বাংলায় মাথা নীচু করে থাকতে হচ্ছে: ধনকড়, ‘ওনার স্পন্ডেলাইসিস’, পাল্টা কুণাল

এখন কলকাতায় কোনও উন্নয়নমূলক কোনও কিছুই হয় না। কার্যত সব কিছুই অবসরের মুখে। তিনি এই অবস্থার জন্য সরাসরি দায়ী করেন রাজ্য সরকারকে। তার দাবি, রাজ্যের উদাসীনতার জন্যই আজকের এই অবস্থা।

ফের বিতর্কিত মন্তব্য রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের।শুক্রবার অডিট কনক্লেভে প্রধান বক্তা হিসাবে উপস্থিত হয়ে রাজ্যপাল বলেন, সিটি অফ জয় এখন সিটি অফ রিটায়ারমেন্ট। তার মন্তব্য, এখন কলকাতায় কোনও উন্নয়নমূলক কোনও কিছুই হয় না। কার্যত সব কিছুই অবসরের মুখে। তিনি এই অবস্থার জন্য সরাসরি দায়ী করেন রাজ্য সরকারকে। তার দাবি, রাজ্যের উদাসীনতার জন্যই আজকের এই অবস্থা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প কোনও দিকেই ভাল কিছু এখন আর হয় না।

রাজ্যপাল অভিযোগ করেন,বাংলায় মাথা নীচু করে থাকতে হচ্ছে। এই মন্তব্য প্রসঙ্গে তৃণমূল মুখপাত্র তথা রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের  কটাক্ষ, এঠা ওনার ব্যক্তিগত স্পন্ডেলাইসিসের সমস্যা।সারা বাংলা মাথা উঁচু করে আছে আর উনি মাথা নীচু করে আছেন ? তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায় বলেন, বাংলার মানু, যথেষ্ট বিচক্ষণ, এভাবে বাংলার মানুষকে ভুল বোঝানো যাবে না।

রাজ্যপালের মন্তব্যের প্রতিবাদে সরব বাংলার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব থেকে শাসক ও বিরোধীরা। তৃণমূলের বক্তব্য, বাংলাকে অপমান করেছেন রাজ্যপাল। ভালো না লাগলে বাংলা থেকে চলে যান। রাজ্যপাল গেলে মানুষের মঙ্গল হবে। কংগ্রেসের তরফ থেকে স্পষ্ট বলা হয়েছে, কলকাতা ভারতের সাংস্কৃতিক রাজধানী।  রাজনৈতিক বা সরকারি স্বীকৃতির প্রয়োজন নেই। সিপিআইএম এর বক্তব্য, এটা বাংলার নিজস্বতা, বাংলার গৌরব। বাংলাকে অপমানের অধিকার নেই রাজ্যপালের। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজ্যপাল পদে একথা শোভনীয় নয়।

আরও পড়ুন- বর্ষা ছেড়েছি লড়াই নয়: ‘বিশ্বাসঘাতক’ শিন্ডেকে চ্যালেঞ্জ ঠাকরের

অভিনেতা কৌশিক সেন বলেন, রাজনৈতিক ভাষায় কথা বলছেন রাজ্যপাল। রাজ্যপাল এর কথা ফিরিয়ে নেওয়া উচিত। অভিনেতা ঋদ্ধি সেন বললেন, রাজ্যপালের মন্তব্য সমর্থন যোগ্য নয়। আর্থিকভাবে সত্যি পিছিয়ে বাংলা। তবে আবেগ প্রকাশের ভাষা এমন নয়। সব মিলিয়ে রাজ্যপালের মন্তব্যে সমালোচনার ঝড়।

রাজ্যপালের দাবি, আগে দেশের জিডিপিতে অবদান ছিল রাজ্যের। কিন্তু এখন আর নেই। তার মন্তব্য, রাজ্যের নিজের জিডিপিরই কোনও উন্নতি নেই। তাহলে দেশে কী করে অবদান রাখবে রাজ্য? তার দাবি, জিডিপির উন্নতিতেও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয় না সরকারের পক্ষ থেকে আর এই কারণেই রাজ্যে জিডিপি মুখ থুবড়ে পড়েছে। তার আরও বক্তব্য, আগে সংস্কৃতি থেকে শুরু করে অর্থনীতি সবেতেই এগিয়েছিল এই রাজ্য। আর এখন পিছোতে পিছোতে একদম দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে।

Previous articleবর্ষা ছেড়েছি লড়াই নয়: ‘বিশ্বাসঘাতক’ শিন্ডেকে চ্যালেঞ্জ ঠাকরের