Friday, June 12, 2026

ফের শেখ হাসিনার ‘অতি জরুরি’ ভিত্তিতে রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক সাহায্যের দাবি

Date:

Share post:

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা :

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘অতি জরুরি’ ভিত্তিতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন জোরদার করার দাবি জানালেন।তার স্পষ্ট কথা, এই সঙ্কট প্রশ্নে প্রধান আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর নিষ্ক্রিয়তা বাংলাদেশকে মর্মাহত করেছে। অথচ, সীমিত সম্পদ সত্ত্বেও মানবিক দিক বিবেচনা করে বাংলাদেশ শরানার্থীদের আশ্রয় দিয়েছিল।

নিউইয়র্কে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনের ফাঁকে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের উচ্চ পর্যায়ের এক আলোচনায় তিনি বলেন, ‘আমি বারবার বলেছি, তারা (রোহিঙ্গারা) মায়ানমারের নাগরিক। সুতরাং, তাদের অবশ্যই নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিয়ে তাদের জন্মভূমি মায়ানমারেই ফিরে যেতে হবে।’
হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।এই বিষয়ে জরুরি প্রস্তাব গ্রহণ করা প্রয়োজন।আমরা বাংলাদেশে যা কিছু করছি তা সম্পূর্ণরূপে অস্থায়ী ভিত্তিতে করা হচ্ছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের তাদের জন্মভূমিতে ফিরে যাওয়া নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যা কিছু করা সম্ভব, তা অবশ্যই করতে হবে। এদিকে, তারা নিজেরাও তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে চায়।
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে বাংলাদেশের পৃষ্ঠপোষকতায় ‘হাই-লেভেল সাইড ইভেন্ট অন ফরসিবলি ডিসপ্লেস মিয়ানমার ন্যাশনালস (রোহিঙ্গা) ক্রাইসিস : ইম্পারেটিভ ফর এ সাস্টেইনাবল সল্যুশন’ শীর্ষক ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।সেখানেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গারা দলে দলে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার পর থেকেই এই সংকটের একটি স্থায়ী সমাধানের জন্য একেবারে ধারাবাহিকভাবে ইউএনজিএ’র অধিবেশনে তিনি সুনির্দিষ্ট বিভিন্ন প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। এ ব্যাপারে ‘আমাদের সরকার মিয়ানমারের সাথে দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ বজায় রেখেছে।’
শেখ হাসিনার বক্তব্য, ‘আঞ্চলিক ক্ষেত্রে, তারা চিন ও ভারতসহ প্রধান শক্তিগুলোকে এই সঙ্কট সমাধানে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করেছে। বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রে, আমরা বিশ্বেও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দেশ ও জাতিসঙ্ঘ সংস্থাগুলোর মনোযোগ আকর্ষণ করে জাতিসঙ্ঘ প্রস্তাবের মাধ্যমে বিষয়টি আলোচনার টেবিলে ধরে রেখেছি। তবে, দুঃখজনকভাবে ‘দুর্ভাগা, গৃহহীন হয়ে পড়া মায়ানমারের নাগরিকদের দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য চালানো তাদের প্রচেষ্টা এখনও পর্যন্ত কোনও আলোর মুখ দেখেনি।’
তিনি বলেন, বিগত চার বছর ধরে বাংলাদেশ অনেক আশা নিয়ে অপেক্ষা করে রয়েছে যে বাস্তুহারা এসব মানুষ নিরাপদে এবং মর্যদাসহকারে তাদের নিজের দেশ মায়ানমারে ফিরে যেতে পারবে। তিনি বলেন, ‘তা সত্ত্বেও, আমাদের আহ্বান অবহেলিত রয়ে গেছে এবং আমাদের প্রত্যাশা অসম্পূর্ণ রয়েছে। এ সঙ্কটের পঞ্চম বছর চলছে। এখনও, আমরা রোহিঙ্গা সঙ্কটের একটি স্থায়ী সমাধানের আশা রাখছি।’
প্রধানমন্ত্রী এই সঙ্কট সমাধানে পাঁচ দফা আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন। এক্ষেত্রে প্রথমত, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ‘আমাদের সকলের জোরালো প্রচেষ্টা’ চালানো প্রয়োজন। তিনি বলেন, দ্বিতীয়ত, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার অনিশ্চয়তা দূর করতে মায়ানমারে রাজনৈতিক দৃশ্যপটের পরিবর্তন ঘটানো এবং এই সঙ্কট সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার একটি সংশোধন প্রয়োজন।

 

advt 19

 

Related articles

সাইয়ের প্রকল্প বাস্তবায়নে জোর, ডুরান্ড কমিটির সঙ্গে বৈঠকে ক্রীড়ামন্ত্রী

ক্রীড়া দফতরের দায়িত্ব নিয়েই দ্রুত কাজ শুরু করে দিলেন ইন্দ্রনীল খাঁ(Dr.Indranil Khan)। শুক্রবার দফায় দফায় বৈঠক সারলেন রাজ্যের...

ক্রীড়া চিকিৎসা ও প্রযুক্তির মেলবন্ধন: অনুষ্ঠিত হল ‘স্পোর্টসমেড ২০২৬’ আন্তর্জাতিক সেমিনার

শুক্রবার কলকাতায় অনুষ্ঠিত হল একটি উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক সেমিনার— 'স্পোর্টসমেড: ফ্রম পারফরম্যান্স টু প্রিভেনশন' (SportsMed: from Performance to Prevention:...

মুখ্যমন্ত্রীর নজরে BGBS-এর ৬৩৫ কোটি টাকার বরাত!

BGBS-এ এলাহী খরচ। একটি নির্দিষ্ট ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থাকেই বরাত। নতুন সরকারের আতসকাচের চলায় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে...

গ্রেফতার হবেন ইন্দ্রনীল ও তাঁর স্ত্রী! কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ

গ্রেফতার হতে পারেন- এই আশঙ্কায় প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন (Indranil Sen) এবং তাঁর স্ত্রী আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছেন...