জোর করে সীমান্ত পার করানোর প্রতিবাদে (Push-In Controversy) ঢাকার ভারতীয় হাই কমিশনের সামনে বিশাল বিক্ষোভ নতুন রাজনৈতিক দল ‘বাংলাদেশ আজাদ পার্টি’র (Bangladesh Azad Party)। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার রাতে ঢাকার গুলশান এলাকায়। বিক্ষোভ মিছিলে পোড়ানো হল ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Shuvendu Adhikari) কুশপুতুল।

অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিনুর রহমানের নেতৃত্বে দলটির এই মিছিল ঘিরেই মূলত উত্তেজনা ছড়ায়। ঢাকার মহাখালীর আমতলী এলাকা থেকে শুরু হয় মিছিলটি। গুলশন-১ চত্বরে আসতেই পুলিশের বড় ব্যারিকেডের মুখে পড়ে। হাই কমিশনের দিকে এগোতে না পেরে আন্দোলনকারীরা সেখানেই রাস্তার ওপর বসে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। কড়া পুলিশি পাহারার মাঝেই ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা ভারতীয় নেতাদের কুশপুতুল পুড়িয়ে ক্ষোভ উগরে দেন। বিক্ষোভ সমাবেশে আজাদ পার্টির নেতারা অভিযোগ করেন, দিল্লি আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জোর করে বহু মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে। এই ‘পুশ-ইন’ দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য বড় বিপদ। এর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারকে এখনই কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা। আরও পড়ুন: নিট পরীক্ষা নিয়ে চরম হতাশায় ৩৭ দিনে আত্মঘাতী ১২ পরীক্ষার্থী

আসলে গত এক মাস ধরে ভারতের সীমান্ত লাগোয়া বাংলাদেশের জেলাগুলোতে পুশ-ইন নিয়ে তুমুল উত্তেজনা চলছে। অভিযোগ উঠছে, বিএসএফ কোনও সঠিক কাগজপত্র ছাড়াই বহু মানুষকে অনুপ্রবেশকারী সাজিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করছে। অন্যদিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-ও সেই চেষ্টা রুখে দিচ্ছে। দুই দেশের সীমান্তরক্ষীদের এই টানাটানির মাঝে পড়ে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বহু মানুষকে সীমান্তের ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’ বা শূন্য রেখায় খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাতে হচ্ছে।

এদিকে এই ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশের ঘরের রাজনীতিও ফুটছে। জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির মতো বিরোধী দলগুলো ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ সরকারের নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। চাপের মুখে পড়ে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ সংসদে জানান, কূটনৈতিক স্তরে ভারত সরকারের কাছে তীব্র আপত্তির কথা জানানো হয়েছে। পুশ-ইন কোনো বৈধ নিয়ম হতে পারে না। অন্যদিকে, দিল্লির পক্ষ থেকে এই সংকটের দায় সম্পূর্ণ বাংলাদেশের ওপরেই চাপানো হচ্ছে। ভারতের দাবি, সেদেশে থাকা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ সরকারকে কাগজপত্র পাঠানো হলেও ঢাকা তাতে কোনো সাড়া দেয়নি। আটক ব্যক্তিরা নিজেদের বাংলাদেশি নাগরিক বলে দাবি করায় আইনি পথেই তাঁদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

–

–

–

–
