Saturday, June 13, 2026

আবাস যোজনা নিয়ে ফের রাজ্যের ওপর চাপ বাড়ালো কেন্দ্র

Date:

Share post:

আবাস যোজনা নিয়ে ফের রাজ্যের ওপর চাপ বাড়ালো কেন্দ্র সরকার। যে ব্যপারে আগে ভাগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। রাজ্য সরকারকে চাপে ফেলতে এমনিতেই শেষ লগ্নে আবাস যোজনার বরাদ্দ ছেড়েছে কেন্দ্র। এবার নির্ধারিত সময় সীমার মধ্যে উপভোক্তাদের চূড়ান্ত তালিকা তৈরি না হলে বরাদ্দ হাতছাড়া হয়ে যাবে বলে কার্যত হুঁশিয়ারি দেওয়া হল কেন্দ্রের তরফে। কেন্দ্রীয় গ্রামান্নোয়ন মন্ত্রক চিঠি দিয়ে রাজ্যকে পঞ্চায়েত দফতরকে এই কথা জানিয়ে দিয়েছে।বিষয়টি নিয়ে ততক্ষনাত্ জেলাশাসকদের সতর্ক করে দিয়েছেন।

আশা ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের অনীহায় আবাস তথ্য ভান্ডার থেকে উপভোক্তাদের নাম নিয়ে যাচাই সমীক্ষার কাজের গতি কিছুটা হলেও শ্লথ হয়েছে। তার মধ্যেই কেন্দ্রীয় গ্রামান্নোয়ন মন্ত্রকের চিঠি উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে রাজ্য প্রশাসনের। মুখ্যসচিব গোটা বিষয়টি জেলাশাসকদের জানিয়ে বার্তায় বলেছেন, উপভোক্তাদের বাড়ি বাড়ি তথ্য যাচাইয়ের সমীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে। ফলে শীঘ্রই প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতের কোটা নির্দিষ্ট হয়ে যাবে। কেন্দ্রের স্থির করে দেওয়া ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই একশো শতাংশ কাজ শেষ না হওয়াটাই অপ্রত্যাশিত। তাই অপনারা উদ্যোগী হন যাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই একশো শতাংশ কাজ শেষ করে ফেলা যায়। মুখ্যসচিবের পাশাপাশি রাজ্য পঞ্চায়েত দফতরে অতিরিক্ত সচিবও আলাদাভাবে কেন্দ্রীয় গ্রামান্নোয় মন্ত্রকের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল গয়া প্রসাদের চিঠিও জেলাশাসকদের পাঠিয়ে দিয়েছে।

কেন্দ্রীয় গ্রামান্নোয়ন মন্ত্রকের চিঠিতে বলা হয়েছে, গ্রামীণ গরীব মানুষের আবাসন সমস্যার সমাধানে ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ২০২৪ সালে মার্চের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা। সারা দেশে এই প্রকল্পের মাধ্যমে ২ কোটি ৯৫ লক্ষ বাড়ি নির্মাণের কথা। ইতিমধ্যেই ২ কোটি ১০ লক্ষ বাড়ি তৈরি হয়ে গিয়েছে। ৩৮ লক্ষ বাড়ি তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্র চাইছে রাজ্যগুলি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দ্রুত প্রকল্পগুলি রূপায়ণ করুক। সেজন্য উপভোক্তাদের তালিকা তৈরির লক্ষ্যমাত্র ৩১ ডিসেম্বর করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে যে সব রাজ্য তাদের তালিকায় লক্ষ্য মাত্র পূরণ না করতে পারলে যে অংশটা বাকি থাকবে তা অন্য রাজ্যকে বরাদ্দ করা হবে। কেন্দ্রীয় সরকার ২৪ নভেম্বর রাজ্যকে ১১ লক্ষ ৩৬ হাজার ৪৪৮ বাড়ি তৈরির অনুমোদন দিয়েছে। আবাস তথ্য ভান্ডার থেকে ১১ লক্ষ ৩৬ হাজার ৪৪৮ টি বাড়ি অনুমোদন পেয়েছে।রাজ্য সরকার ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে তালিকা তৈরির কাজ শেষ করতে টাইমলাইন তৈরি করে দিয়েছে। কিন্তু তালিকায় নাম থাকার কাজে স্থানীয় প্রভাবশালীদের চোখরাঙানির আশঙ্কায় আশা ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা কাজে যোগ দিতে অনীহা প্রকাশ করেছে। ফলে বহু জায়গায় যাচাই সমীক্ষার গতি শ্লথ হয়েছে। যা লক্ষপূরণে রাজ্যকে ভাবচ্ছে।

আরও পড়ুন- আন্তর্জাতিক সীমান্তের ফাঁকা অংশে কাঁটাতারের বেড়া দিতে চায় কেন্দ্র, জমি খুঁজছে রাজ্য

Related articles

নৈহাটি জুটমিলে তালা: শ্রমিক সমস্য়ায় ময়দানে বিজেপির শ্রমিক সংগঠন!

একদিকে রাজ্যে নতুন শিল্প ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত খুলে দেওয়ার বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Chief Minister Suvendu Adhikari)।...

রুদ্রনীলকে ‘স্নেহের চুমু’ মুনমুনের, অভিনেতা বিধায়কের-প্রশংসায় পঞ্চমুখ সুচিত্রাকন্যা

রাজনীতি রাজনীতির জায়গায় আর সৌজন্য-স্নেহ এই অনুভূতিগুলো একেবারেই আলাদা। 'আবার হাওয়া বদল' ছবির প্রিমিয়ারে এসে ঠিক যেন এই...

বিশ্বকাপে ফাঁকা গ্যালারি ঘিরে সমালোচনা, ব্যাখ্যা দিল ফিফা 

পায়ে পায়ে মাঠের লড়াই ধীরে সোশ্যাল মিডিয়ায় যে উন্মাদনা চোখে পড়েছে তার কতটা বাস্তবে ধরা পড়ছে স্টেডিয়ামে? ফিফা...

সাহায্য চেয়েও পাননি ৩ নাবিক: হরমুজে নাগরিক মৃত্যুতে ভর্ৎসনাই ‘ভরসা’ ভারতের

বাণিজ্যিক সম্পর্ক তো দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে শেষ। ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তাও আমেরিকার মাটিতে অনিশ্চিত। এবার হরমুজ প্রণালী নিয়েও...