মেসির পেনাল্টি ঠেকিয়ে প্রথমার্ধের নায়ক সেজনি, পোল্যান্ডকে ২-০ হারিয়ে শেষ হাসি হাসল আর্জেন্টিনা

ম্যাচের বাকি সময়টাও আর্জেন্টাইন ঝড়ের কবলে পড়ে পোলিশ রক্ষণের কোণঠাসা হয়ে থাকার গল্প।

ম্যাচের আগে লিওনেল মেসির পেনাল্টি ঠেকানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন পোলিশ গোলরক্ষক ভয়চেক সেজনি। সেই কথা রেখেছেন এই গোলরক্ষক। ৪০ মিনিটে ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠিকই মেসির শট ঠেকালেন এই গোলরক্ষক। শুধু মেসির পেনাল্টিই নয়, প্রথমার্ধে একের পর আর্জেন্টাইন প্রচেষ্টা একাই ঠেকিয়েছেন পোলিশ গোলরক্ষক।

ম্যাচের শুরুতেই সুযোগ আসে আর্জেন্টিনার সামনে। যদিও কাছাকাছি গিয়ে অল্পের জন্য গোলের দেখা পায়নি তারা। তবে পরের মুহূর্তে আক্রমণ গিয়ে আর্জেন্টিনার ডিফেন্স কাঁপায় পোল্যান্ড। ক্রিস্তিয়ান বিয়েলিকের শট বাধাগ্রস্ত হয় আর্জেন্টাইন ডিফেন্সে।
২১ মিনিটে ফ্রি কিক পেয়েছিল পোল্যান্ড। তবে তা আর্জেন্টিনাকে বিপদে ফেলার মতো ছিল না। তবে এমন দুই একটা আচমকা সুযোগ তৈরি ছাড়া ম্যাচে প্রথমার্ধের বেশিরভাগ সময়েই বল ছিল আর্জেন্টিনার দখলে। আর্জেন্টিনার আক্রমণাত্মক ফুটবলের সামনে পোল্যান্ডকে বেশ নিচে নেমে এসেই রক্ষণ সামলাতে হচ্ছিল।

নিজেদের দুর্গ সামলানোর কাজটা বেশ ভালোভাবেই করছিল তারা। ম্যাচের ২৮ মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজকে ঠেকিয়ে দেন সেজনি। একই আক্রমণে পরের মুহূর্তে আকুনিয়ার জোরাল শট যায় পোস্টের বাইরে দিয়ে। ৩৩ মিনিটে আনহেল দি মারিয়ার কর্নার থেকে নেওয়া শট সেজনি দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে না দিলে সেটি প্রায় পোস্টের ভেতর ঢুকেই গিয়েছিল।

একটু পর দারুণ এক থ্রু বল নিয়ে পোলিশ রক্ষণে ঢুকে পড়েছিলেন আলভারেজ। তবে এবারও পোল্যান্ডের ত্রাতা হয়ে গোল ঠেকিয়ে দেন সেজনি। সেই আক্রমণে সেজনির ফাউলের শিকার হন মেসি। ভিএআর দেখে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। তবে পেনাল্টিতে গোল করতে ব্যর্থ হন মেসি নিজেই। এরপর আরও একাধিক সুযোগ পেয়েছিলেন মেসিরা। তবে সেসব সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি তারা।

মেসির দায় শোধের প্রথম ভারটা নিলেন ম্যাক অ্যালিস্টার। গোলটা আসতেই যেন প্রাণ ফিরে পেল আর্জেন্টাইন গ্যালারি, প্রাণ ফিরে পেলেন দর্শকদের হাতে থাকা ডিয়েগো ম্যারাডোনার পোস্টারও। আর এগিয়ে আর্জেন্টিনা যেন আরও ধারালো।

এরপর আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেওয়ার ভারটা নিলেন আলভারেস। সেই আলভারেস যিনি শৈশব থেকে মেসির সঙ্গে বিশ্বকাপ খেলবেন বলে স্বপ্ন দেখেছিলেন। তিলে তিলে বোনা সেই স্বপ্নকে রাঙানোর সুযোগটা হারাবেন কেন! ৬৮ মিনিটেই তাঁর এক চোখ ধাঁধানো গোলে ব্যবধান ২-০ করে আর্জেন্টিনা।

ম্যাচের আগে লিওনেল মেসির পেনাল্টি ঠেকানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন পোলিশ গোলরক্ষক ভয়চেক সেজনি। সেই কথা রেখেছেন এই গোলরক্ষক। ৩৯ মিনিটে ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠিকই মেসির শট ঠেকালেন এই গোলরক্ষক। শুধু মেসির পেনাল্টিই নয়, প্রথমার্ধে একের পর আর্জেন্টাইন প্রচেষ্টা একাই ঠেকিয়েছেন পোলিশ গোলরক্ষক। তবে আর কতক্ষণ! দ্বিতীয়ার্ধে পেরে ওঠেননি।

ম্যাচের বাকি সময়টাও আর্জেন্টাইন ঝড়ের কবলে পড়ে পোলিশ রক্ষণের কোণঠাসা হয়ে থাকার গল্প। এমনকি পোল্যান্ডকে চেষ্টা করার সুযোগটাও দেয়নি আকাশি–নীলরা।

 

Previous articleরাজ্যের নদীভাঙন নিয়ে কেন্দ্রে সর্বদলীয় প্রতিনিধিদল, উল্টো সুর বিজেপির!