নির্বাচনের ফল ও গণনার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ভবানীপুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার এই মামলায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে কলকাতা হাই কোর্ট। এদিন আদালতে মমতার আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, আদালতের বেঁধে দেওয়া নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও সেই মামলার নথি জমা পড়েনি তাঁর কাছে। নথি হাতে না পাওয়ায় দেরি হচ্ছে বলে এদিন আদালতে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বর্ষীয়ান আইনজীবী। কেন যথাসময়ে প্রয়োজনীয় নথি পাঠানো গেল না, তা জানতে কলকাতা হাই কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে আদালত।
২০২৬ নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রে ভোট গণনা প্রক্রিয়ায় গলদ আছে এই অভিযোগ করে মামলা করেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মামলায় কেন বিলম্ব তা জানতে চান বিচারপতি। তার উত্তরে মমতার আইনজীবী আদালতে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, "কলকাতা হাইকোর্টের তো অলিখিত নিয়মই হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, নির্বাচনী মামলার নিষ্পত্তি পাঁচ বছরেও হয় না!"
অন্য দিকে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) আইনজীবী জয়দীপ কর, দাবির বিরোধিতা করেন। এজলাসে তিনি সওয়াল করেন, আদালতের আগের নির্দেশ মেনেই সংশ্লিষ্ট ইভিএম (EVM) এবং মামলার যাবতীয় প্রাসঙ্গিক নথিপত্র ইতিমধ্যেই যথাযথ ভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। ফলে মামলার গতি স্তব্ধ হওয়ার বা বিলম্ব ঘটার কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই বলেই দাবি তাঁর।
দু'পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর হাই কোর্ট নির্দেশ দেয়, আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে দু'পক্ষকে নিজেদের কাছে থাকা প্রয়োজনীয় নথির কপি অন্য পক্ষকে হস্তান্তর করতে হবে। সেই সংক্রান্ত হলফনামা আদালতে পেশ করতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ নির্ধারিত নথিপত্র ঠিকমতো হাতে পেলেন কি না, রেজিস্ট্রার জেনারেলকে তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।















