Friday, April 24, 2026

অভাবেও হারায়নি প্রতিভা! ‘অবাক’ জুতো আবিষ্কার হুগলির ক্ষুদে পড়ুয়ার

Date:

Share post:

নতুন জুতো আবিষ্কার করে রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিল হুগলির (Hoogly) চন্দননগরের (Chandannagar) এক ক্ষুদে পড়ুয়া। হুগলি চন্দননগরের বারাসাত দেপারার নবম শ্রেণীর ছাত্র সৌভিক শেঠ (Souvik Seth) এমনই এক জুতোর আবিষ্কার করেছে। যা পরে হাঁটলেই তার থেকে উৎপন্ন হবে বিদ্যুৎ (Electric)। পাশাপাশি সেই বিদ্যুৎ দিয়েই মোবাইল চার্জ (Mobile Charging), জিপিএস ট্রাকিং (GPS Tracking) থেকে শুরু করে ক্যামেরা সবকিছুই চার্জ দেওয়া যাবে। আর হুগলির পড়ুয়ার এমন আশ্চর্য আবিষ্কারে কার্যত তাক লেগেছে রাজ্যবাসীর।

জানা গিয়েছে, পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ার সময় তার মামার কাছে ইলেকট্রনিক্সের (Electtonics) কাজ দেখতো সৌভিক। আর সেখান থেকেই এই ইলেকট্রনিক্সের প্রতি আগ্রহ জাগে তার। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি বিজ্ঞান প্রদর্শন পুরস্কার পেয়েছেন চন্দননগর কানাইলাল স্কুলের ইংরেজি বিভাগের এই পড়ুয়া। সৌভিকের দাবি, এই জুতো পড়ে হাঁটলে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা যাবে। একটি ২ হাজার এমএএইচ ব্যাটারি সহজেই চার্জ হয়ে হবে। সৌভিক আরও জানিয়েছেন, শুধুমাত্র এক কিলোমিটার হাঁটলেই চার্জ হবে এই ব্যাটারি। আপাতত এই স্মার্ট জুতোর পুরো সিস্টেমটা বাইরে থেকে করা হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে সমস্ত গ্যাজেটকে জুতোর সোলের মধ্যে ঢুকিয়ে নতুন করে তৈরি করা হবে। ইতিমধ্যে সেই কাজও শুরু করে দিয়েছে সৌভিক। তবে এর জন্য প্রয়োজন একটি জুতো প্রস্তুতকারক সংস্থার। যারা আর্থিকভাবে সৌভিককে সাহায্য করবে। যা জুতোর দুনিয়ায় নতুন দিশা আনবে। আর এই নতুন জুতো পরে উপকৃত হবেন ভ্রমণে বা পর্বতারোহনে বেরোনো যাত্রীরা।
সৌভিক আরও জানায়, ফেলে দেওয়া জিনিস দিয়ে এই স্মার্ট সু তৈরি করা হয়েছে। এই জুতার মধ্যে জিপিএস সিস্টেম রয়েছে যা শিশুদের ক্ষেত্রে অনেকটা সুবিধার। অনেক সময় শিশু চুরি হলে তা খুঁজে পেতে অনেকটা সময় লাগে। কিন্তু এই স্মার্ট শুরু পরানো থাকলে তা সহজেই খুঁজে পাওয়া যাবে। শুধু তাই নয় পরিবারের লোক দেখতে পাবে তার শিশু কোথায় রয়েছে। পাশাপাশি জুতোয় স্পাই ক্যামেরা (Spy Camera) লাগানো রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে আইটিআই নিয়ে পড়ার ইচ্ছা রয়েছে সৌভিকের। যদি কোন বড় কোম্পানি যোগাযোগ করে তাহলে তার এই কাজ সার্থক হবে বলে মনে করছে সৌভিক। আপাতত এই জুতোকে কীভাবে আরও আধুনিক করা যায় সেটাই লক্ষ্য সৌভিকের।

তবে সৌভিকের এই স্বপ্নপূরণের পথে একমাত্র বাধা অর্থ। বাবা স্বরূপ শেঠ একজন দরিদ্র জুটমিল শ্রমিক ছিলেন। জানা গিয়েছে, এই মুহূর্তে জাপানের এক গবেষণা কেন্দ্র তাকে ডেকে পাঠিয়েছে। কিন্তু সবকিছুর মধ্যে এখনও অন্তরায় হয়ে দাড়াচ্ছে সেই টাকার সমস্যা।

 

 

Related articles

প্রথম দফায় বিক্ষিপ্ত অশান্তি রাজ্যে, রাত পর্যন্ত মোট গ্রেফতার ৪১ 

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় বিভিন্ন প্রান্তে অশান্তি ও গোলমাল পাকানোর অভিযোগে মোট ৪১ জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ।...

কুণালের সমর্থনে মেগা রোড-শো দেবের, জনপ্লাবনে ভাসল বেলেঘাটা

বেলেঘাটায় ভোটের প্রচারে অন্য প্রার্থীদের আগেই কয়েক যোজন পিছনে ফেলে দিয়েছিলেন কুণাল কুমার ঘোষ। প্রচারের শেষ লগ্নে এসে...

যত বেশি ভোট, তত বড় প্রত্যাবর্তন! প্রথম দফার শেষে আত্মবিশ্বাসের সুর তৃণমূল শিবিরে

যত বেশি হারে ভোট, তত জোরালো প্রত্যাবর্তন। বাংলার মানুষ বিজেপির কোমর ভেঙে দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতি জননেত্রী মমতা...

দুবরাজপুরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘আচরণে প্রশ্নের মুখে কমিশন

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফাতেই রণক্ষেত্র হয়ে উঠল বীরভূমের দুবরাজপুর। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটের নামে সাধারণ মানুষের ওপর...