Sunday, April 12, 2026

কোন্দল থামাতে রাজ্যে বিজয়বর্গীয়কে সরিয়ে বিজেপির দায়িত্বে বাংলার ভূমিপুত্র সুনীল বনসল

Date:

Share post:

২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে (Bengal Assembly Elections 2021) প্রত্যাশিত ফল করতে পারেনি বিজেপি (BJP) ৷ তার পর থেকে একের পর এক উপ-নির্বাচন ও পুরভোটে ভরাডুবি হয়েছে গেরুয়া শিবিরের৷ তাই সময় যত এগিয়েছে, ততই বিজেপির অন্দরে মাথাচাড়া দিয়েছে বিদ্রোহ ৷ আর প্রকাশ্যেই হারের কারণ নিয়ে হয়েছে কাটাছেঁড়া ৷ আর সেই ‘ময়নাতদন্তে’ বারবার উঠে এসেছে কৈলাস বিজয়বর্গীয়র (Kailash Vijayvargiya) নাম ৷ যিনি বঙ্গ বিজেপির পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন ৷

২১-এর ২ মে-র পর থেকে তাঁকে আর দেখা যায়নি বাংলায় ৷ বারবার তাঁকে সরানোর দাবি উঠেছে গেরুয়া শিবিরের অন্দরমহল থেকে ৷ বিজেপি সূত্রে খবর, সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল বেশ কিছুদিন আগেই ৷এবং প্রত্যাশামতোই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হল বঙ্গ বিজেপির পর্যবেক্ষক পদ থেকে ৷ এ বার পাকাপাকি ভাবে কৈলাসকে সরিয়ে রাজ্য বিজেপির নতুন পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পেলেন সুনীল বনসল। বুধবারই বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা সুনীলকে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা ও তেলঙ্গানার পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দিয়েছেন তাঁকে।

কে এই সুনীল বনসল ? এত দিন উত্তরপ্রদেশের সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন)-এর দায়িত্বে ছিলেন সুনীল। দীর্ঘদিন থেকেই যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যে বিজেপির দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। তবে রাজ্য বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, আদতে সুনীল বাংলার ভূমিপুত্র। দুর্গাপুরের বেনাচিতি বাজারের কাছে তার আদি বাড়ি। বিজেপি সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ২০১৭ সালে উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনের সময়েই আরএসএস-এর পক্ষ থেকে প্রাক্তন সঙ্ঘ প্রচারক সুনীলকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে ওই রাজ্যে পাঠানো হয়েছিল। এর আগে ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও উত্তরপ্রদেশে কো-ইনচার্জ হিসাবে কাজ করেন। সেই সময় থেকেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। ২০১৯ সালের লোকসভা এবং ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে বিজেপির সাফল্যে সুনীলের বড় ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করা হয়।

কৈলাসকে নিয়ে এই রাজ্যে বিজেপি নেতাদের মধ্যে কোন্দল চরমে ওঠে। বিধানসভা নির্বাচনের পরে প্রকাশ্যে নিন্দায় সরব হয়েছিলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথাগত রায়। অন্য দল থেকে নেতাদের বিজেপিতে নিয়ে আসা এবং প্রার্থী করার কৈলাস-নীতির জন্যই বিজেপির ভরাডুবি হয় বলে সমালোচনার ঝড় ওঠে । কৈলাসও সেই থেকে বাংলায় আসেননি।

 

Related articles

ISL:  থেকেও দুরন্ত জয়, লিগের লড়াইয়ে ফিরল বাগান

তিন ম্যাচ পর জয়ের সরণিতে মোহনবাগান(Mohun bagan)। রবিবার যুবভারতীতে জয়ে ফিরল মোহনবাগান(Mohun bagan)। পাঞ্জাব এফসির বিরুদ্ধে ৩-২ গোলে...

কেশপুরই হবে বিজেপির শেষপুর! ভোটে জয়ের লক্ষ্য বেঁধে কেশপুরে হুঙ্কার অভিষেকের 

রবিবাসরীয় প্রচারে হুগলি ও পূর্ব মেদিনীপুরে সভা ও রোড-শোয়ের পর পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমজমাট জনসভা। কেশপুরের...

SIR শুনানির আগের ভোটদানের অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রায় সুপ্রিম কোর্টের

বাংলায় এসআইআর করে যেভাবে ন্যায্য ভোটারদের ভোটদানের অধিকার হরণ করার খেলা খেলছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI), তার প্রতিবাদ...

গান্ধীজিকে ‘দেশদ্রোহী’ তকমা! ধূপগুড়িতে নির্বাচনী সভায় দাঁড়িয়ে চরম ঔদ্ধত্য বিজেপি প্রার্থীর

ভোটের ময়দানে হার-জিতের লড়াই থাকেই, কিন্তু  জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীকে স্রেফ রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে প্রকাশ্যে ‘দেশদ্রোহী’ বলে দাগিয়ে...