Saturday, March 14, 2026

অভাবেও হারায়নি প্রতিভা! ‘অবাক’ জুতো আবিষ্কার হুগলির ক্ষুদে পড়ুয়ার

Date:

Share post:

নতুন জুতো আবিষ্কার করে রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিল হুগলির (Hoogly) চন্দননগরের (Chandannagar) এক ক্ষুদে পড়ুয়া। হুগলি চন্দননগরের বারাসাত দেপারার নবম শ্রেণীর ছাত্র সৌভিক শেঠ (Souvik Seth) এমনই এক জুতোর আবিষ্কার করেছে। যা পরে হাঁটলেই তার থেকে উৎপন্ন হবে বিদ্যুৎ (Electric)। পাশাপাশি সেই বিদ্যুৎ দিয়েই মোবাইল চার্জ (Mobile Charging), জিপিএস ট্রাকিং (GPS Tracking) থেকে শুরু করে ক্যামেরা সবকিছুই চার্জ দেওয়া যাবে। আর হুগলির পড়ুয়ার এমন আশ্চর্য আবিষ্কারে কার্যত তাক লেগেছে রাজ্যবাসীর।

জানা গিয়েছে, পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ার সময় তার মামার কাছে ইলেকট্রনিক্সের (Electtonics) কাজ দেখতো সৌভিক। আর সেখান থেকেই এই ইলেকট্রনিক্সের প্রতি আগ্রহ জাগে তার। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি বিজ্ঞান প্রদর্শন পুরস্কার পেয়েছেন চন্দননগর কানাইলাল স্কুলের ইংরেজি বিভাগের এই পড়ুয়া। সৌভিকের দাবি, এই জুতো পড়ে হাঁটলে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা যাবে। একটি ২ হাজার এমএএইচ ব্যাটারি সহজেই চার্জ হয়ে হবে। সৌভিক আরও জানিয়েছেন, শুধুমাত্র এক কিলোমিটার হাঁটলেই চার্জ হবে এই ব্যাটারি। আপাতত এই স্মার্ট জুতোর পুরো সিস্টেমটা বাইরে থেকে করা হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে সমস্ত গ্যাজেটকে জুতোর সোলের মধ্যে ঢুকিয়ে নতুন করে তৈরি করা হবে। ইতিমধ্যে সেই কাজও শুরু করে দিয়েছে সৌভিক। তবে এর জন্য প্রয়োজন একটি জুতো প্রস্তুতকারক সংস্থার। যারা আর্থিকভাবে সৌভিককে সাহায্য করবে। যা জুতোর দুনিয়ায় নতুন দিশা আনবে। আর এই নতুন জুতো পরে উপকৃত হবেন ভ্রমণে বা পর্বতারোহনে বেরোনো যাত্রীরা।
সৌভিক আরও জানায়, ফেলে দেওয়া জিনিস দিয়ে এই স্মার্ট সু তৈরি করা হয়েছে। এই জুতার মধ্যে জিপিএস সিস্টেম রয়েছে যা শিশুদের ক্ষেত্রে অনেকটা সুবিধার। অনেক সময় শিশু চুরি হলে তা খুঁজে পেতে অনেকটা সময় লাগে। কিন্তু এই স্মার্ট শুরু পরানো থাকলে তা সহজেই খুঁজে পাওয়া যাবে। শুধু তাই নয় পরিবারের লোক দেখতে পাবে তার শিশু কোথায় রয়েছে। পাশাপাশি জুতোয় স্পাই ক্যামেরা (Spy Camera) লাগানো রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে আইটিআই নিয়ে পড়ার ইচ্ছা রয়েছে সৌভিকের। যদি কোন বড় কোম্পানি যোগাযোগ করে তাহলে তার এই কাজ সার্থক হবে বলে মনে করছে সৌভিক। আপাতত এই জুতোকে কীভাবে আরও আধুনিক করা যায় সেটাই লক্ষ্য সৌভিকের।

তবে সৌভিকের এই স্বপ্নপূরণের পথে একমাত্র বাধা অর্থ। বাবা স্বরূপ শেঠ একজন দরিদ্র জুটমিল শ্রমিক ছিলেন। জানা গিয়েছে, এই মুহূর্তে জাপানের এক গবেষণা কেন্দ্র তাকে ডেকে পাঠিয়েছে। কিন্তু সবকিছুর মধ্যে এখনও অন্তরায় হয়ে দাড়াচ্ছে সেই টাকার সমস্যা।

 

 

spot_img

Related articles

হরমুজ থেকে ভারতের দিকে রওনা দিল জাহাজ: আসছে এলপিজি ট্যাঙ্ক

অবশেষে হরমুজে আটকে থাকা ভারতের জাহাজগুলিকে ছাড়ার অনুমতি দিল ইরান। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ব হরমুজে (Strait of...

সাপ্লিমেন্টারি তালিকা কবে? কমিশনের কর্মশালায় একগুচ্ছ প্রশ্ন তৃণমূলের 

বিধানসভা ভোটের রণদামামা বাজার আগেই ভোটার তালিকা নিয়ে নিজেদের আপত্তির কথা আরও একবার স্পষ্ট করল তৃণমূল কংগ্রেস। শুক্রবার...

মোদি রাজ্যে পা রাখার আগেই ‘গো ব্যাক’! বিরাট হোর্ডিং শহরজুড়ে

বিজেপির রাজ্য নেতাদের কলঙ্কিত অত্যাচারে বিধ্বস্ত গোটা বাংলা। বারবার তাঁদের ডেইলি প্যাসেঞ্জার জাতীয় নেতারা এসে যে পেপ-টক দেওয়ার...

কর্মীদের চোখের চিকিৎসায় উদ্যোগী মার্লিন গোষ্ঠী, দুই কেন্দ্রে আয়োজিত হল পরীক্ষা শিবির 

কর্মীদের শারীরিক সুস্থতা ও স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিতে অভিনব উদ্যোগ নিল দেশের অন্যতম আবাসন নির্মাণকারী সংস্থা মার্লিন গোষ্ঠী।...