Monday, March 16, 2026

উপাচার্য নিয়োগ বিতর্কে ফের টুইট রাজ্যপালের, পাল্টা ধনকড়কে তোপ কুণালের

Date:

Share post:

উপাচার্য নিয়োগ ইস্যুতে রাজ্যপাল(Govornor) ও রাজ্য সরকারের সংঘাত ফের চরম আকার ধারণ করল। শনিবার একের পর এক টুইট ও দীর্ঘ প্রেস বিবৃতি প্রকাশ করে উপাচার্য নিয়োগ ইস্যুতে নিজের অবস্থান জানালেন জগদীপ ধনকড়(Jagdeep Dhankar)। সরাসরি তৃণমূল মুখপাত্রের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে তিনি বলেন, উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে মুখপাত্ররা প্রকাশ্যে যে বিবৃতি দিচ্ছেন তা দুর্ভাগ্যজনক। যদিও রাজ্যপালের বক্তব্যের পাল্টা তোপ দাগতে ছাড়েননি কুণাল ঘোষ(Kunal Ghosh)। স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানান, তিনি নিজের বক্তব্যে অবিচল এবং রাজ্যপাল একতরফাভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। বিধানসভায়(Assembly) পাশ হয়ে যাওয়া একটি বিল সই না করে ফেলে রেখেছেন উনি।

সম্প্রতি রাজ্যের সরকারি সব বিশ্ববিদ্যালয়েরই আচার্য পদে মুখ্যমন্ত্রীকে বসাতে বিল পাশ করেছে রাজ্য সরকার। তবে এখনও ওই বিলে রাজ্যপালের স্বাক্ষর হয়নি। ফলে নিয়ম অনুয়াযী বিলটি এখনও আইনে রূপান্তরিত হয়নি। সেই আবহেই বৃহস্পতিবার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য নিয়োগের কথা ঘোষণা করেন রাজ্যপাল। বিবাদ মূলত সেই বিষয়টিকেই নিয়ে। তিনি বলেছেন, ‘রাজ্যপাল তথা আচার্যের পদাধিকার বলে রবীন্দ্র ভারতীর বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি যে উপাচার্য নিয়োগ করেছেন, সেই নিয়ে তৃণমূল মুখপাত্ররা প্রকাশ্যে যে বিবৃতি দিচ্ছেন তা দুর্ভাগ্যজনক।’

বিবৃতিতে ধনখড় বলেন, “বলা হল রাজ্যপাল মুখ্যমন্ত্রী বা শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথা না বলেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু ২৪ জুন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু রাজ্যপাল তথা আচার্যের কাছে এ বিষয়ে নোট পাঠিয়েছিলেন।” শুধু তাই নয় রাজ্যপালের দাবি পদাধিকার বলে এখনো তিনি সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আচার্য। আর সেই অধিকারেই রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্য বিভাগের অধ্যাপিকা মহুয়া মুখোপাধ্যায়কে উপাচার্য পদে নিয়োগ করেছেন তিনি। ১৯৮১ সালের রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় আইনের (১)(বি) ধারা মেনে।’

তবে রাজ্যপালের এই বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিতে ছাড়েননি তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, “মাননীয় রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় যা বলছেন তা অত্যন্ত আপত্তিকর। উপাচার্য সংক্রান্ত বিল বিধানসভায় পাস হয়েছে। অথচ তা পাস হওয়ার পরও রাজ্যপাল যা করছেন তা বিধানসভার নির্বাচিত বিধায়কদের পরিপন্থী। ফলে আমি তখন যা বলেছিলাম আজও সেই অবস্থানেই দাঁড়িয়ে আছি। খোদ শিক্ষামন্ত্রী যেখানে নিজের বিবৃতিতে বলেছেন তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন, সেখানে রাজ্যপাল যে বক্তব্য পেশ করেছেন তার বিরোধিতা করছি।”

 

পাশাপাশি রাজ্যপালকে তোপ দেগে কুণাল ঘোষ আরও বলেন, “এত উত্তর দিচ্ছেন, এত কথা আসছে, তাহলে রাজ্যপাল সরাসরি যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে আসুন। রাজ্যপাল একতরফা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। যৌথ সাংবাদিক বৈঠক নিয়ে আপনি কেন নীরব? আমরা পশ্চিমবঙ্গের জন্য নিরপেক্ষ রাজ্যপাল আশা করি।”


spot_img

Related articles

দিলীপকে খড়্গপুর ফিরিয়ে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ বিজেপির, নন্দীগ্রামে ভরসা না রেখে ভবানীপুরেও লড়বেন শুভেন্দু

পায়ের তলায় মাটি নেই বুঝতে পেরে ফের আদিতে ফিরছে বিজেপি (BJP)। প্রথমে রাজ্য সভাপতি আদি বিজেপি শমীক ভট্টাচার্য,...

মধ্যরাতে গুপ্ত তাণ্ডব! রাতারাতি মুখ্যসচিব বদলে ‘মহিলাবিদ্বেষী’ বিজেপি-কমিশনকে নিশানা মমতার

“মধ্যরাতে মেসেজ পেলাম, কাউকে কাজে লাগিয়ে ছুপারুস্তমের মতো গুপ্ত তাণ্ডব করছে“- সোমবার মহামিছিলের শেষে ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিং-এর মঞ্চ...

নির্বাচন সংক্রান্ত আরও আটটি ‘আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি’ জারি কমিশনের

রাজ্যে (West Bengal Election) দোরগোড়ায় নির্বাচন। ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশন (Election Commission) ভোটের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। প্রশাসনিক থেকে...

নাম নেই শতরূপের, কেন্দ্র বদল মীনাক্ষি-দীপ্সিতাদের: তমান্নার মাকে প্রার্থী করে সেন্টিমেন্টাল তাস বামেদের!

ISF ও CPIML-liberation -এর সঙ্গে জোট করে বিধানসভা ভোটে লড়বে বামফ্রন্ট। সোমবার, সাংবাদিক বৈঠক থেকে ঘোষণা করলেন বামফ্রন্ট...