Tuesday, March 17, 2026

রামের মিছিলে বামের ঝাণ্ডা, রাখঢাক সরিয়ে হুগলিতে হাতে হাত সিপিএম-বিজেপির!

Date:

Share post:

মুখে আদর্শগত বিরোধিতা, প্রকাশ্যে একে অপরকে তোপ দাগলেও আসলে তৃণমূল(TMC) বিরোধিতায় জোট বেধেছে বাম-বিজেপি(CPIM-BJP)। সেই ছবি আরও একবার প্রকাশ্যে এল হুগলি(Hoogly) জেলায়। মুখে ‘নরেন্দ্র মোদি জিন্দাবাদ’ হাতে লাল ঝাণ্ডা নিয়ে বিজেপির মিছিলে পা মেলালো সিপিএম(CPIM)। শুক্রবার ঘটনাটি ঘটেছে হুগলির দাদপুর থানা এলাকার পাঁজিপুকুরের হারিট গ্রাম পঞ্চায়েতে। এই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই স্পষ্ট হয়ে গেল তৃণমূল নেত্রী যে ‘জগাই-মাধাই-গদাই(বিজেপি-সিপিএম-কংগ্রেস)’ জোটের কথা বলতেন তা জ্বলন্ত বাস্তব। এই মিছিলে যে সিপিএম যোগ দিয়েছিল সে কথা স্বীকার করে নিয়েছেন স্থানীয় বিজেপি(BJP) নেতৃত্ব।

জানা গিয়েছে, আবাস যোজনায় দুর্নীতির প্রতিবাদ জানিয়ে মিছিল করে হারিট পঞ্চায়েত অফিসে স্মারকলিপি জমা দিতে যাচ্ছিল বিজেপি। সেই মিছিলে তৃণমূল বিরোধী স্লোগানের পাশাপাশি চলছিল নরেন্দ্র মোদির জয়ধ্বনি। অভিযোগ তোলা হয় আবাস যোজনা প্রকল্পে স্বজন পোষণ করা হয়েছে শাসক শিবিরের তরফে। বিজেপির এই মিছিলেই দেখা যায় সিপিএমের পতাকা হাতে নিয়ে বাম কর্মী-সমর্থকদের। এপ্রসঙ্গে বিজেপির দাবি, আমাদের আন্দোলন যে সাধারণ মানুষকে ছুঁয়েছে এটা তারই প্রমাণ। তিনি আরও বলেন, সিপিএমের যে সমস্ত নেতারা আছে তাঁদের দেখা পাওয়া যায় না। তাই এঁরা আমাদের ডেপুটেশনে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে যোগ দিতে এসেছেন। অবশ্য রাম-বাম জোট তত্ত্ব একেবারেই মানতে রাজি নয় স্থানীয় সিপিএম নেতৃত্ব। সিপিএমের হুগলি জেলার সম্পাদক দেবব্রত ঘোষ বলেন, “সিপিএমের কোনও কর্মী ছিলেন না। ওটা বিজেপির কর্মসূচি ছিল। সেখানেই রাস্তার পাশে আমাদের কিছু পতাকা লাগানো ছিল। সেই ঝান্ডাগুলো নিজেরাই তুলে এনে সিপিএম যোগ দিয়েছে বলে দাবি করেছে বিজেপি। আমাদের কি মাথাখারাপ! ওখানে আমাদের গণ সংগঠনের লোকও ছিলেন না। কোথাকার কে বিজেপি রাস্তা থেকে আমাদের পতাকা তুলে নাটক করছে।”

উল্লেখ্য, রাজ্যের একাধিক জায়গায় ইতিমধ্যেই রাম-বাম জোটের ছবি প্রকাশ্যে উঠে এসেছে। বিভিন্ন সমবায় ভোটে সিপিএম বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়ছে। যা নিয়ে চিন্তিত আলিমুদ্দিনও। দলীয় পর্যায়ে বিজেপির হাত ধরার কড়া নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করায় কয়েকটি জায়গায় সিপিএম বহিষ্কার করেছে কয়েক জনকে। কিন্তু বিজেপির হাত ধরার প্রবণতা যে বন্ধ করা যায়নি, হুগলির ঘটনা তারই হাতেগরম প্রমাণ।

spot_img

Related articles

‘বিনা কারণে’ শীর্ষ আধিকারিক বদল: স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকতে জ্ঞানেশকে চিঠি মমতার

দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে নির্বাচন ঘোষণার কয়েক ঘন্টার মধ্যে রাজ্যের শীর্ষ আধিকারিক বদল জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের।...

বকেয়া ডিএ মেটাতে সরকারি নির্দেশ, দু’দফায় মিলবে প্রাপ্য অর্থ

মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার এক দিনের মধ্যেই বকেয়া মহার্ঘভাতা (ডিএ) মেটানো সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশিকা প্রকাশ করল রাজ্য সরকার। সেখানে জানানো...

নির্বাচনী আচরণবিধির জের, থমকাল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ

বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই জারি হয়েছে নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধি। তার জেরেই আপাতত থমকে গেল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে...

জরুরি কারণ ছাড়া ছুটি নয়! ভোটের আগে পুলিশে ছুটিতে কড়াকড়ি 

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর প্রেক্ষিতে রাজ্য পুলিশের ক্ষেত্রে ছুটি মঞ্জুরির উপর জারি হল কড়া বিধিনিষেধ। নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ...