Thursday, February 5, 2026

দুর্নীতির প্রমাণ ‘লাল ডায়েরি’ ছিনতাই বিধানসভাতে! বিস্ফোরক অভিযোগ প্রাক্তন মন্ত্রীর

Date:

Share post:

বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে এক লাল ডায়েরি ও কিছু নথিপত্র নিয়ে বিধানসভায় হাজির হয়েছিলেন বহিষ্কৃত মন্ত্রী। তবে বিধানসভা কক্ষেই সেই ডায়েরি ছিনতাই করে নেওয়ার অভিযোগ তুললেন রাজস্থানের(Rajsthan) সদ্য প্রাক্তন বহিষ্কৃত মন্ত্রী রাজেন্দ্র সিং হুডা(Rajendra Singh Hooda)। শুধু তাই নয়, এই ডায়েরি বিধানসভায় পেশ করার অনুমতিও দেননি স্পিকার চন্দ্রপ্রকাশ জোশী। এই ঘটনায় বিধানসভার অন্দরে তিনি রাজেন্দ্র বিক্ষোভ শুরু করলে মার্শাল ডেকে তাঁকে সভার বাইরে বার করে দেওয়ার নির্দেশ দেন স্পিকার। উল্লেখ্য, রাজস্থানে নারী নির্যাতন নিয়ে প্রশ্ন তোলায় শনিবার তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে বরখাস্ত করেছিলেন সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট(Ashok Gehlot)। এরপর সোমবার বিধানসভায় গেহলট সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ এই লাল ডায়েরি নিয়ে হাজির হন তিনি।

সোমবার বিধানসভা ভবনে এই ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার পর বিধানসভার বাইরে এসে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাজেন্দ্র অভিযোগ করেন, “বিধানসভা ভবনে তাঁর থেকে গেহলট সরকারের দুর্নীতি সংক্রান্ত বেশ কিছু ‘প্রমাণ’ ছিনতাই করা হয়েছে। শাসক দল কংগ্রেসের মদতেই এমনটা হয়েছে।” দলের বিরুদ্ধে সারাসরি অভিযোগ তুলে রাজেন্দ্র বলেন, “২০২০ সালে রাজস্থানে সরকার বাঁচাতে কোন বিধায়ককে কত কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। সে টাকা কোথা থেকে এসেছিল, সব ওই লাল ডায়েরিতে লেখা রয়েছে। সে সব হিসাব কংগ্রেসেরই নেতা ধর্মেন্দ্র রাঠোরের লেখা।” যদিও গেহলট-ঘনিষ্ঠ মন্ত্রী শান্তি ধারিওয়াল সোমবার বলেন, “রাজেন্দ্র মিথ্যা অভিযোগ করছেন। বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করছেন।”

উল্লেখ্য,২০২০ সালে মুখ্যমন্ত্রী গেহলট সরকারের বিরুদ্ধে ‘অভ্যুত্থান’ চালাতে গিয়ে ‘ব্যর্থ’ হয়েছিলেন ‘বিদ্রোহী’ কংগ্রেস নেতা সচিন পাইলট। রাজস্থানের তৎকালীন উপমুখ্যমন্ত্রী এবং প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তাঁর অনুগামী ১৯ জন বিধায়ককে নিয়ে দিল্লির কাছে একটি রিসর্টে গিয়ে উঠেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রত্যাশী পাইলটের এই পদক্ষেপে কংগ্রেসের অন্দরে আশঙ্কা তৈরি হয় যে, বিজেপির সহায়তায় তিনিও রাজস্থানে কংগ্রেস সরকার ফেলে দিতে পারেন। তবে কিছু দিন পরেই বিদ্রোহে ইতি টানেন প্রয়াত রাজেশ পাইলটের পুত্র। সে সময় গেহলট শিবিরের সক্রিয় নেতা ছিলেন তৎকালীন অসমারিক প্রতিরক্ষা ও হোমগার্ড বিভাগের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী রাজেন্দ্র।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের বিধানসভা ভোটে বিএসপির টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন রাজেন্দ্র। কয়েক মাস পরে আরও পাঁচ বিএসপি বিধায়ককে নিয়ে কংগ্রেসে যোগ দিয়ে মন্ত্রী হন তিনি। গত শনিবার রাজস্থান বিধানসভার অধিবেশনে রাজেন্দ্র বলেন, “রাজস্থানে নারীদের নিরাপত্তা দিতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। নারীদের উপর অত্যাচার বেড়েছে। মণিপুরের ঘটনা নিয়ে কথা না বলে আমাদের উচিত নিজেদের রাজ্যের দিকে নজর দেওয়া।” এর পরেই মন্ত্রিসভা থেকে রাজেন্দ্রকে বরখাস্ত করেন গেহলট।

spot_img

Related articles

বিরোধী ঐক্যের সামনে পর্যুদস্ত: লোকসভায় ভাষণ দিতে পারলেন না প্রধানমন্ত্রী মোদি

বিরোধী দলনেতাকে রাষ্ট্রপতি অভিবাসনের জবাবি ভাষণ দিতে না পারার প্রতিশোধ লোকসভায় নিল বিরোধীরা। বিরোধী দলগুলি বিক্ষোভের জেরে বুধবার...

জর্জ-বৈভবদের দাপুটে ব্যাটিংয়ে বিশ্বকাপ জয়ের দুয়ারে ভারতের যুবরা

৩১১ রানের বিশাল টার্গেট তাড়া করে মাত্র ৪১.১ ওভারে আফগানিস্তানকে হারিয়ে অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের(U19 ICC World Cup) ফাইনালে...

প্রস্তুতি ম্যাচে হিট নতুন ওপেনিং জুটি, বোলিংয়ে প্রশ্ন রেখেই স্বস্তির জয়

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের (T20 World Cup) আগে প্রস্তুতি ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৩০ রানে হারাল ভারত(India)। আগামী শনিবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের(USA)...

এভাবেই লড়াই চালান একজন নেত্রী: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে অখিলেশ, প্রিয়াঙ্কা

একটি রাজ্যের নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী ঠিক কেমন ভূমিকা নিতে পারেন তা বুধবার দেখিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটার তালিকা...