Monday, January 12, 2026

ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিলেন বিপ্লব দেব

Date:

Share post:

বিজেপি শাসিত ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিলেন বিপ্লব দেব(Biplab Deb)। শনিবার দিল্লির নির্দেশ মতো কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভুপেন্দ্র যাদবকে সঙ্গে নিয়ে রাজ্যপালের(Govornor) কাছে নিজের ইস্তফা পত্র জমা দেন বিপ্লব। রাজ্যপালকে পাঠানো মাত্র একটি লাইনের ইস্তফাপত্রে তিনি লিখেছেন, “আমি ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিলাম। আজ থেকেই এই ইস্তফা গ্রহণ করা হোক।” তবে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর এই আচমকা ইস্তফায় স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও বিপ্লব দেবের দাবি, সংগঠনের কাজে মনোনিবেশ করতেই মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তিনি।

শনিবার রাজভবনে গিয়ে নিজের ইস্তফাপত্র জমা দেওয়ার পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিপ্লব দেব বলেন, “আমি বিজেপির ন্যায়নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা। আশা করি, আমায় যে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেই পদে থেকে ত্রিপুরার মানুষকে ন্যায় প্রদানের চেষ্টা করেছি। এখন পার্টি চাইছে যে সংগঠনের কাজ করি। সংগঠন থাকলে তবেই সরকার থাকবে। দীর্ঘ সময় আমার মতো কর্মকর্তা কাজ করলে সরকার দীর্ঘ সময় থাকবে।” সেইসঙ্গে বিপ্লব বলেন, ‘প্রত্যেকের কাজের একটি নির্ধারিত সময় থাকে।’ তবে বিপ্লব দেবের ইস্তফায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, বিধানসভা নির্বাচনের মাত্র ১০ মাস আগে মুখ্যমন্ত্রীকে সংগঠনের কাজে বহাল করতে ইস্তফা দেওয়ানো হল মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে? যদিও রাজনৈতিক মহলের অনুমান, মুখ্যমন্ত্রী পদে থেকে বিপ্লব দেবের একের পর এক কর্মকাণ্ডে ভাবমূর্তী নষ্ট হচ্ছে বিজেপির। অনুন্নয়ন, গুণ্ডারাজ ও হিংসাদীর্ণ ত্রিপুরায় বিজেপির ভাবমূর্তী ঠিক করতেই সরানো হয়েছে বিপ্লব দেবকে।

আরও পড়ুন:Jharkhand: কয়লা চুরি আটকাতে গিয়ে আক্রান্ত সিআইএসএফ-এর মহিলা আধিকারিক

এদিকে বিপ্লব দেবের ইস্তফার পর তৃণমূলের তরফে টুইট করে লেখা হয়েছে, “ত্রিপুরায় হাজার হাজার মানুষকে ব্যর্থ করা মুখ্যমন্ত্রীকে বিদায় এবং শুভ পরিত্রাণ! যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছে। এতটাই যে বিজেপির শীর্ষ কর্তারাও তার অক্ষমতায় বিরক্ত। তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে যা অর্জন করেছে তাতে বিজেপির কর্মকর্তারা খুব বিচলিত বলে মনে হচ্ছে। পরিবর্তন অনিবার্য।” এদিকে এই ঘটনার পর তৃণমূলের রাজ্য সাধারন সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, “গোটা দলটাই ২০২৩ সালে চলে যাবে। যারা একটা টার্ম চালাতে পারে না, তারা আবার কী সরকার চালাবে। এরা গোষ্ঠীবাজি নিয়েই ব্যস্ত। এরপর ত্রিপুরায় তৃণমূল সরকার গঠন করবে।”




spot_img

Related articles

ভোটের আগে ইডি-র হানা: CPIM-এর উল্টো পথে শরিকদল CPIML

লোকসভা নির্বাচনের আগে যে শরিক দলের হাত ধরে ভোট বৈতরণী পার করার চেষ্টা করেছিল বাংলার সিপিআইএম, সেই শরিক...

নথির প্রাপ্তি স্বীকার করছে না কমিশন! আরও হয়রানির আশঙ্কা করে জ্ঞানেশ কুমারকে পঞ্চম চিঠি মুখ্যমন্ত্রীর

ফের SIR-এর শুনানি-পর্বে মানুষের হয়রানির অভিযোগ তুলে জাতীয় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে (Gyanesh Kumar) চিঠি দিলেন বাংলার...

প্রতিরক্ষা ও আন্তর্জাতিক মিশনে ধাক্কা: নিখোঁজ ‘অন্বেষা’-সহ একাধিক স্যাটেলাইট

বছরের প্রথম মহাকাশ মিশনেই বড় ধাক্কা ISRO-তে। সোমবার সকালে শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে PSLV-C62 রকেট উৎক্ষেপিত...

SIR: পশ্চিমবঙ্গে খুব অদ্ভুত পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে! কমিশন-সহ সবপক্ষের জবাব তলব সুপ্রিম কোর্টের

পশ্চিমবঙ্গে SIR প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জের শুনানিতে সব পক্ষের জবাব তলব করল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। সোমবার তৃণমূল সাংসদ...