Friday, January 9, 2026

Uttarakhand: ৪০০ বছর আগের অভিশাপের আতঙ্কে হোলি খেলেন না গ্রামবাসীরা! 

Date:

Share post:

আজ চারিদিকে ফাগুনের আগুন, পলাশ আজ রং ধরিয়েছে মনের কোণে। বঙ্গ (Bengal)জুড়ে রং আর আবিরের মূর্ছনা। রাত পোহালেই হোলি(Holi), কথায় বলে বঙ্গের বসন্ত পূর্ণিমার পরের দিন সারা দেশ রং এর উৎসবে (Holi festival)মেতে ওঠে। কিন্তু এই রঙিন অনুভূতি আর মুহূর্তের অনেক দূরে সরিয়ে রাখেন উত্তরাখণ্ডের(Uttatakhand) তিন গ্রামের বাসিন্দারা।

জনশ্রুতি, উত্তরাখণ্ডের তিনটি গ্রাম ৪০০ বছরের অভিশাপ বয়ে নিয়ে চলেছে আজও , রুদ্রপ্রয়াগের(Rudraprayag) প্রত্যন্ত তিনটি গ্রামে দীর্ঘ ৪০০ বছর ধরে রং খেলা হয় না কারণ ‘হোলি’ তে মানা। স্থানীয়দের বিশ্বাস, গ্রামের যদি কেউ হোলি উৎসব (Holi festival)পালন করে, তবে গোটা গ্রামেই বড় কোনও বিপদ নেমে আসবে। প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা মহামারি নেমে আসতে পারে। সেই কারণেই প্রতি বছর এই দিনটিতে গ্রামবাসীরা কার্যত গৃহবন্দি থাকেন।

Russia Ukraine War: ফুরিয়ে আসছে রসদ, ইউক্রেন হামলার তৃতীয় সপ্তাহে কপালে ভাঁজ রাশিয়ার

কিন্তু কেন এমন বদ্ধমূল ধারণা  গ্রামবাসীদের মনে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে মনে আসে প্রবাদ ” বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহুদূর”।  স্থানীয়দের বিশ্বাস, প্রায় ৪০০ বছর আগে দেবী ত্রিপুরা বালা ত্রিপুর সুন্দরী অভিশাপ দিয়ে গিয়েছিলেন। হোলি উদযাপনের অপরাধে শয়ে শয়ে মানুষ কলেরা ও চিকেন পক্সে মারা গিয়েছিলেন। প্রাণ বাঁচাতে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যান বাকিরা। পরে ফিরে এসে তাঁরা  দেবীর কাছে পুজো দিয়ে তাঁকে সন্তুষ্ট করেন। এরপর থেকেই ওই তিনটি গ্রামে হোলি খেলা নিষিদ্ধ।

স্থানীয় এক পুরোহিত জানান, এই তিন গ্রামের বাসিন্দারা মূলত কাশ্মীরের কুয়েলি, খুরজান ও জৈন্ডলা থেকে উত্তরাখণ্ডে চলে এসেছিলেন। তার আগে রাজপুতদের বিস্ত গোষ্ঠী এই গ্রামগুলিতে থাকতেন। কিন্তু আচমকাই মহামারি দেখা যায় গ্রামে। কলেরা ও চিকেন পক্সে মারা যান বহু মানুষ। সেই সময়ই গ্রামে এই প্রবাদ প্রচলিত হয় যে, ত্রিপুরা বালা ত্রিপুর সুন্দরীর অভিশাপেই মড়ক লেগেছে। কথিত আছে যে দেবী রং পছন্দ করতেন না। গ্রামবাসীরা রঙ খেলাতেই দেবী রুষ্ট হন এবং অভিশাপ দেন।

KKR: প্রকাশিত হল কেকেআরের নতুন জার্সি

রাজপুতদের চলে যাওয়ার পর পান্ডে গোষ্ঠী এই গ্রামে থাকতে আসেন, যদিও তা দীর্ঘস্থায়ী হয় নি। অবশেষে সাতটি পুরোহিত সম্প্রদায় এবং নেগী রাজপুতদের চারটি সম্প্রদায় কাশ্মীর থেকে আসেন এবং চামোলি জেলার কোঠা গ্রামে বসবাস করতে শুরু করেন। দেবীর অভিশাপের ওই প্রচলিত প্রবাদ জানার পরই তাঁরা চিরতরে হোলি উৎসব বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন। তাই ওই গ্রামের সীমানা যেখানে শেষ সেখানে অনেকেই উদ্যোগ নিয়ে রংয়ের উৎসবে মেতে ওঠেন, কিন্তু অংশগ্রহণ করেন না গ্রামবাসীরা।

 

spot_img

Related articles

দু’ঘণ্টা পার, দিল্লিতে এখনও আটক তৃণমূল সাংসদরা! ফেসবুক লাইভে ইডিকে তোপ মহুয়ার 

ঘড়ির কাঁটা বারোটা পেরিয়ে যাওয়ার পরও দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট পুলিশ স্টেশনেই আটক তৃণমূল সাংসদরা। দু'ঘণ্টার বেশি সময় ধরে...

আইপ্যাক কাণ্ডে অভিযোগ দায়ের মুখ্যমন্ত্রীর

গতকাল সেক্টর ফাইভে আইপ্যাক এর অফিসে ইডি হানা, ইডির বিরুদ্ধে নথি চুরির অভিযোগে বিধাননগর ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানায় লিখিত...

সামান্য বাড়ল কলকাতার তাপমাত্রা, দক্ষিণবঙ্গের জেলায় জেলায় জাঁকিয়ে শীত

শুক্রবার সকালে সামান্য বাড়ল কলকাতার তাপমাত্রা (Kolkata Temperature)। আলিপুর হাওয়া অফিস (Alipore Weather Department) জানিয়েছে ১০- ১১ ডিগ্রি...

লজ্জা! এটাই বিজেপি নতুন ভারতের রূপ! সর্বশক্তি দিয়ে তোমাদের হারাবে তৃণমূল, গর্জন অভিষেকের

স্বৈরাচারের নির্লজ্জ সীমায় পৌঁছে গিয়েছে বিজেপি। অগণতান্ত্রিক, অসাংবিধানিক পথে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করছে। স্বৈরাচারী বিজেপি গণতন্ত্রের শেষটুকু উপড়ে ফেলে...