২১ জুলাই মহাসমাবেশের দিনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে পুলিশের ভুয়ো পরিচয় নিয়ে ধরা পড়লেন এক ব্যক্তি। একটি প্রাইভেট গাড়িকে হরিশ চট্টোপাধ্যায়ের মুখে আটকায় পুলিশ। সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তি নিজেকে পুলিশকর্মী বলে দাবি করলেও কোনো পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি ওই যুবক। তাঁকে ও তাঁর গাড়ির চালককে পরে কালীঘাট থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। জানা গেছে, ওই যুবকের ব্যাগ থেকে অস্ত্র সমেত একটি ভুয়ো পরিচয়পত্র পাওয়া গিয়েছে।পরে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

আরও পড়ুন:শহিদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে সভা শুরুর আগে টুইট অভিষেকের

কালিঘাট পুলিশ জানিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে ভুয়ো পুলিশ সেজে ঘোরাফেরা করছিল একটি যুবক। তার নাম শেখ নুর আমিন। গাড়ির প্লেটের নম্বর WB06U0277, পশ্চিম মেদিনীপুরে রেজিস্ট্রেশন করা বলে জানা গিয়েছে। সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই ভুয়ো পরিচয়পত্র বের করে নিজেকে পুলিশ বলে দাবি করেন ওই ব্যক্তি। পুলিশ ওই ব্যক্তিকে আটক করে তল্লাশি শুরু করে। ওই ব্যক্তির কাছ থেকে বিভিন্ন এজেন্সির ভুয়ো পরিচয় পত্র, আগ্নেয়াস্ত্র এবং মাদক পাওয়া গেছে। কী উদ্দেশ্যে ওই ব্যক্তি মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন তা জানার চেষ্টা চলছে।

প্রসঙ্গত, গত বছর এই জুলাই মাসেই মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির চত্বরে লুকিয়ে ঢুকে পড়েছিলেন এক ব্যক্তি। ওই ব্যক্তিকে আটক করে নিরাপত্তারক্ষীরা তুলে দিয়েছিলেন কালীঘাট থানার পুলিশের হাতে। ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির আশপাশে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে অনুপ্রবেশের ঘটনায় অভিযুক্ত হাফিজুল মোল্লাকে দোষী সাব্যস্তও করে আদালত।

২০২২ সালের জুলাই মাসে রাতের অন্ধকারে কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির চত্বরে ঢুকে পড়েছিল সে। মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির কনফারেন্স হলের পিছনের দিকে রাতভর ঘাপটি মেরে লুকিয়ে ছিল হাফিজুল। হাতে ছিল একটি রড জাতীয় বস্তু। পরে নিরাপত্তারক্ষীদের হাতে ধরা পড়ে যায় হাফিজুল। মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির নিরাপত্তা বলয় এড়িয়ে ঢুকে পড়া সেই হাফিজুলকে এবার দোষী সাব্যস্ত করে আলিপুর আদালত। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৫৮ ধারায় (আক্রমণের প্রস্তুতি নিয়ে অন্যায়ভাবে রাতের বেলা বাড়িতে ঢুকে পড়া) দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে তাকে। আদালত হাফিজুলের ১ বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে।
কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির চত্বরে নিরাপত্তা বেষ্টনী এড়িয়ে হাফিজুল ঢুকে পড়ার পর থেকে আরও তৎপরতা বাড়িয়েছিল পুলিশ। ওই ঘটনার পরে কালীঘাট চত্বরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছিল পুলিশের তরফে। কিন্তু এরই মধ্যে ফের ভুয়ো পরিচয় দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করল এক যুবক।

















