Wednesday, May 13, 2026

ফের ‘বিতর্কিত’ পোস্ট মনোরঞ্জন ব্যাপারীর, এবার কি রাজনৈতিক সন্ন্যাস!

Date:

Share post:

ফের বিতর্কিত বলাগড়ের বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারীর (Manoranjan Byapari) ফেসবুক পোস্ট (FaceBook)। তাহলে কি এবার রাজনীতি ছাড়ছেন তৃণমূল (TMC) বিধায়ক? না কি অন্য রাজনৈতিক দলে নাম লেখাবেন? এই নিয়েই জল্পনা রাজনৈতিক মহলে।

ফেসবুক পোস্টে ঠিক কী লিখেছেন মনোরঞ্জন ব্যাপারী? “পুরাতন সব কিছু ভুলে যেতে চাই। আমি কঠোর দরিদ্র জীবন দেখেছি প্রায় চল্লিশ বছর। শুধু জল খেয়ে পেটের যন্ত্রণা ভুলে থাকার সেই দিন গুলো আজও মনে পড়লে বুকে ব্যেথা মোচড় দিয়ে ওঠে।

সেই যে ছাগল গরু চড়ানো থেকে যে জীবন শুরু তারপর চায়ের দোকানে গেলাস ধোয়া, মুটে মজুরি রিকশা চালানো, ডোম সুইপার ট্রাকের খালাসি নাইট গার্ড রান্নার কাজ সেও করেছি অনেক বছর।তারপর ষ্টেশনের এক গুন্ডা – ছুরি চাকু বোম। নকশাল আন্দোলনে জড়িয়ে যাওয়া!অনেক বার জেল খাটা। মরতে মরতে বেঁচে যাওয়া, বেঁচে থেকে মরে যাওয়া সেও ঘটেছে আমার জীবনে।

এরপর শুরু লেখক জীবন। বহু বছর ধরে ঘাড় গুজে লিখে যাওয়া। অনেক বই অনেক পুরস্কার! তারপর আবার সে সব ফেলে রাজনীতিতে আসা। বিধায়ক হয়ে যাওয়া।

সেই যে অলকা সারাওগী বলেছিলেন “এক জীবনের মধ্যেত দশ জীবন ” সেই জীবন যাপন করেছি আমি। নরকের শেষ ধাপ আমি যেমন দেখেছি আবার “স্বর্গের”সিড়ি বেয়েও এক দু ধাপ উঠতেও পেরেছি। ঘৃণা নিন্দা অপযশ যত জুটেছে সম পরিমাণ মান সন্মান ভালোবাসাও জুটেছে আমার “ভাগ্যেশ”!

সে ঘৃনা নিন্দা হোক আর মান সন্মান এতো বছরে যা পেয়েছি সব ভুলে যেতে চাই। আবার সব কিছু শুরু করতে চাই নতুন ভাবে নতুন কোনো পরিচয়ে। ফেলে আসা দিন গুলোর দিকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে চাই না।

সেই যে কবি বলে গেছেন স্মৃতি খুড়ে বেদনা জাগাতে কে চায়! আমি আর স্মৃতি খুড়তে চাই না। আমি এক পথিক। হাটতে থাকা আমার ধর্ম। সামনের পথ ধূলি ধূসর। – আবছা। এখনো জানা নেই এই পথ আমাকে কোথায় নিয়ে যাবে।” (বানান অপরিবর্তিত রেখে)

পঞ্চায়েত ভোটের আগে থেকেই বলাগড় বিধানসভার বিধায়কের একের পর এক স্যোশাল মিডিয়া পোস্ট নিয়ে শোরগোল পড়ে যায়। দলের জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধেই বলতে শোনা যায় তাঁকে। তবে, তার মন্তব্য নিয়ে কোনও জবাব দেয়নি শাসকদল। ভোটের পরে আবার ফেসবুক পোস্ট মনোরঞ্জনের। নতুন ভাবে শুরু করতে চান আর নতুন পরিচয়ে। এই মন্তব্য নিয়ে নিয়ে চর্চা তুঙ্গে। কারণ তিনি লিখেছেন, “ঘৃনা নিন্দা হোক আর মান সন্মান এতো বছরে যা পেয়েছি সব ভুলে যেতে চাই। আবার সব কিছু শুরু করতে চাই নতুন ভাবে নতুন কোনো পরিচয়ে। ফেলে আসা দিন গুলোর দিকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে চাই না।” তহলে, কী রাজনীতি ছাড়ছেন, না কি দল! এর আগেও মনোরঞ্জন বলেনছিলেন, রাজনীতি তাঁর জন্য নয়। তাহলে প্রশ্ন উঠছে এলেন কেন? নির্বাচনে লড়ে, বিধায়ক হওয়ার পরে, তাঁর এখন এই সব মনে হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, বিধায়কের বিরুদ্ধেই ক্ষুব্ধ দলের একাংশ।

 

 

 

 

Related articles

জামিন পেলেন না গর্গ চট্টোপাধ্যায়! ১৬ মে পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ আদালতের

বড়সড় আইনি বিপাকে বাংলা পক্ষের গর্গ চট্টোপাধ্যায়। ইভিএম বিকৃতি নিয়ে সমাজমাধ্যমে গুজব ছড়ানো এবং উসকানিমূলক পোস্ট করার অভিযোগে...

রাজ্যে এবার থেকে ‘আইন মেনে’ গো-হত্যা: আইন কার্যকর করা শুরু নতুন সরকারের

বিজেপি শাসিত দেশের অন্যান্য রাজ্যের মতো এবার বাংলাতেও গো-হত্যায় আইনি পথে বর্তমান বিজেপি সরকার। রাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জারি...

নতুন বাস কেনা, মহিলাদের ভাড়ায় ছাড়: সরকারি সিদ্ধান্তে বাস সংগঠনের একাধিক প্রশ্ন

রাজ্যের ক্ষমতায় আসার পরে একের পর এক নতুন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে বিজেপির সরকার। পরিবহন তার মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।...

দুধের প্যাকেটে জ্বালানির আঁচ, মধ্যবিত্তের পকেটে টান দিয়ে দাম বাড়ল আমুলের

একেই মূল্যবৃদ্ধির বাজারে নাভিশ্বাস উঠছে সাধারণ মানুষের, তার ওপর এবার পকেটে টান দিয়ে দাম বাড়ল দুধের। লিটার পিছু...