অনেক দিন ধরেই তাল আর সুর কাটছিল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের (Kakoli Ghosh Dastidar)। দলে বারবার সাংসদের টিকিট নিয়ে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ছবি সামনে রেখে জিতে, সব ক্ষমতা এবং সুবিধে ভোগ করার পর কাকলি কি সুবিধাবাদী ঋতদের দলে নাম লেখাতে চাইছেন? জনান্তিকে খবর, এবারের ভোটে ছেলের টিকিটের জন্য চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। রাগ, অভিমান রয়েছে প্রখর। কিন্তু কেন বেসুরো? কেউ কেউ বলছেন, বিজেপির বিষাক্ত ছোবল থেকে বাঁচার জন্যই এই বিপ্লবীয়ানা।

শুক্রবার এক্স হ্যান্ডেলে কাকলি নিজেকে রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য বলেছেন। সেটা যথার্থ। লিখেছেন, চার দশক ধরে লড়াই করেছেন স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে। হ্যাঁ, লড়াই করেছেন ততখানি, যতখানি করলে নেত্রীর চোখে পড়া যায়! এই ক্যারিশমায় তিনি সিদ্ধহস্ত। সঙ্গে চিকিৎসক ট্যাগটা না থাকলে তিনি হতেন আর সাধারণ পাঁচজন মহিলা নেত্রীর মতোই, বললেন তারই এক রাজনৈতিক সহকর্মী। আরও পড়ুন: বসিরহাটে প্রশাসক সরিয়ে পুরবোর্ড ফেরানোর আর্জি, কলকাতা হাইকোর্টে মামলা

কিন্তু এক্স হ্যান্ডেলের শেষে যে কথাগুলো তিনি লিখেছেন, তাতে নিজের বিপদ নিজেই ডেকেছেন। বিধানসভায় তৃণমূলের হারের পিছনে রাজ্য সরকারের ভুল নীতি আর প্রশাসনিক ব্যর্থতার কথা বলেছেন। তৃণমূলের অন্দর থেকে প্রশ্ন, তাই যদি হয়, দলের মধ্যে থেকে ক’বার প্রতিবাদ করেছিলেন? এই মাস দুয়েক আগে ছেলের জন্য কাকলির কথায় ‘ব্যর্থ’ তৃণমূল সরকারের বিধায়কের টিকিট পেতে কেন মরিয়া হয়ে গিয়েছিলেন? দল হেরেছে বলে বিপ্লবীর মতো পোস্ট করে দায় মুক্ত হয়ে মানুষের কাছে ভাল সাজার চেষ্টা করছেন। জিতলে তো এই সরকারের গুণগান চলত এবং দিদিই শ্রেষ্ঠ বলতেন! তৃণমূলের এক বর্ষীয়ান নেতা বলছেন, সাংগঠনিক জেলা সভানেত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে মহান সাজার চেষ্টা করবেন না। হারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগ করে বলুন, মানুষের রায় মাথা পেতে নিলাম। দল শুধরে নিক। তারপর আবার দায়িত্ব দিলে মাথা পেতে নেব।

আসলে সুবিধাবাদীদের দলে নাম লেখাচ্ছেন কাকলি। তার আগে এ সব পোস্ট করতেই হয়। হোয়াটসঅ্যাপে ফ্রিলার পাঠানোর ‘খেলা’ চলছে। সংসদীয় দল ভাঙার চেষ্টা জোর কদমে। দলের সঙ্কটে এসব নাটক না করে কাকলিকে এক নেতার প্রস্তাব, চলুন পদত্যাগ করে ‘বিপ্লব’ শুরু করি।

–

–

–

–
–
–
