Sunday, April 12, 2026

ভারত-৭৫এ আমরা রাজনৈতিক স্বাধীনতাও সেভাবে পেয়েছি কি না, সন্দীহান গোপালকৃষ্ণ গান্ধী

Date:

Share post:

চিদানন্দ দাশগুপ্ত মেমোরিয়াল ট্রাস্ট এর অনুষ্ঠানে ‘ভারত-৭৫’ শীর্ষক বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যের প্রাক্তন রাজ্যপাল গোপালকৃষ্ণ গান্ধী বলেন, দেশপ্রেম ও স্বাধীনতা দিবস নিয়ে বাড়তি আবেগ তো থাকবেই। এটা তো গর্বের বিষয় যে, আজ ৭৫ বছর কোনও বিদেশি শক্তি আমাদের শাসন করতে পারেনি। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হল, দেশের মধ্যেই কিছু শক্তি রয়েছে যারা জনসাধারণের মতামতকে তোয়াক্কা করে না।

তার মতে, মুলত স্বাধীন ভারত গঠিত হওয়ার সময় যে বিশ্বাসগুলি ছিল, যে সাধারণ বিষয়সূচি ও বোঝাপড়া নিয়ে গড়ে উঠেছিল দেশ, সেগুলিতে এখন বিশ্বাস রাখা হয় না। এমনকী, তারা বেশ গর্ব করেই এই সব অবিশ্বাসের কথাগুলি জাহির করে এবং বাস্তবে অনুশীলনও করে। এরকম কেউ কেউ কিন্তু জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে দেশ শাসনও করছেন। সেই দৃষ্টিভঙ্গিতে, আমরা রাজনৈতিক স্বাধীনতাও সেভাবে পেয়েছি কি না, সে প্রশ্ন উঠে যায়। তবু বলব,কিছুটা হলেও যা পেয়েছি তা কম নয়। আমাদের প্রতিবেশী অনেক দেশে সেটুকুও নেই। আমাদের অন্তত নিজেদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করার স্বাধীনতা রয়েছে।

কিন্তু সামাজিক এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে আমরা অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছি। আসলে দেশ স্বাধীন হওয়ার প্রথম ২০ বছর আমাদের একদিকে নজর ছিল, কিন্তু তারপর থেকে ওটা অন্য বিষয়ের দিকে সরে যায়। ধর্ম-বর্ণ-জাতির মতো বিষয়গুলি তখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এরই ভিত্তিতে আমরা শ্রেণি বিন্যাসে নেমে পড়েছি। বলা যায়, এরপর থেকেই সামাজিক আর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিয়ে আমরা আর মাথা ঘামাই না। নয়া উদারনীতির চলনে আমরা অভ্যস্ত হয়ে উঠেছি। তারপর থেকে এই বিষয়গুলি নিয়েই রাজনীতি হয়ে চলেছে।

আমাদের প্রাথমিক যে চাহিদাগুলি খাদ্য-বস্ত্র-বাসস্থানের সঙ্গে শিক্ষা-স্বাস্থ্য, একটু সামাজিক নিরাপত্তা, এগুলির দিক থেকে আমাদের নজরটা পুরোপুরি সরে গিয়েছে। পাশাপাশি, বিদেশি কোম্পানির ওপর দিনদিন নির্ভরতা বাড়ছে, যার ফলে আমাদেরই পুঁজি খাটিয়ে তারা লভ্যাংশ নিজের দেশে নিয়ে যাচ্ছে।

স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরেও কত শিশু পেটের জ্বালা বুকে চেপে ফুটপাথে ঘুমোতে রায়। বেকারত্বের জ্বালা বুকে নিয়ে কত যুবকের স্বপ্ন ফানুসের মতো শূন্যে বিলীন হয়ে যায়। এরপরও ইসরো মহাকাশে রকেট পাঠায়।

চড়া মূল্যবৃদ্ধির আবহে কাজের বাজার নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। দলিতদের পরিস্থিতি আজও বদলায়নি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আজও দলিতরা অবহেলিত।

চিদানন্দ দাশগুপ্ত মেমোরিয়াল ট্রাস্টের তরফে রবিবার অভিনন্দন ব্যানার্জির হাতে সেরা ডেবিউ ছবির পুরস্কার তুলে দেন হর্ষ নেওটিয়া।শ্রীকান্ত শ্রীনিবাসন সেরা স্ক্রিপ্ট রাইটারের পুরস্কার পান। সুপ্রিয়া দাশগুপ্ত সেরা কস্টিউম ডিজাইনারের পুরস্কার পান রাখি সরকার। প্রাক্তন রাজ্যপাল গোপালকৃষ্ণ গান্ধীকে সম্বর্ধনা দেন অপর্না সেন। সবমিলিয়ে এদিনের অনুষ্ঠান ছিল জমজমাট।

আরও পড়ুন- নন্দীগ্রামে তৃণমূলের ‘চাটাই বৈঠকে’ ব্যাপক সাড়া, চোখে পড়ার মতো উপস্থিতি মহিলাদের

Related articles

‘মহাকাব্যিক স্ট্রিট ফুড’, উৎপল সিনহার কলম

" নিন, টপ করে খেয়ে নিন..." টপ করে মুখের মধ্যে চলে তো গেল ছোট্ট গোলাকার বলটি। কিন্তু তারপর...

বাংলার জন্য ফের মমতাই প্রয়োজন! তৃণমূল নেত্রীর হয়ে সওয়াল কংগ্রেস নেত্রী রেণুকার

রাজ্যে ভোটের আবহ যত বাড়ছে, ততই বিরোধী শিবিরের সমীকরণ ঘিরে তৈরি হচ্ছে নতুন জল্পনা। এবার খোদ কংগ্রেসের শীর্ষ...

‘গণতন্ত্রের শত্রু’ বিজেপি! গেরুয়া শিবিরের সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরুদ্ধে গর্জে উঠল গণমঞ্চ

বিজেপির সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ এবং বাংলা ভাগের চক্রান্তের বিরুদ্ধে সরব হলো ‘দেশবাঁচাও গণমঞ্চ’। শনিবার সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার বাগবাজারে আয়োজিত...

বকেয়া ডিএ মেটাতে তৎপর নবান্ন, ১৩ এপ্রিলের মধ্যে এসওপি জমার নির্দেশ অর্থ দফতরের

শিক্ষক ও সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ মেটানোর প্রক্রিয়া আরও গতিশীল করতে কড়া পদক্ষেপ করল...