Thursday, April 23, 2026

ধর্মকে হা.তিয়ার করে রাজনীতি করলে পতন অবধারিত: ঠাকুরবাড়িতে দাঁড়িয়ে বিজেপিকে তীব্র আক্র.মণ অভিষেকের

Date:

Share post:

ঠাকুরবাড়ির গরিমা কলুষিত করছেন শান্তনু ঠাকুর। রবিবার, ‘তৃণমূলে নবজোয়ার’ কর্মসূচিতে উত্তর ২৪ পরগনার ঠাকুরনগরে মতুয়া ঠাকুরবাড়িতে গিয়ে তীব্র আক্রমণ করলেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তাঁকে আটকাতে সকাল থেকে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করেছেন BJP সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। এই ঘৃণ্য রাজনীতির তীব্র নিন্দা করেন অভিষেক। তিনি বলেন, এটা ঠাকুরবাড়ি, রাজনীতি করার জায়গা নয়। তীব্র আক্রমণ করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, যাঁরা ধর্মকে হাতিয়ার করে রাজনীতি করছে তাদের পতন অবধারিত।

রবিবার সকাল থেকেই ঠাকুরনগরে গোলমাল বাধানোর চেষ্টা করছেন বিজেপির সাংসদ শান্তনু ঠাকুর। সাড়ে তিনটের পর ঠাকুরবাড়িতে পৌঁছন অভিষেক। সেখানে গিয়ে প্রথমে মন্দিরে পুজো দেন অভিষেক। তারপরে যান বড়মা বীণাপানি দেবীর ঘরে। তাঁর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। সেখান থেকে বেরিয়ে ঠাকুরবাড়িতে দাঁড়িয়েই শান্তনু ঠাকুরকে তুলোধনা করেন অভিষেক। তাঁর কথায়, ঠাকুরবাড়ি রাজনীতি করার জায়গা নয়। এই জায়গার গরিমা কলুষিত করছেন বিজেপির সাংসদ।

অভিষেক বলেন, “ঠাকুরবাড়িতে এসে পুজো দিয়েছি। হরিচাঁদ ও গুরুচাঁদ ঠাকুরের পূণ্যভূমিতে এসে আগামী দিনে লড়াইয়ের শক্তি নিলাম। আমার কর্মসূচি রয়েছে হাবড়াতে। আমি এখানে পুজো দিতে এসেছি। কিন্তু সকাল থেকে মন্দির ঘিরে রয়েছে বিজেপির লোকজন। ওদের ২০০-২৫০ লোক রয়েছে। আমাদের পাঁচ হাজার। চাইলেই আমি গায়ের জোরে ঢুকতে পারি। কিন্তু ঠাকুরবাড়ি গায়ের জোর দেখানোর জায়গা নয়। এই মন্দির, এই মতুয়া ধাম কারও পৈত্রিক সম্পত্তি নয়। এর দ্বার সকলের জন্য খোলা।“

ধর্মের নাম বিজেপির রাজনীতি করা নিয়েও তোপ দাগেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। বলেন, যাঁরা ধর্মকে হাতিয়ার করে রাজনীতি করছে তাদের পতন অবধারিত। তৃণমূল সাংসদের কথায় “ধর্ম ছেড়ে মানুষের স্বার্থে লড়াই করুন”। চিনি প্রশ্ন তোলেন, “শান্তনু ঠাকুর কোনও দিন মানুষের দাবিদাওয়া নিয়ে সরব হয়েছেন?” বিজেপি সাংসদকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে অভিষেক বলেন, ”এখানে কোথায় রাস্তাঘাট, জল-কলের কাজ বাকি আছে, সামনে এসে বলুন। যে রাস্তাঘাট দিয়ে হেঁটে তৃণমূলকে চমকাচ্ছেন, সেটাও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করে দিয়েছেন।” বেরনোর আগে শান্তনুকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে অভিষেক বলেন, ”তিনমাস অন্তর আসব। পারলে আটকাবেন।”

অভিষেক যখন মাইক হাতে সরব, তখন অবশ্য বিজেপির নেতা-কর্মীরা চত্বর ছেড়ে পালিয়েছেন। উপস্থিত মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ তখন মমতা, বন্দ্যোপাধ্য়ায় (Mamata Banerjee), অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে জয়ধ্বনি দিচ্ছেন। আওয়াজ উঠেছে ‘জয় বাংলা’।

 

Related articles

কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘দাদাগিরি’: চোপড়ায় বিজেপিকে ভোট দেওয়ার নির্দেশ! বৃদ্ধা-যুবককে মারধরের অভিযোগ

চোপড়ায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর (Central Force) দাদাগিরি। বৃদ্ধা ও যুবককে মারধরের অভিযোগ, কাঠগড়ায় কমিশন ও বিজেপি। ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে...

প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার ভোট দিয়ে ‘স্পোর্টসম্যান স্পিরিট’ বজায় রাখলেন স্বপ্না

রাজ্য চলছে প্রথম দফার ভোট গ্রহণ। ১৫২টি আসনের মধ্যে যে কেন্দ্রগুলিতে বাড়তি নজর রয়েছে তার মধ্যে জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ।...

ইভিএম বিভ্রাটে তৃণমূলের ভোট বিজেপিতে! টেকনিক্যাল সমস্যা না ষড়যন্ত্র, উঠছে প্রশ্ন

ভোটের সকালে মুর্শিদাবাদের বড়ঞা বিধানসভার অন্তর্গত একটি বুথে ভোট কারচুপির অভিযোগ বিজেপি পরিচালিত কমিশনের (Election Commission) বিরুদ্ধে। বড়ঞা...

নওদায় অশান্তি, গালিগালাজ হুমায়ুনের: বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ

কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে মুড়ে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য সাঁজোয়া গাড়ির ব্যবস্থা করেছে নির্বাচন কমিশন। তা সত্ত্বেও সেই মুর্শিদাবাদে সেই...