের সকলের জোরালো প্রচেষ্টা’ চালানো প্রয়োজন। তিনি বলেন, দ্বিতীয়ত, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার অনিশ্চয়তা দূর করতে মায়ানমারে রাজনৈতিক দৃশ্যপটের পরিবর্তন ঘটানো এবং এই সঙ্কট সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার একটি সংশোধন প্রয়োজন।

 

advt 19

 

Related articles

লুঙ্গি পরায় ভোটদানে বাধা কেন্দ্রীয় বাহিনীর! পোশাক দিয়ে ভোটারের বিচারে ক্ষুব্ধ মমতা

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় (Second phase of West Bengal Assembly Election) নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে গাইঘাটা...

ইভিএমে টেপ লাগালো দুষ্কৃতী: তাড়াহুড়ো করে পুণর্নির্বাচন নয়, জানালন সিইও মনোজ

পুণর্নির্বাচন একটি বিরাট ব্যাপার। ফলে কোনও বুথ বা কেন্দ্রে পুণর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিতে গেলে অনেক তদন্ত করতে হবে, স্পষ্ট...

নাগরিকদের উপর কেন্দ্রীয় বাহিনী সন্ত্রাস! হাওড়ায় CRPF ধাক্কায় বৃদ্ধের মৃত্যুতে গর্জে উঠলেন অভিষেক

কেন্দ্রীয় বাহিনীর ধাক্কায় এক বৃদ্ধের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে গর্জে উঠলেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek...

কোন দলের প্রার্থী প্রশ্ন করার ওরা কারা? কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ কুণাল

রাজ্যের দ্বিতীয় দফার ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনী দাপট অব্যাহত। দিকে দিকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতে শিশু, মহিলা থেকে বৃদ্ধরা আক্রান্ত...