Tuesday, February 10, 2026

নৃশংস! প্রেমিকাকে কুপিয়ে খু*ন করে ৩৫ টুকরো করে জঙ্গলে ছড়িয়ে দিলেন ঘাতক

Date:

Share post:

প্রেমের টানে বাড়ি, পরিবার, চাকরি সব ছেড়েছিলেন। স্বপ্ন ছিল দু’জনে একসঙ্গে ঘর বাঁধবেন। তাই পরিবারের বারণ সত্ত্বেও প্রেমিকের কাছে দিল্লিতে এসেছিলেন। প্রেমিকের ফ্ল্যাটেই থাকতে শুরু করেছিলেন দু;জনে। কিন্তু প্রেমিককে বিয়ের প্রস্তাব দিতেই সম্পর্কের অবনতি ঘটে। তা চরমে উঠতেই প্রেমিকাকে নৃশংসভাবে খুন করেন প্রেমিকা।

আরও পড়ুন:সল্টলেকে যুবকের মৃ*ত্যু, আত্মহ*ত্যা প্ররোচনার অভিযোগে গ্রেফতার প্রেমিকা ও তার বন্ধু

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে,  এক তরুণীকে খুন করে তার দেহ কুপিয়ে ৩৫ টুকরো করা হয়েছে। সেই টুকরোগুলো ফেলা হয়েছে দিল্লির নানা জায়গায়। ঘটনা ঘটেছিল ১৮ মে। তরুণীর নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার সূত্র ধরে ঘটনাক্রম সাজায় পুলিশ। এরপর পরিবারের লোকজনের বয়ান শোনা হয়। পরে পুলিশ জানতে পারে এর পেছনে এক অন্য ঘটনা লুকিয়ে আছে। ধীরে ধীরে রহস্যের সমাধান হয়। ধরা পড়ে অপরাধী। ধৃতের নাম অফতাব আমিন পুনাওয়ালা। ওই তরুণীরই প্রেমিক।

পুলিশ আরও জানায়, মৃত তরুণীর নাম শ্রদ্ধা। মুম্বইয়ের একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির কল সেন্টারে কাজ করতেন ২৬ বছরের শ্রদ্ধা। দিল্লির বাসিন্দা আফতাবের সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁর। মুম্বই থেকে দিল্লিতে এসে আফতাবের সঙ্গে থাকতে শুরু করে তিনি। তাঁরা লিভ-ইন করতেন বলে জানা গেছে।

মেহরুলিতে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে আফতাব আর শ্রদ্ধা থাকতেন। তদন্তকারীরা বলছেন, ধৃতকে জেরা করে জানা গেছে, প্রায়ই তাঁদের মধ্যে নানা টুকিটাকি বিষয় নিয়ে ঝামেলা লেগে লাগত। একদিন অশান্তি চরমে ওঠে। রাগের মাথায় শ্রদ্ধাকে গলা টিপে খুন করে আফতাব। শ্রদ্ধার শরীর নিথর হয়ে গেল আফতাব ভয় পেয়ে যায়। অপরাধ ঢাকতে মেয়েটির দেহ ৩৫ টুকরো করে কেটে ফেলে । এরপর বড় একটি ফ্রিজার কিনে এনে তার মধ্যে টুকরোগুলো রেখে দেয়। এরপর সময় বুঝে দিল্লির নানা জায়গায় সেই টুকরোগুলো ফেলে দিয়ে আসে।

তবে অপরাধ ধামাচাপা দিতে কম চেষ্টা করেনি আফতাব। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। শ্রদ্ধার বাবা মেয়েকে না পেয়ে মুম্বইয়ে মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্যতু কোনওভাবেই যোগাযোগ করতে না পেরে শেষমেশ দিল্লিতে এসে শ্রদ্ধা যে ফ্ল্যাটে থাকতেন সেখানে গিয়ে দেখেন দরজায় তালা বন্ধ। কোনও বিপদ হয়েছে বুঝে পুলিশকে সব জানান। শ্রদ্ধাকে খুঁজতে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। আফতাবের খোঁজও শুরু হয়। এরপরেই রহস্যের উন্মোচন হয়। নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সামনে আসে।

পুলিশের কাছে ঘাতক আফতাব স্বীকার করেছে, শ্রদ্ধাকে খুন সেইই করছে। শ্রদ্ধা তাঁকে বিয়ে করতে নাছোড়বান্দা ছিলেন। তাই রাগের মাথায় এই খুন করে বসে আফতাব।

spot_img

Related articles

কেন্দ্রীয় শ্রমকোডের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী ধর্মঘটের সমর্থনে মিছিল

কেন্দ্রীয় শ্রমকোডের বিরুদ্ধে ১২ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটের ঢাক। সেই কর্মসূচির সমর্থনে কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নের ডাকে ধর্মতলা লেলিন...

হাসপাতালে কড়া নজরদারি! স্বাস্থ্য ভবনে খুলল ইন্টিগ্রেটেড কন্ট্রোল রুম 

রাজ্যের সরকারি চিকিৎসা পরিষেবার মানোন্নয়ন এবং পরিকাঠামোর ওপর নজরদারি আরও কড়া করতে বড় পদক্ষেপ নিল স্বাস্থ্য দফতর। এবার...

সংস্কৃতি ও ভাষা সংরক্ষণে AI ব্যবহারে জোর ভারতের

সংস্কৃতি ও ভাষা সংরক্ষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (Artificial Intelligence in India) প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবহার জোরদার করছে ভারত সরকার। এই উদ্যোগের...

উচ্চ মাধ্যমিকে আর নেওয়া যাবে না অতিরিক্ত পাতা! নিয়ম বদল শিক্ষা সংসদের

বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা (Higher Secondary Exam)। এই বছর প্রথম সেমিস্টারে পরীক্ষা দেবে...