Tuesday, February 3, 2026

দিল্লি হিংসা: পরিকল্পিতভাবে ছড়ানো হয়েছিল মুসলিম বিরোধীতা, মত ৪ প্রাক্তন বিচারপতির

Date:

Share post:

২০২০ সালে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে(Delhi) সংঘটিত সাম্প্রদায়িক হিংসা নিয়ে একটি প্রতিবেদনে চার অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি(Ex Justice) এবং ভারতের একজন প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র সচিব দাবি, একটি সুচিন্তিত কৌশলের অংশ হিসেবে মুসলিম বিরোধী(Anti Muslim) আখ্যান ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, যা পরিস্থিতিকে সহিংসতার দিকে নিয়ে যায়। এতে বলা হয়, ঘৃণাপূর্ণ আখ্যান ও বার্তা প্রচারে মিডিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

১৭১ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকাশ্য বক্তৃতায় ঘৃণা বার্তা সরাসরি সহিংসতার সাথে সম্পর্কিত। ঘৃণাত্মক উপাদানের বিস্তার বন্ধ করতে বা যারা এটি ছড়ায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সদিচ্ছার তীব্র অভাব রয়েছে বলে মনে হয়। সোশ্যাল মিডিয়াতে বিপজ্জনক বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ বা নিয়ন্ত্রিত করার পাশাপাশি স্বাধীন ধারণাকে স্থান দেওয়া একটি চ্যালেঞ্জ। রিপোর্টে দিল্লি পুলিশের তদন্ত নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়। এই রিপোর্টে দিল্লি পুলিশ ছাড়াও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, দিল্লি সরকার এবং মিডিয়ার ভূমিকা নিয়েও কড়া মন্তব্য করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে সিএএ বিরোধী বিক্ষোভের সময় সহিংসতা উস্কে দেওয়া এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণা তৈরি করা বেশ কয়েকটি মূলধারার ইংরেজি এবং হিন্দি নিউজ চ্যানেলের প্রতিবেদনের ফলাফল বলে মনে হচ্ছে।

যে কমিটি রিপোর্ট লিখেছে তাতে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি মদন বি লোকুর, দিল্লি হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এবং ল’কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান এপি শাহ, মাদ্রাজের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এবং আইন কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান বিচারপতি আরএস সোধি, দিল্লি হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অঞ্জনা প্রকাশ, পাটনা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি এবং ভারত সরকারের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র সচিব, জি কে পিল্লাই। কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন বিচারপতি লোকুর। প্রাক্তন বিচারকদের এই কমিটি তাদের রিপোর্টের নাম দিয়েছেন ‘অনিশ্চিত বিচার: উত্তর পূর্ব দিল্লির সহিংসতা ২০২০ সংক্রান্ত একটি নাগরিক কমিটি রিপোর্ট’।

১৭১ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনটি তিনটি ভাগে বিভক্ত। প্রথম অংশে হিংসার আগে কীভাবে সাম্প্রদায়িক পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, হিংসার সময় কী হয়েছিল, পুলিশ ও সরকারের ভূমিকা কেমন ছিল তা খতিয়ে দেখা হয়েছে। দ্বিতীয় অংশটি মূলধারার মিডিয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকা পরীক্ষা করে, কীভাবে তারা হিংসার ঠিক আগে এবং পরে সমগ্র পরিবেশকে বিপর্যস্ত করেছিল। একই সময়ে, তৃতীয় অংশে, দিল্লি পুলিশের তদন্তকে আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং বিশেষত ইউএপিএ আইন আরোপের বিষয়ে সমীক্ষা করা হয়েছে।

spot_img

Related articles

রাজ্যে ফের কেন্দ্রীয় এজেন্সি হানা, মঙ্গলের সকালে দুর্গাপুর-আসানসোলে ইডি অভিযান

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে ততই এজেন্সি দিয়ে বাংলার মানুষকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে বিজেপি (BJP)। গত...

৫০ বছর পর চাঁদের কক্ষপথে মানব অভিযানে NASA! ঘোষিত দিনক্ষণ 

‘অ্যাপোলো-১১’ অভিযানের ( Apollo 11 mission) প্রায় পাঁচ দশক পর ফের চাঁদের কক্ষপথে (lunar orbit) মার্কিন গবেষণা সংস্থার...

হলফনামা দিতে পারল না ED, সুপ্রিম কোর্টে পিছিয়ে গেল আইপ্যাক মামলার শুনানি 

দেশের শীর্ষ আদালতে পিছিয়ে গেল ইডি - আইপ্যাক মামলার শুনানি। নতুন দিন ঘোষণা আদালতের। আইপ্যাকের (IPAC) কলকাতা অফিসে...

মোদির মুখে ট্রাম্প-স্তুতি, ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক কমালো আমেরিকা 

ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) প্রশংসায় পঞ্চমুখ ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। মার্কিন প্রেসিডেন্টের আগ্রাসী নীতি, একের পর...