Saturday, January 31, 2026

প্রকাশ্যে ঋত্বিকের বিয়ের চিঠি: স্যোশাল মিডিয়ায় যুক্তি তক্কো আর গপ্পো

Date:

Share post:

সাল ১৯৫৫, তারিখ ৮ মে , দিনটা ছিল রবিবার। সাতপাকে বাঁধা পড়েছিলেন ঋত্বিক ঘটক (Ritwik Ghatak) এবং সুরমা দেবী ( Surama Devi)। প্রায় ৬৭ বছর পরে আজ রবিবাসরীয় আলোচনায় উঠে আসছে সেই দিনের কথা। কারণ সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social media) হঠাৎ ভাইরাল কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার ঋত্বিক ঘটকের বিয়ের কার্ড (Wedding Card)। ইন্দুবালা দেবী ঘটকের (Indubala Devi Ghatak) লেখা সেই আমন্ত্রণ পত্র ঘিরে নস্টালজিয়ায় ফিরল বাঙালি।

মাথাভর্তি উদ্ভ্রান্তের  মতো এলোমেলো চুল, ক্ষুরের স্পর্শাভাবে গালে খোঁচা খোঁচা দাড়ি। পরনে ধূলিমলিন পাজামা-পাঞ্জাবির সঙ্গে কাঁধে একটা শান্তিনিকেতনী ঝোলা। চোখে কালো ফ্রেমের চশমা আর সেই চোখে কৌতুক মেশানো ধারালো দৃষ্টি। তিনিই ঋত্বিক ঘটক। বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পরিচালক। একদিকে ভিন্নধর্মী চলচ্চিত্র নির্মাণ অন্যদিকে নানা বিতর্কে সঙ্গে জড়িয়ে পড়া। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তাঁর নাম সত্যিই উল্লেখযোগ্য। ঋত্বিক ঘটক ১৯২৫ সালের ৪ ঠা নভেম্বর,  পূর্ববঙ্গের (বর্তমান বাংলাদেশের) ঢাকার জিন্দাবাজারের ঋষিকেশ দাস লেনে জন্মগ্রহণ করেন। বাবার সুরেশ চন্দ্র ঘটক, মা ইন্দুবালা দেবী । বাড়ির কণিষ্ঠ সন্তান ছিলেন ঋত্বিক। গল্প-কবিতা লিখে ঋত্বিকের সাহিত্যচর্চার শুরু হয়েছিল দেশভাগের সময়টাতেই। এরপর কলকাতায়  সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েন থিয়েটার এবং রাজনীতির সঙ্গে। ছেলেকে সংসারে ফেরাতে শিলং নিবাসী কুমুদ রঞ্জন ভট্টাচার্যের মেয়ে সুরমা দেবীর সঙ্গে ছেলের বিয়ে দেন ইন্দুবালা দেবী। দাদা মণীশ চন্দ্র ঘটকের বহরমপুরের বাড়িতেই ঋত্বিকের বৌভাতের অনুষ্ঠানে হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় যে বিয়ের কার্ড টি ভাইরাল হয়েছে সেখানে তারিখ লেখা রয়েছে ১৬ মে, ১৯৫৫।

পরিচালক ঋত্বিক ঘটকের জীবনে তাঁর স্ত্রী সুরমা দেবীর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানসিক অবসাদে বিপর্যস্ত ঋত্বিককে সামলেছিলেন তাঁর সহধর্মিনী, যুগিয়েছিলেন এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা। ১৯৬০,৬১,৬২ এই তিন বছর পরিচালক ঋত্বিক ঘটকের জীবনের অত্যন্ত স্মরণীয় অধ্যায়। পরপর তিন বছরে বাঙালি দর্শককে তিনি উপহার দিয়েছিলেন ‘মেঘে ঢাকা তারা’ , ‘কোমল গান্ধার’ এবং ‘ সুবর্ণরেখা ‘। কলকাতার তৎকালীন অবস্থা এবং উদ্বাস্তু জীবনের রুঢ় বাস্তবতাকে এই ছবির মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছিলেন ঋত্বিক ঘটক। বারবার সমালোচিত হয়েছেন তিনি, বিশেষ করে কোমল গান্ধার এবং সুবর্ণরেখা’র ব্যবসায়িক ব্যর্থতার কারণে সেই দশকে আর কোন চলচ্চিত্র নির্মাণ তার পক্ষে সম্ভব হয়নি । এই সময়টায় মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছিলেন, অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু স্বামীর উপর থেকে বিশ্বাস হারান নি সুরমা দেবী। ‘নাগরিক’ জীবন যাত্রার মধ্যে থেকেও ‘ অযান্ত্রিক’  স্বপ্নগুলোকে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন ঋত্বিক ঘটক। জীবন আকাশে যখন ‘মেঘে ঢাকা তারা’ , যখন ‘বাড়ি থেকে পালিয়ে’ বিপ্লব গড়ে তোলার ইচ্ছে মনের মধ্যে দানা বাঁধে, তখনই হয়তো অজান্তেই বোনা হয়ে যায় ‘যুক্তি তক্কো আর গপ্পো’ ।  হয়তো এভাবেই তৈরি হয় ইতিহাস আর চিরস্মরণীয় হয়ে থেকে যান কিংবদন্তি পরিচালক ঋত্বিক ঘটক।



spot_img

Related articles

SIR হয়রানিতে ডেকে আবার আসতে বাধা! পরিযায়ীদের সঙ্গে দ্বিচারিতার রাজনীতি

নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর সময় থেকে সব থেকে বড় বাধার সম্মুখিন হবে রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকরা, এমনটা আন্দাজ...

সতর্ক ও সর্বাত্মক লড়াই: ভবানীপুরের বিএলএ-দের বৈঠকে ডেকে বার্তা তৃণমূল নেত্রীর

একদিকে প্রতিপক্ষ বিজেপি। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের প্রতিদিনের নতুন নতুন ছক। এসআইআর প্রক্রিয়ায় যতবার কমিশনের চক্রান্ত ফাঁস হয়েছে, সবই...

কমিউনিস্ট সেলিমের কমিউনাল পলিটিক্স! জোট প্রক্রিয়া ব্যহত করায় দায়ী, সরব কংগ্রেস

কলকাতার হোটেলে হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বৈঠক করে সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম একদিনে কত বিতর্ক টেনে এনেছেন শূন্যে...

দুদিনের সফরে শহরে শাহ: ‘জিতবই’ বার্তা দলীয় কর্মীদের

বাংলায় নির্বাচন শুরুর ঘণ্টা বাজার আগেই রাজনৈতিক ডেইলি প্যাসেঞ্জারিতে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বরা। প্রতি সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী, সভাপতি থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর...