বরফে ঢাকা মমি, একবার স্পর্শেই ভয়.ঙ্কর পরিণতি! কেন…

উত্তর ইতালির (North Italy)বরফে ঢাকা আল্পস থেকে ১৯৯১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ওটজ়ির মমিটি উদ্ধার করা হয়। তারপর সোজা স্থান পায় জাদুঘরে।

বছরের পর বরফের নিচে ঘুমিয়ে ছিলেন তিনি। আর তাতেই হয়ে উঠেছেন অভিশপ্ত। নিথর শরীরের উপর বরফের স্তূপ জমে ছিল ৫৩০০ বছর ধরে, কিন্তু সেই বরফ সরাতে গিয়েই মারাত্মক বিপদ। ওটজ়ি দ্য আইসম্যানকে (Otzi the Iceman)স্পর্শ করতেই মৃত্যু ঘনিয়ে এসেছে অচিরেই। কিন্তু কেন?

গবেষণা বলছে, উত্তর ইতালির (North Italy)বরফে ঢাকা আল্পস থেকে ১৯৯১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ওটজ়ির মমিটি উদ্ধার করা হয়। তারপর সোজা স্থান পায় জাদুঘরে। এটি আসলে পুরুষ মমি (Male Mummy)। বোলজ়ানো শহরের দক্ষিণ টাইরোল মিউজিয়ামে (South Tyrol Archeological Museum) গেলে ওটজ়ির দেখা পাওয়া যাবে। একগুচ্ছ গুজব আর রহস্য মিশেছে অজানা আতঙ্কের আবহে। পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন এবং কুখ্যাত মমিগুলির মধ্যে অন্যতম এটি। মনে করা হয় এর মমির অভিশাপে অনেকের মৃত্যু হয়েছে।

ওটজ়ির মমিটি আবিষ্কার করেছিলেন জার্মান পর্যটক হেলমুট সাইমন (Helmut Simon)। ১৯৯১ সালের আবিষ্কারের ১৩ বছর পর ২০০৪ সালে মৃত্যু হয় সাইমনের। যেখানে ওটজ়ির দেহ মিলেছিল, ১৩ বছরের ব্যবধানে ঠিক সেখানেই একই ভাবে উদ্ধার হয় সাইমনের দেহ। ওটজ়ি সংক্রান্ত গবেষণার তদন্ত চলাকালীন একটি গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যান রাইনার। ওটজ়ির মমি আবিষ্কারের পর প্রথম মৃত্যু হয় ফরেন্সিক দলের প্রধান রাইনার হেনের। শোনা যায়, তিনি খালি হাতে ওটজ়ির দেহ স্পর্শ করেছিলেন। আল্পসে সাইমনের দেহ উদ্ধারকারী দলের ডিয়েটার ওয়ারনেকেরও মৃত্যু হয় সাইমনের শেষকৃত্যের ঘণ্টাখানেকের মধ্যে। রহস্য এখানেই শেষ নয়, ওটজ়ি সংক্রান্ত রহস্যমৃত্যুর তালিকায় আছেন অস্ট্রেলিয়ার সাংবাদিক রাইনার হোয়েলজ় । তিনি ওটজ়িকে নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রকাশ করেছিলেন। তারপরে ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর।

অনেকে বলেন বরফের চাদরে ঘুমিয়ে থাকা ওটজ়িকে স্পর্শ করে জাগিয়ে তোলা ঠিক হয়নি। হয়তো এভাবেই চলছে প্রতিশোধের পালা, কিংবা হয়তো অভিশাপেই ঝড়ে গেল একাধিক প্রাণ। বিশ্বাসের ভিত্তিতে তৈরি হওয়া নানা মতামতের সত্যতা যাচাই সম্ভব নয়। কিন্তু ঘটনার পর্যায়ক্রম সাজালে রহস্য শেষ হওয়ার নয়।