Saturday, June 27, 2026

একইসঙ্গে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় পাশ মা ও ছেলের, নজির গড়লেন কেরলের বিন্দু

Date:

Share post:

শিক্ষার যে কোনও বয়স হয় না তা আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখালেন কেরলের মল্লপুরমের (Malappuram) ৪২ বছর বয়সী বিন্দু। অনেক সময় দেখা যায় মা-বাবা নিজের স্বপ্নপূরণ করতে চান নিজেদের সন্তানের মাধ্যমে। কিন্তু এ যেন এক বিরল ঘটনা। ছেলের হাতে হাত রেখে একসঙ্গে স্বপ্নপূরণ করলেন মা সন্তানের হাতে হাত রেখে।

সম্প্রতি কেরল পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (Public Service Commission) পরীক্ষার নোটিস বের হলে কেরলের মল্লপুরমের বাসিন্দা ৪২ বছর বয়সী বিন্দু ও তাঁর ২৪ বছরের ছেলে বিবেক সিদ্ধান্ত নেন যে তিনিও পরীক্ষায় বসবেন। পরীক্ষায় বসার সমস্ত রকম যোগ্যতাও ছিল তাঁর। ফলে যেমন ভাবা তেমন কাজ। মা ও ছেলে একসঙ্গেই দেন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা। কিছুদিন আগেই প্রকাশিত হয়েছে ফলাফল। আর তাতেই কেল্লাফতে। দেখা গিয়েছে ছেলে তো বটেই পরীক্ষাতে পাস করেছেন তাঁর মাও। র্যা ঙ্কিংয়ের নিরিখে ছেলে যেখানে ৩৮, আর মা ৯২। খুব শীঘ্রই সরকারি চাকরিতে যোগ দিতে চলেছেন মা-ছেলে জুটি।

অন্যান্য আর পাঁচটা শিশুর মতো ছোটবেলা (Childhood) থেকেই লেখাপড়ায় মন ছিল না ছেলের। তবে, কীভাবে লেখাপড়া ছেলের মন বসানো যায় সেই নিয়ে সবসময় চিন্তা করতেন মা। আর চিন্তা করতে করতেই একদিন মুশকিল আসান। লেখাপড়ায় আগ্রহ বাড়ানোর জন্য এবার ছেলের সঙ্গে নিয়ম করে পড়তে বসতে শুরু করলেন মা। আর সেখান থেকেই শুরু পথ চলা। তারপর কেটে গিয়েছে বহু বছর। লেখাপড়া চালিয়ে এসেছেন মা ও ছেলে।

বিন্দুর কথায়, বিগত ১০ বছর ধরে একজন অঙ্গনওয়াড়ি শিক্ষিকা (Anganwadi Teacher) হিসাবে কাজ করছেন তিনি। সেই সঙ্গেই ছেলে যখন দশম শ্রেণীর ছাত্র তখন থেকেই নতুন করে পড়াশোনা শুরু করেন তিনি। একসঙ্গে নিতে শুরু করেন সরকারি চাকরির প্রস্তুতি এবং একসঙ্গেই একটি কোচিং সেন্টারেও ভর্তি হন। তবে প্রথম চেষ্টাতেই যে তারা সরকারি চাকরি পেয়েছেন তা একেবারেই নয়। বেশ কয়েকবার ব্যর্থ হওয়ার পরে এসেছে এই সাফল্য। তিনি মনে করেন, কীভাবে কঠোর পরিশ্রম হাতেনাতে ফল দেয়, তিনিই তাঁর উদাহরণ।

বিন্দুর ছেলে বিবেক জানান, আমি ও মা কোচিংয়ের প্রস্তুতি একসঙ্গে নিতে গিয়েছিলাম। আমার মা আমাকে এখানে নিয়ে এসেছিলেন। আমরা শিক্ষকদের থেকে অনেক অনুপ্রেরণা পেয়েছি। আমরা দুজনে একসঙ্গেই লেখাপড়া করেছি, কিন্তু কখনও ভাবিনি যে আমরা একসঙ্গেই পিএসসি পরীক্ষার যোগ্যতা অর্জন করব। আমরা দু’জনেই খুব খুশি।

Related articles

এলন মাস্কের পরই শঙ্খ মিত্র, সিইও-দের আয়ের নিরিখে বিশ্বে ২ নম্বরে যাদবপুরের প্রাক্তনী

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রাক্তনীর প্রতিদিনের বেতন ২৮ কোটি টাকা! নিশ্চই অবাক হচ্ছেন। কিন্তু এটাই বাস্তব এলেন মাস্ক হলেন বিশ্বের...

ইন্দিরা-সিদ্ধার্থের জমানা ফিরিয়ে আনতে চাইছে!পুলিশ বিল নিয়ে সরব কল্যাণ

সোমবার বিধানসভার একটি বিশেষ জরুরি অধিবেশনে পেশ হতে চলেছে The West Bengal Public Safety and Control of Anti-social...

৩ মাস ধরে মেয়ে নিখোঁজ, কষ্টের মধ্যেও ভবঘুরে তরুণীর জন্য মানবিক উদ্যোগ অসহায় বাবার

১৩ মার্চ থেকে নিখোঁজ মেয়ে(Missing Daughter), মাঝে আশার আলো দেখেছিলেন বাবা। কিন্তু সেই আশা বিলীন হয়ে গেল। দুর্গাপুরে...

শহিদ দিবসের কর্মসূচি ঘোষণা, কংগ্রেসের নিশানায় মনীশ গুপ্ত

বিগত কয়েক দশকে ২১ জুলাই ধর্মতলায় শহিদ তপর্ণ ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের শক্তি প্রর্দশনের মঞ্চ। কংগ্রেস পৃথকভাবে মহাজাতি সদনে...