প্রথমে বলেছিলেন এনডিএ-র সঙ্গে বৈঠকে নেই। তারপরের দিনই হঠাৎ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাড়িতে ব্রেকফাস্ট বৈঠকে সেখানে গিয়ে হাজির হয়েছিলেন, আবু তাহের-খলিলুর রহমান এবং ইউসুফ পাঠান। এরপর শনিবার অর্থাৎ, আজ দুপুরে নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (CM Suvendu Adhikari) সঙ্গে একান্তে বৈঠক করলেন তৃণমূল সাংসদ আবু তাহের (Abu Taher) এবং খলিলুর রহমান (Khalilur Rehman)। 

নবান্নে থেকে এক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা বাড়িয়ে দিয়েছেন দুই তৃণমূল সাংসদ। আগামী দিনে এনসিপিআই-তেই থাকবেন নাকি অন্য পথ বেছে নেবেন - সে প্রসঙ্গে দুই সাংসদ জানান, "ভবিষ্যতে আমরা এই দলে থাকব কি থাকব না, তা একমাত্র সময়ই বলে দেবে।"

আরও পড়ুন: নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে বেছে টার্গেট করা হবে না! আবু-খলিলুরকে আশ্বস্ত করলেন মুখ্যমন্ত্রী

আবু তাহের বলেন, লোকসভার (Lok Sabha)  স্পিকার এখনও পর্যন্ত তাঁদের সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ হিসেবেই ডাকছেন। যখন তাঁরা সংসদে বক্তব্য পেশ করছেন, তাঁদের নামের পাশে এআইটিসি-র নামই উল্লেখ করা থাকছে। তাঁর কথায়,"কাগজে-কলমে এনসিপিআই কিন্তু এখনও এনডিএ-র আনুষ্ঠানিক শরিক নয়। এনসিপিআই নামে ডাকলে অবশ্যই যেতাম, তবে আমরা স্পষ্টভাবে জানাচ্ছি যে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছি না।"

দুই সাংসদ জানান, সাম্প্রতিক এসআইআর প্রক্রিয়া এবং রাজ্যজুড়ে মসজিদ থেকে মাইক ও লাউড স্পিকার খোলার জটিলতা নিয়েই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে এসেছিলেন তাঁরা। তাঁরা জানিয়েছেন,অসংখ্য গরিব মানুষ পর্যাপ্ত তথ্য সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন। মুখ্যমন্ত্রী (CM Suvendu Adhikari) আশ্বাস দিয়েছেন যে প্রথম দফায় ৭ লক্ষ মানুষের নাম তোলার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। অন্যদিকে, বাকি ২০ লক্ষ মানুষের ক্ষেত্রে আবেদন জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা যাতে অন্তত বাড়ানো হয়, সে বিষয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য দুই পক্ষের কাছেই আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা।

মসজিদ থেকে মাইক খোলা নিয়ে দুই সাংসদের সংযোজন, অতি-উৎসাহী পুলিশি তৎপরতার কারণে বেছে বেছে বিশেষ একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়কে টার্গেট করা হচ্ছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষ চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের আশ্বস্ত করেছেন যে কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে বেছে টার্গেট করা হবে না এবং বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে।