EZCC-তে বিজেপির দুর্গাপুজোয় চমক, এবার মহিলা পুরোহিত সুকান্ত মজুমদারের ছাত্রী সুলতা মণ্ডল

এক ''অব্রাহ্মণ" পরিবারের মহিলাকে দিয়ে এবার দলীয় পুজোয় উমার আরাধনা করতে চলেছে বঙ্গ বিজেপি। সুকান্ত মজুমদারের জেলা দক্ষিণ দিনাজপুরেরই মেয়ে সুলতা মন্ডল

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে দারুণ ফলাফলের পর ২০২০ সালে সল্টলেকের EZCC-তে দুর্গাপুজো শুরু করে বঙ্গ বিজেপি। প্রবল উৎসাহে পালিত হয় সেই পুজো। ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যদিও একুশের ভোটে মুখ থুবড়ে পড়ে গতবছর পুজোর জৌলুস কমে যায় অনেকটাই। অনিশ্চয়তার মধ্যে সংকল্প রক্ষা করতে এবছরও সেই পুজো হচ্ছে। তবে প্রথম দু’বছরের পুজো উদ্যোগতাদের অনেকেই এখন নেই। কেউ কেউ দল ছেড়েছেন। তাই পুজো করাটাই চ্যালেঞ্জের হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তারই মধ্যে কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে এবার বিজেপি তাদের পুজোয় একটি বিষয়ে চমক দিতে চলেছে। এবার EZCC-তে দলের পুজো করবেন এক মহিলা। পুরোহিতের পরিচয়ও চমক দেওয়ার মতো। তিনি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের একসময়কার ছাত্রী। নাম সুলতা, পদবি মণ্ডল। অর্থাৎ, এক ”অব্রাহ্মণ” পরিবারের মহিলাকে দিয়ে এবার দলীয় পুজোয় উমার আরাধনা করতে চলেছে বঙ্গ বিজেপি।
সুকান্তর জেলা দক্ষিণ দিনাজপুরেরই মেয়ে সুলতা। গঙ্গারামপুর থানার বাতাসকুড়ি গ্রাম। বয়স আঠাশ।
বাংলার পাশাপাশি শিক্ষাবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর পড়াশোনা শেষ করে বিএড এবং এমএড সম্পূর্ণ করেন। পেশা হিসাবে শিক্ষকতাই ছিল লক্ষ্য। বর্তমানে কুশমুণ্ডি হাইস্কুলে অতিথি শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন সুলতা। বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন। সুকান্ত বটানির শিক্ষক হলেও বাংলার বিভাগের ছাত্রী সুলতা তাঁকে “সুকান্তস্যার” হিসাবেই চেনেন।

এমন গুরু দায়িত্ব পেয়ে খুশি সুলতাও। ধন্যবাদ জানিয়েছেন “স্যার” সুকান্ত মজুমদারকেও। উচ্ছ্বসিত সুলতার কথায়, “আমি স্যারকে আগেই জানিয়েছি, সবরকম শাস্ত্রীয় রীতিনীতি মেনে পুজো করতে চাই। সে কারণেই যাঁরা আয়োজনের খুঁটিনাটি দেখবেন তাঁদের সঙ্গে আগেই একবার কথা বলতে কলকাতায় যাচ্ছি।”

কীভাবে পুজো করা শিখলেন? সুলতা বলেন, “আমি ছোট থেকেই দেখে এসেছি বাড়িতে ঠাকুরমা, মা পুজো করেন। বাড়ির রোজকার পুজো মায়েরাই করতেন। তার পরে আমি। বাবা, দাদারা নয়। সেটা থেকেই আমার মনে হয় বাড়ির পুজোর দায়িত্ব মেয়েদের হাতে থাকলে বারোয়ারি পুজোয় শুধু পুরুষের অধিকার থাকবে কেন? নিজেকে ধীরে ধীরে তৈরি করতে থাকি। শাস্ত্র পড়ে পুজোর নিয়মকানুন শিখি। অন্য পুরোহিতদের থেকেও রীতি শিখি। সংস্কৃত মন্ত্র অধ্যয়নের সঙ্গে সঙ্গে চণ্ডীপাঠের অভ্যাসও শুরু করি। তার পরে এক দিন সাহস করে বারোয়ারি পুজো করা শুরু করে দিই।”

শুধু দেবদেবীর পুজো নয়, বিয়েতেও পুরোহিত্য করেছেন সুলতা। মালদহ কলেজের সরস্বতী পুজো দিয়ে বাইরের পুজোয় হাতেখড়ি। দুর্গাপুজো, কালীপুজো আগেও করেছেন। ‘অব্রাহ্মণ” পরিবারের কন্যা সুলতার দাবি, “নারী, পুরুষ বা জাতপাত দিয়ে পূজারিকে ভাগ করা উচিত নয়। পুজোর অধিকারী তিনিই, যাঁর ব্রহ্মজ্ঞান রয়েছে। যিনি ব্রাহ্মমুহূর্তে ঘুম থেকে ওঠেন এবং নিত্য গীতাপাঠ করেন, তিনিই পূজার অধিকারী।”

 

Previous articleরাস্তা বন্ধ না হয়: শ্রীভূমি স্পোটিং-এ পুজো উদ্বোধনে গিয়ে সুজিতকে ‘সতর্ক’ করলেন মুখ্যমন্ত্রী