Wednesday, March 18, 2026

সুতপার ছন্দে প্রেমের উপাখ্যান, রূপঙ্করের গানে ‘চৈত্র অবসানে’র সাক্ষী মহানগর!

Date:

Share post:

‘যা ইচ্ছে তাই বলুক লোকে নিন্দুকেরা কত কিছুই রটায়, অনামী কোনও বাসস্টপে দেখা হবে পৌনে ছটায়’ – কবির লেখা পংক্তি যেন সত্যি হয়ে গেল চৈত্রের শেষ রোববারে। ঠিক ওইসময় থেকেই মহানগরীর অন্যতম সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্রের পীঠস্থানে ভিড় জমতে শুরু করেছে। রবীন্দ্রসদনের (Rabindra Sadan) বাইরে টাঙানো ফ্লেক্স বলছে হাতে সময় বাকি ঘণ্টা খানেক। কিন্তু রবিবারের সান্ধ্য লগ্নে আর যেন তর সইছে না। কারণ সুতপা বন্দ্যোপাধ্যায় (Sutapa Banerjee) এবং রূপঙ্কর বাগচি (Rupankar Bagchi) দুজনেই যে ‘একক’ রূপে ধরা দিতে চলেছেন। ঠিক ৭টায় রবীন্দ্রসদন মঞ্চের পর্দা সরল। নিকষ কালো ব্যাকড্রপের সামনে স্পট লাইটে সুতপা বন্দ্যোপাধ্যায় (Sutapa Banerjee)। তাঁর চোখ তাকিয়ে ‘চৈত্রের অবসানে’। সঙ্গী হলেন জীবনানন্দ, শুরু হল অনুষ্ঠান।

সামনের সপ্তাহে এই সময় বর্ষবরণের আনন্দে হয়তো বা ব্যস্ত থাকবে বাঙালি। কিন্তু ৯ এপ্রিলের এই সন্ধে তখন যেন ঝলমল করবে। মঞ্চে মাঙ্গলিক প্রতীক , সঙ্গে মঙ্গল ঘট, যার উপরে সাজানো কলাপাতা। ঠিক যেমনটা দেখে বাঙালি অভ্যস্ত সেই সব রসদ যত্ন করে যোগাড় করেছেন আয়োজকরা। পিকাসো এন্টারটেনমেন্টকে (Picaso Entertainment) তাই ধন্যবাদ জানিয়েছেন শিল্পীদ্বয়। দর্শককে ভালবাসা উজাড় করে দিয়ে সুতপার কবিতায় প্রশ্ন করেন, প্রেমের পূর্ণতা বিরহ নাকি মিলনে? বৈশাখী আমেজের সুবাসিত ছন্দে শ্রীজাত থেকে ভবানী প্রসাদ মজুমদার , সকলেই মিলে গেলেন এক ঘন্টায়। বাংলার সৌন্দর্যের রূপ বর্ণনা করতে করতে সুতপা শোনালেন সুভাষের কথা, ততক্ষণে বিপ্লবের আগুন যেন টগবগ করে ফুটতে শুরু করেছে। তাতে মিশে গেলেন বঙ্গবন্ধু।

এক ঘণ্টার অনুষ্ঠানের অন্তিম নিবেদনে রবি ঠাকুরকে সঙ্গী করে কালের যাত্রাপথ ধরলেন শিল্পী। এখানে চমক জাগল, কারণ মঞ্চের ফোকাস লাইট জানান দিচ্ছে দ্বিতীয়ার্ধের আকর্ষণ রূপঙ্করের (Rupankar) গিটার তখন বাজতে শুরু করেছে। সুতপার শেষ অনুষ্ঠানের রেশ ধরে শুরু করলেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত গায়ক । সুরেলা মেজাজে শুরুতেই বললেন , ‘আমার তো গল্প বলা কাজ’। কথায় কথায় পরিচয় করালেন সঙ্গীতের সঙ্গীদের সঙ্গে। গুনগুন করলেন মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের গান ‘বনে নয় মনে মোর পাখি আজ গান গায়’। গায়ক থামার আগেই হাততালিতে ফেটে পড়ল প্রেক্ষাগৃহ। এবার যেন অনুরোধের আসরের পালা। ‘জাতিস্মর’ থেকে শুরু গায়কের নিজের অ্যালবামের নস্টালজিয়া সব ধরা পড়ল শেষের এক ঘণ্টায়।

রবীন্দ্রসদন প্রেক্ষাগৃহ ছেড়ে বেরিয়ে আসতে আসতে সত্যিই মনে হল, ‘চৈত্র অবসানে’ অলীক অন্তিমের আহ্বান নয়, বরং আগত বৈশাখের আনন্দ জাগ্রত দ্বারে।

 

spot_img

Related articles

ভোটের আসরে সন্তান-স্ত্রী-ভাই: শহর থেকে জেলায় তৃণমূল প্রার্থী পরিবারের সদস্যরা

রাজনীতিতে পরিবারবাদ কোনও নতুন তত্ত্ব নয়। বিধানসভা কেন্দ্র তো বটেই, অন্য কেন্দ্র দখল করতেও অনেক সময় একই পরিবারের...

ক্রমশ পিছোচ্ছে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ! যাচাই শেষ ২১ লক্ষ

পূর্ণাঙ্গ তালিকা বলে যে ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন, প্রায় তত সংখ্যক রাজ্যের মানুষ এখনও বিচারাধীন।...

তালিকা প্রকাশ হতেই রাজ্যজুড়ে শুরু দেওয়াল লিখন, মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্র থেকে জেলায় প্রচারে তৃণমূল

প্রার্থীতালিকা ঘোষণার পরেই ঘাসফুল শিবিরের উৎসাহ এখন তুঙ্গে। প্রার্থী হতে পারেন এমন আঁচ পেয়ে অনেক জায়গায় আগেই দেওয়াল...

হুকো সাজানোর জন্য লোক নিয়োগ! ধোনির অজানা কীর্তি ফাঁস সিএসকে সতীর্থের

মহেন্দ্র সিং ধোনির (MS Dhoni) হুকো প্রীতি অনেকেরই জানা। ভারতীয় ক্রিকেটে হুঁকোপ্রীতির জন্য ধোনি কিন্তু বেশ পরিচিত। এই...