Wednesday, March 4, 2026

তথ্যচিত্রের দ্বিতীয় পর্বেও মোদিকে তোপ BBC-র, এবার নীরবতা ভাঙল আমেরিকাও

Date:

Share post:

বিবিসির তথ্যচিত্র(BBC Documentry) ‘দ্য ইন্ডিয়া কোয়েশ্চেন’ (Modi: The India Question) নিয়ে বিতর্ক চলছেই, এরই মাঝে প্রকাশ্যে এল এই তথ্যচিত্রের দ্বিতীয়পত্র। প্রথম পর্বে গুজরাট দাঙ্গার পর দ্বিতীয় পর্বে তুলে ধরা হল ৩৭০ ধারা বিলোপ, নাগরিকত্ব সংশোধন আইন এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার বিষয়টি। তথ্যচিত্রে দাবি করা হয়েছে, হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী(Prime Minister) এক নতুন ও সমৃদ্ধ ভারত গড়ে তোলার বার্তা দিলেও ধর্মীয় ভেদাভেদ বাড়িয়ে তুলেছেন। প্রথম পর্বের মতো দ্বিতীয় পর্বও ভারতে প্রকাশ করা হয়নি। অন্যদিকে এই ইস্যুতে নীরবতা ভাঙতে দেখা গেল আমেরিকাকে(America)।

মঙ্গলবার বিশ্বজুড়ে মুক্তি পায় বিবিসির (BBC) তথ্যচিত্রের দ্বিতীয় পর্ব যেখানে গুজরাট হিংসার পর স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে গোমাংস খাওয়া নিয়ে মুসলিমদের উপর অত্যাচার চালিয়েছে বিজেপি সরকার। উদাহরণ হিসাবে আলিমুদ্দিন আনসারির হত্যার ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৭ সালে গোরক্ষকদের হাতে খুন হন তিনি। হত্যাকারীদের সমর্থন করেছিলেন এক তৎকালীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, এমনই দাবি করা হয়েছে তথ্যচিত্রে। এছাড়াও রাতারাতি সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলোপ করে অঙ্গরাজ্য হিসাবে জম্মু-কাশ্মীরের স্বীকৃতি কেড়ে নেওয়া হয়। তার ফলে এক মাসের মধ্যে কমপক্ষে ৪ হাজার মানুষকে আটক করে রাখা হয়। দেশের বাকি রাজ্যগুলি থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে কাশ্মীর। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের কোনও খবর দেশের মানুষের কাছে পৌঁছত না বলেই দাবি করেছেন ক্রিসটোফে জেফ্রোলে নামে এক ভারত বিশারদ। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন প্রসঙ্গেও মোদিকে বিঁধেছে এই তথ্যচিত্র। শুধু তাই নয়, আরও দাবি করা হয়েছে, সাংবাদিকদের স্বাধীনতা নেই ভারতে। নিজেদের কর্তব্য পালন করতে গিয়ে শাস্তি পেতে হচ্ছে তাঁদের। মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে লাগাতার বাকস্বাধীনতা খর্ব করা হচ্ছে।

এদিকে এই তথ্যচিত্র প্রসঙ্গে ব্রিটেনের পর প্রথমবার মুখ খুলতে দেখা গেল আমেরিকাকে। সোমবার সংবাদ মাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে বিবিসির তথ্যচিত্র নিয়ে প্রশ্ন করা হয় মার্কিন সরকারের মুখপাত্র নেড প্রাইসকে। জবাবে তিনি বলেন, যিনি তথ্যচিত্র নিয়ে প্রশ্ন করা হচ্ছে সেটার বিষয়ে আমি কিছু জানিনা। তবে এমন অনেক বিষয় রয়েছে যা ভারতের সাথে আমাদের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করে। তিনি আরও বলেন, আমেরিকা ও ভারতের সঙ্গে ভালো রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। এছাড়াও আমেরিকা ও ভারতের মানুষের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ভারত বিশ্বের বৃহত্তম এবং প্রাণবন্ত গণতান্ত্রিক দেশ। ভারতীয় এবং আমেরিকার গণতন্ত্রের মধ্যে অনেক মিল রয়েছে যা আমাদের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করে। প্রাইস বলেন, আমরা সেই সমস্ত বিষয়গুলিকে শক্তিশালী করতে চাই যা দুটি দেশকে সংযুক্ত করে। উল্লেখ্য, এর আগে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনকও ভারতের সমর্থনে বক্তব্য পেশ করেন। বলেন, এই তথ্যচিত্রের সঙ্গে একেবারেই একমত নই আমি।

spot_img

Related articles

ইজরায়েলে হামলা হিজবুল্লার! ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করল সৌদি

পশ্চিমী দেশের আকাশে বাড়ছে যুদ্ধের তীব্রতা। ইরান বনাম ইজরায়েল (Israel) ও মার্কিন সেনার (US army) সংঘর্ষের আবহে এবার...

হোলি হ্যায়! দোল পূর্ণিমার পরের দিন আজ দেশ জুড়ে রঙিন উৎসব

ফাল্গুনী পূর্ণিমা তিথিতে বাঙালি দোলযাত্রা (Dol Utsav) শেষ হওয়ার পরের দিন দেশজুড়ে হোলি উদযাপন (Holi Festival)। বুধবার 'রং...

নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় শান্ত শহর: দোল উৎসবে অপ্রীতিকর ঘটনা রুখে দিল কলকাতা পুলিশ

কলকাতায় এবারের দোল উৎসব কাটল মোটের ওপর শান্তিপূর্ণভাবেই। পুলিশের কড়া নজরদারির ফলে শহরে বড় কোনো দুর্ঘটনার খবর মেলেনি।...

শোলে-র পঞ্চাশে বিশেষ ক্যালেন্ডার প্রকাশ, জয়-বীরু হলেন সিধু-পটা

১৯৭৫ সালের কালজয়ী ছবি রমেশ সিপ্পির 'শোলে' ভারতীয় বিনোদন জগতে ইতিহাস তৈরি করেছে। সেলিম-জাভেদ জুটির অনবদ্য চিত্রনাট্য ৫০...