App-এর ভুলে ১কোটি ৩৬ লক্ষের নাম ‘বাদ’! অভিযোগে AERO পদে অব্যহতির আবেদন

Date:

Share post:

যে পদ্ধতিতে ১ কোটি ৩৬ লক্ষ বাংলার মানুষকে লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির আওতায় আনা হয়েছে সেই পদ্ধতি নিয়েই প্রশ্ন তুলে এবার নির্বাচন কমিশনের কাজ থেকে অব্যহতি চাইলেন রাজ্যের এক আধিকারিক। যে অ্যাপ ও অ্যালগোরিদমের (algorithm) ভরসায় নির্বাচন কমিশন (Election Commission) দেশের কোটি কোটি মানুষকে নিয়ে ভোটার তালিকা তৈরির খেলায় মেতেছে, সেই প্রক্রিয়া ও অ্য়াপ যে কতটা ভুল – তা বারবার তুলে ধরেছে বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এবার সেই পদ্ধতিতে কীভাবে বৈধ ভোটারদের নাম যথেচ্ছভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে তা, তুলে ধরে এইআরও (AERO) পদ থেকে অব্যহতি চাইলেন হাওড়ার বাগনানের (Bagnan) এক আধিকারিক। তাঁর দাবি, যেভাবে এই ভুল পদ্ধতি অবলম্বণ করে সাধারণ মানুষকে হয়রান করা হচ্ছে, সেই প্রক্রিয়ার সঙ্গে তিনি আর চলতে পারবেন না।

নির্বাচনের মুখে বাংলায় দ্রুত ভোটার তালিকা সংশোধনীর (SIR) প্রক্রিয়া করতে গিয়ে একদিকে রাজ্যের সরকারি কর্মীদের বিএলও থেকে এআরও পদে নিয়োগ করে কাজের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। অন্যদিকে অ্যাপের মাধ্যমে কাজ সহজ করার নামে যথেচ্ছভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে বাংলার ভোটারদের নাম। আর তার প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাচ্ছেন রাজ্যের ইআরও পদাধিকারী অর্থাৎ জেলাশাসক ও এইআরও পদাধিকারী অর্থাৎ জেলাশাসকের অধীনস্থ বিভিন্ন দফতরে আধিকারিকরা। এবার সেই তথ্য তুলে ধরে এইআরও পদ থেকে অব্যহতি চাইলেন (resignation) বাগনান ব্লকের বিপর্যয় মোকাবিলা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক মৌসম সরকার।

অ্যাপের কারণে সাধারণ মানুষ থেকে রাজনীতিক, সেলিব্রিটি – এমনকি নোবেলজয়ী ভারতরত্ন অমর্ত্য সেনকে লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির আওতায় আনছে নির্বাচন কমিশন। যখন সেই সব ভুল নিয়ে প্রশ্ন উঠছে তখন সামনের সারিতে থাকা বিএলও, এইআরও বা ইআরও-দের দিকে ঠেলে দিচ্ছে কমিশন, যেন তাঁরাই ভুল করেছেন। এই পরিস্থিতিতে কেন ১ কোটি ৩৬ লক্ষ মানুষের নাম কেন লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির আওতায় তা তুলে ধরে বাগনানের আধিকারিক জানান, ২০০২ সালের ভোটার তালিকার (voter list 2002) পিডিএফ ফর্ম্যাট থেকে যখন কনভার্ট করা হচ্ছে মেশিনে তখনই মেশিন যেমন খুশি বানান নিয়ে নিচ্ছে। এমনকি এই ভুলে কথা নিজে স্বীকার করেছেন দেশের অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।

মারাত্মক অভিযোগ তুলে বাগনানের (Bagnan) আধিকারিক জানান, বহু ক্ষেত্রে মানুষের নাম এসেছে ‘Ya’। যা বাংলার কেন, কোনও ভারতীয় নামের সঙ্গে মেলে না। একাধিক ভোটারের নাম এই একই শব্দবন্ধ দিয়ে এসেছে। কেন এসেছে, তার ব্যাখ্যা নেই। কারণ সবটাই মেশিনের অ্যালগোরিদম (algorithm)। অথচ তার দায় নিতে হচ্ছে রাজ্যের আধিকারিকদের (AERO)। এরপরে আর এই কাজ তাঁর পক্ষে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলে অব্যহতির আবেদনপত্রে জানিয়েছেন আধিকারিক।

আরও পড়ুন : নতুন করে কাজের চাপে আত্মঘাতী বিএলও! আতঙ্কে মৃত্যু দুই ভোটারেরও

খসড়া তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন যে কতখানি দায়বদ্ধহীনতার পরিচয় দিয়েছে তা আরও একবার তুলে ধরল বাগনানের আধিকারিকের চিঠি। তিনি দাবি করেন, নামের বানান বা ঠিকানার বানান সংক্রান্ত বিষয়ে সাধারণ নেট মাধ্যমের সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে। যেখানে আমরা সকলেই জানি গুগল বা অন্য প্ল্যাটফর্মের এই সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতার ক্ষেত্রে। পরে সেই সব নাম, বাবার নাম, ঠিকানা, লিঙ্গ, বয়স ফর্ম এইট থেকে সংশোধন করা হয়েছে। বিএলও-রা এই কাজ করেছে। খসড়া তালিকায় ওঠা নাম বা অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে কমিশের অ্যাপে সাধারণ গুগলের দ্বারা তৈরি করা নাম বা অন্যান্য তথ্যের বানানের ব্যাপক ভুল চলে এসেছে। যার ফলে ১ কোটি ৩৬ লক্ষ মানুষ লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির শিকার, দাবি রাজ্য সরকারি আধিকারিকের।

spot_img

Related articles

২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে দোকান-অফিস, রাজস্ব ও কর্মসংস্থান বাড়াতে বড় পদক্ষেপ রাজ্যের

রাজ্যের রাজস্ব বৃদ্ধি ও বাণিজ্যের পরিবেশ বদলাতে বড় উদ্যোগ নিল নতুন সরকার। এবার থেকে পশ্চিমবঙ্গে ২৪ ঘণ্টা দোকান,...

শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ! ফিরহাদ-অরূপদের শোকজ করল তৃণমূল কংগ্রেস 

দলের শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং দলবিরোধী কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস ও অরূপ রায়ের মতো প্রথম সারির...

অন্নপূর্ণা যোজনায় কাটছাঁট বাজেটে, অর্ধেকেরও বেশি উপভোক্তা বাদ পড়ার আশঙ্কা 

রাজ্য সরকারের পেশ করা নতুন বাজেটে অন্নপূর্ণা যোজনার বরাদ্দ ঘিরে দানা বেঁধেছে তীব্র বিতর্ক। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের ঢাকঢোল...

পরিকাঠামো উন্নয়নের নামে ভাঁওতা? গঙ্গাসাগর সেতুতে ‘টোকেন’ বরাদ্দ, বিমানবন্দরেও যৎসামান্য! 

বিরাট ঘোষণা, বড় বড় প্রতিশ্রুতি, কিন্তু বরাদ্দের খাতায় চোখ রাখলেই ধরা পড়ছে অন্য ছবি। বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেটে...