Monday, February 23, 2026

সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার্থীদের স্বপ্নপূরণের কারিগর মহেশ ভগবন্ত

Date:

Share post:

সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার্থীদের স্বপ্নপূরণ করেন তিনি। নিজে আইপিএস অফিসার হয়েও তাঁর সহযোগিতা পেয়ে আইএফএস পাশ করেছেন একাধিক তরুণ-তরুণী।নিশ্চয়ই ভাবছেন এই মহান ব্যক্তিটি কে ? নাম মহেশ ভগবন্ত। ১৯৯৫ ব্যাচের এই আইপিএস অফিসারের শখ পড়ুয়াদের পড়ানো। কী ভাবে সিভিল সার্ভিসের মতো কঠিন পরীক্ষায় ছাত্রছাত্রীদের পাশ করানো যায়, সেটাই তাঁর মূল চিন্তা।
সম্প্রতি প্রকাশত হয়েছে, ২০২১ সালের ইন্ডিয়ান ফরেস্ট সার্ভিস (আইএফএস)-এর ফলাফল। এরপরই ফোন ধরতে হিমশিম খাচ্ছেন ভগবন্ত।সবাই ফোন করে প্রথমেই জানাচ্ছেন ধন্যবাদ। অধিকাংশদেরই আর্জি, ‘‘এ বার আমাদের পড়ান।’’
রায়পুর থেকে মণিপুর, রাজস্থান থেকে উত্তরপ্রদেশ—আইপিএস মহেশ ভগবন্তের ছাত্র ছড়িয়ে সারা দেশে। আর পরিসংখ্যান জানলে চোখ কপালে উঠবে। এ বার মোট ১০৮ জন ইউপিএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন ‘শখের শিক্ষক’ ভগন্তের। তাঁদের ৫০ শতাংশই সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় পাশ করেছেন।শুধু তা-ই নয়। মেধাতালিকার প্রথম ২০ জনের মধ্যে ১০ জনই এই আইপিএস অফিসারের কাছ থেকে ‘তালিম’ প্রপ্ত।
শিক্ষক হিসাবে তার একটাই বার্তা, ‘‘এ বার সমাজের জন্য পরিশ্রম করো।’’দোর্দণ্ডপ্রতাপ পুলিশ অফিসার বলেই পরিচিত মহেশ। তেলঙ্গানার রচোকোণ্ডা হল দেশের বৃহত্তম পুলিশ কমিশনারেট। চার জেলা নিয়ে ৫ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা এই কমিশনারেটের নিয়ন্ত্রণে। সেখানকার পুলিশ কমিশনার মহেশ।
এরই পাশাপাশি তাঁর নেশা শিক্ষকতা।

আরও পড়ুন – যান্ত্রিক গোলযোগের জের, ফের করাচিতে বিমানের জরুরি অবতরণ

গত ছয় বছরে প্রায় ১,২৫০ জন ইউপিএসসি পরীক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন এই আইপিএস অফিসার। যদিও শিক্ষক নয়, নিজেকে ‘মেন্টর’ বলতেই পছন্দ করেন তিনি।যাঁদের তিনি ‘মেন্টর’ ছিলেন, তাঁদের কেউ এখন আইএএস, কেউ আইপিএস, কেউ বা আইএফএস অফিসার।নিজের কাজের ফাঁকে ঘণ্টা দুই সময় বের করে ইউপিএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়ান এই আইপিএস অফিসার। কোন বিষয়ের কোন অংশ কত টুকু পড়তে হবে, কোন বিষয়ে বিশেষ জোর দিতে হবে— সেই সব পরিকল্পনা অসাধারণভাবে সহজেই ছকে দেন তিনি।

যারা সফল হতে পারেননি দ্বিতীয় বার আরও ভাল করে তাঁদের পড়ান আইপিএস ভগবন্ত। তা ছাড়া, সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার্থীদের জন্য ভগবন্তের একটি দল রয়েছে। তাঁরা নোট, বইপত্র, সাজেশন তৈরি করে রাখেন পড়ুয়াদের জন্য।তাঁর এলাকায় মানব পাচার, শিশু শ্রমিক এবং বাল্য বিবাহের মতো সমস্যা এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে ? আইপিএস অফিসারের কথায়, ‘‘নিজে যখন আইপিএস অফিসার হওয়ার চেষ্টায় পরিশ্রম করছিলাম, বিশেষ কোনও সুবিধা পাইনি। তবু সাফল্য এসেছে। সেই শিক্ষা ওদের দিয়ে সাহায্য করছি শুধু।’’ পড়ুয়াদের সাফল্যে চওড়া হাসি এই পোড় খাওয়া আইপিএস অফিসারের মুখে।

 

 

spot_img

Related articles

পোর্টাল বন্ধ, কীভাবে নথি আপলোড: কমিশনকে প্রশ্ন বিচারকদের

সোমবার থেকেই লজিকাল ডিসক্রিপেন্সিতে আটকে থাকা ভোটাদের নথি যাচাইয়ের কাজ শুরু করবেন রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক ও বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা।...

পিজির মুকুটে নয়া পালক! স্বাস্থ্যসাথীর হাত ধরে রাজ্যে প্রথম ‘সিউচারলেস হার্ট ভালভ’ প্রতিস্থাপন

রাজ্যের মুকুটে নতুন পালক। খাস কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে সফলভাবে সম্পন্ন হলো রাজ্যের প্রথম সরকারি ‘সিউচারলেস হার্ট ভালভ’ বা...

চূড়ান্ত ব্যর্থ ব্যাটিং, সুপার আটের প্রথম ম্যাচে হেরে চাপে ভারত

  টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের (T20 World cup) সুপার এইটের প্রথম ম্যাচেই ধাক্কা ভারতের দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ৭৬ রানে হার টিম...

নিজে হাতে খুন করেও অনুশোচনা নেই ব্রিজভূষণের! ধর্ষক-খুনিদের আশ্রয়দাতা মোদিকে প্রশ্ন তৃণমূলের

একসময় দেশের মুখ উজ্জ্বল করা মহিলা ক্রীড়াবিদরা ধর্ষক বলে আঙুল তুলেছিলেন তার দিকে। তারপরেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে...