Saturday, April 25, 2026

হাতের মুঠোয় কর্ণাটক! স্বস্তির মাঝেও কংগ্রেসের কাঁটা ‘অপারেশন লোটাস’  

Date:

Share post:

আর মাত্র কিছু সময়ের অপেক্ষা। বিজেপিকে (BJP) হারিয়ে এবার কর্নাটকের (Karnataka) কুর্সিতে বসতে চলেছে কংগ্রেস (Congress)। ফলাফলের যা ট্রেন্ড সেখান থেকেই পরিষ্কার হাত শিবিরের জয়ের রাস্তা মোটামুটি পাকা। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী ১৩০ আসনে এগিয়ে রয়েছে কংগ্রেস (Congress)। বিজেপি (BJP) এগিয়ে রয়েছে মাত্র ৬৫ আসনে। তবে এদিন গণনা শুরুর পর দেখা যায় কর্নাটকের নির্বাচনে কিং মেকার হওয়ার সম্ভাবনা ছিল কুমারস্বামীর দল জনতা দল সেকুলারের (JDS)। তবে ভোটের আপাত ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, একাই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের দিকে এগোচ্ছে কংগ্রেস। ম্যাজিক ফিগার ১১৩টি আসনে জয়ী হলেই কংগ্রেসের অন্য কোনও দলের সঙ্গে জোট বাধার প্রয়োজন পড়বে না। তবে জয়ের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়েও, বিধায়ক কেনাবেচার আশঙ্কা একেবারেই উড়িয়ে দিতে পারছে না কংগ্রেস। আর যা নিয়ে ইতিমধ্যে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে দলের হাইকম্যান্ড।

গতবারের নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পরও যেভাবে বছর ঘুরতে না ঘুরতেই সরকারের পতন হয়েছিল, তার যাতে আর পুনরাবৃত্তি না হয়, সেকারণেই ফল প্রকাশের আগে বিধায়কদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিল কংগ্রেস। এই পরিস্থিতিতে একেবারে মেপে পা ফেলছে হাত শিবির। কোনওভাবেই যাতে ‘অপারেশন লোটাস’ না হয়, তা নিশ্চিত করতে এগিয়ে থাকা প্রার্থীদের এখনই বেঙ্গালুরু থেকে সরিয়ে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে বিজেপির রিসর্ট রাজনীতি ৯০-র দশক থেকেই দেশে শুরু হয়েছিল। কর্নাটক থেকে শুরু করে রাজস্থান, তামিলনাড়ু, মহারাষ্ট্র, অসম, বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচন বা রাজনৈতিক ডামাডোলের সময়ে ঘর বাঁচাতে বিধায়ক-সাংসদদের রিসর্টে নিয়ে যাওয়ার ট্রেন্ড তৈরি হয়েছিল, যা এখনও জারি রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মহারাষ্ট্র গেরুয়া শিবিরের এই ষড়যন্ত্রের শিকার।

তবে কংগ্রেস সূত্রে খবর, যদি আজকের নির্বাচনে কংগ্রেস সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করে সেক্ষেত্রে রবিবারই জয়ী বিধায়কদের নিয়ে বৈঠকে বসবে কংগ্রেস। ওই বৈঠক থেকেই কংগ্রেস কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী মুখ বেছে নিতে পারে। অন্যদিকে, যদি কংগ্রেস সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায়, তবে জয়ী বিধায়কদের নিয়ে ভিন রাজ্যে উড়ে যাবেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। বিধায়কদের নিয়ে যাওয়ার জন্য চার্টার্ড ফ্লাইটও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জয়ী কংগ্রেস বিধায়কদের তামিলনাড়ুতে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে শাসক দল ডিএমকে-র সঙ্গে জোটে রয়েছে কংগ্রেস। সেখানেই বিধায়কদের রিসর্টে রাখার ব্যবস্থা করে রেখেছে এমকে স্ট্যালিনের দল।

অন্যদিকে, কর্নাটকে কংগ্রেস জয়ী হলে, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ডিকে শিবকুমার ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার মধ্যে কে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেবেন সেটাই এখন দেখার বিষয়। সূত্রের খবর, এই দুই নেতার মধ্যে থেকেই একজনকে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে বেছে নেবে দল।

 

 

Related articles

শহরের হাসপাতাল থেকে জল জমা সমস্যার সমাধান: ভবানীপুরে বার্তা মমতার

আগামী দুই বছরে শেষ হয়ে যাবে গঙ্গাসাগরের কাজ। শুক্রবার ভবানীপুর থেকে গঙ্গাসাগরের পরিষেবা নিয়ে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়...

লক্ষ্যমাত্রার পথে অনেকটাই এগোল নবান্ন, রাজ্যে সংগৃহীত ৪৮ লক্ষ টনের বেশি ধান

চলতি খরিফ মরসুমে ধান সংগ্রহে বড়সড় সাফল্যের মুখ দেখল রাজ্য সরকার। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, রাজ্যের ক্ষুদ্র...

ভোট শেষে স্বচ্ছতা রাখতে ক্যামেরার ছবি সংরক্ষণে এক গুচ্ছ নির্দেশিকা

নির্বাচন শেষে ইভিএম সিল করা নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক বুথে অভিযোগের তিরে নির্বাচন কমিশন। আবার ওয়েব কাস্টিং পদ্ধতির সুফলও...

যেখানে আশা করিনি সেখানেও জিতবে তৃণমূল, ভবানীপুরের সভা থেকে আত্মবিশ্বাসী নেত্রী

এবারের ভোট এসআইআরের অত্যাচারের বিরুদ্ধে। যেখানে আশা করিনি, সেখানেও জিতব। ভবানীপুরের সভা থেকে দৃঢ় কণ্ঠে জানালেন নেত্রী মমতা...