একদিকে বিশ্বকাপ, অন্যদিকে কলঙ্কিত ভারতীয় ফুটবল! ম্যাচ ফিক্সিং কাণ্ডের তদন্তে CBI

তদন্তে প্রাথমিক ভাবে CBI জানতে পেরেছে, ম্যাচ গড়াপেটা কাণ্ডে জড়িত কুখ্যাত বুকি উইলসন রাজ পেরুমল। সে এখন সিঙ্গাপুরের জেলে বন্দি। একাধিক ভুয়ো কোম্পানি খুলে পেরুমল ভারতের অন্তত ৫টি ফুটবল ক্লাবে বিপুল বেআইনি টাকা বিনিয়োগ করেছে

কাতারে যখন বিশ্বফুটবলের মহারণের আসর চলছে, ঠিক তখনই কলঙ্কের দাগ সামনে এলো ভারতীয় ফুটবলে। ম্যাচ ফিক্সিংয়ে অভিযুক্ত এদেশের একাধিক ক্লাব। ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনে বা AIFF-এ তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের কারণ দেখিয়ে গত আগস্টে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারতীয় ফুটবলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা FIFA. অনেক আলোচনার মাধ্যমে শর্তসাপেক্ষে সেই নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলেও চলতি নভেম্বরে
ভারতীয় ফুটবলের মাথায় কালো ছায়া। ম্যাচ ফিক্সিংয়ে অভিযুক্ত অন্তত দেশের পাঁচটি ফুটবল ক্লাব। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা CBI!
AIFF-এর তরফে বিষয়টি স্বীকার করে জানানো হয়েছে, তদন্তে তারা সমস্ত রকমের সহযোগিতা করবে।

এদিকে তদন্তে প্রাথমিক ভাবে CBI জানতে পেরেছে, ম্যাচ গড়াপেটা কাণ্ডে জড়িত কুখ্যাত বুকি উইলসন রাজ পেরুমল। সে এখন সিঙ্গাপুরের জেলে বন্দি। একাধিক ভুয়ো কোম্পানি খুলে পেরুমল ভারতের অন্তত ৫টি ফুটবল ক্লাবে বিপুল বেআইনি টাকা বিনিয়োগ করেছে। অভিযুক্ত ক্লাবগুলির স্পনশরশিপ ও খেলোয়াড়দের যাবতীয় চুক্তিপত্র, টাকা লেনদেনের তথ্য সহ প্রাসঙ্গিক নথি চেয়ে পাঠান তদন্তকারীরা। তবে কোন পাঁচ ক্লাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তা এখনও প্রকাশ্যে আনেনি CBI এবং আইফ. সূত্রের খবর, ফেডারেশনের নিজস্ব ক্লাব ইন্ডিয়ান অ্যারোজের নামও নাকি রয়েছে সেই তালিকায়। এছাড়া পাঞ্জাব এবং গোয়ার কয়েকটি ক্লাবের নাম শোনা যাচ্ছে। অভিযুক্ত ক্লাবগুলি আই লিগেও খেলে।

বুকি উইলসনের বিষয়ে খোঁজ করতে গিয়ে CBI তদন্তকারীরা জানতে পারেন, আন্তর্জাতিক ম্যাচ ফিক্সার হিসেবেই তার পরিচিতি। এনিয়ে ইন্টারপোলের কাছেও খবর রয়েছে। উইলসন সেই ১৯৯৫ সাল থেকে জেলবন্দি। গারদে বসেই সে তার কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। জানা যায়, একাধিক ক্লাবে বেনামে টাকা ঢেলেছে উইলসন। সংশ্লিষ্ট ক্লাবকে দিয়ে ম্যাচ গড়াপেটা, এমনকী খেলোয়াড়দের ‘ম্যানেজ’ করার ব্যবস্থা পাকা করেছে সে। বিনিময়ে বিপুল অর্থপ্রাপ্তি হয়েছে তার। CBI সূত্রে খবর, তারা এখনও পর্যন্ত প্রায় ১০টি কোম্পানিকে নজরদারির আওতায় এনেছে। এই সংস্থাগুলির বার্ষিক ‘টার্নওভার’ রীতিমতো সন্দেহজনক।

 

Previous articleপ্রতিদ্বন্দ্বিতা করল না তৃণমূল! নির্দল কাউন্সিলরদের সমর্থনে ঝালদা পুরসভা দখল কংগ্রেসের