Monday, February 23, 2026

‘বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য’ই ভারত: ‘সনাতন ধর্ম’ বিতর্কে সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তা মমতার

Date:

Share post:

তামিলনাড়ুর(Tamilnadu) মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনের(MK Stalin) পুত্র উদয়নিধি স্ট্যালিনের(Udaynidhi Stalin) সনাতন ধর্ম প্রসঙ্গে(Sanatana dharma) মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্ক চরম আকার নিয়েছে। হিন্দু ধর্ম নিয়ে তাঁর মন্তব্যের বিরোধিতায় সরব হয়েছে বিজেপি। এহেন পরিস্থিতির মাঝেই এবার এই ইস্যুতে মুখ খুললেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভারতের মূল ভিত্তি তুলে ধরে সর্ব ধর্ম সমন্বয়ের বার্তা দিলেন তিনি। জানালেন, “আমাদের উচিৎ সব ধর্মকে সম্মান করা।”

সোমবার নবান্নে সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় স্ট্যালিন পুত্র উদয়নিধির সনাতন ধর্ম প্রসঙ্গে বিতর্কিত মন্তব্যের বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি তামিলনাড়ু ও দক্ষিণ ভারতের জনগণকে সম্মান করি। তবে তাদের প্রতি আমার বিনীত অনুরোধ সকল ধর্মকে সম্মান করুন। প্রত্যেক ধর্মের আলাদা আলাদা অনুভূতি আছে।” পাশাপাশি তিনি বলেন, “ভারত একটি ধর্মনিরপেক্ষ এবং গণতান্ত্রিক দেশ। আমাদের দেশের মুল ভিত্তি হল ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য’। আমি সনাতন ধর্মকে সম্মান করি এবং আমরা বেদ থেকে শিক্ষালাভ করি। আমাদের রাজ্যে অনেক পুরোহিত আছেন, রাজ্য সরকার তাঁদের পেনশন দেয়।”

এর পাশাপাশি ভারতের বহু সংখ্যক সনাতন ধর্মালম্বি মানুষের ধর্মীয় ভাবাবেগের কথা তুলে ধরে মমতা বলেন, “সারা দেশে হিন্দুদের বহু মন্দির রয়েছে। আমরা মন্দিরের পাশাপাশি মসজিদ, গীর্জা সব জায়গায় যাই। ফলে আমাদের এমন কোনো মন্তব্য করা উচিত নয় যা মানুষের ভাবাবেগে আঘাত করে।” একইসঙ্গে উদয়নিধির মন্তব্য প্রসঙ্গে মমতা আরও বলেন, “ওনার বয়স অনেক কম। তিনি কেন এবং কী কারণে এই মন্তব্য করেছেন তা আমি জানি না। তবে আমি মনে করি, প্রতিটি ধর্মকে সম্মান করা উচিত।”

উল্লেখ্য, উদয়নিধি স্ট্যালিন শনিবার চেন্নাইয়ের সাংবাদিক বৈঠকে মন্তব্য করেন, “কিছু জিনিসের প্রতিবাদ করা যায় না। সেগুলির অবলুপ্ত ঘটানো দরকার। আমরা ডেঙ্গু, মশা, ম্যালেরিয়া কিংবা করোনার বিরোধিতা করি না। আমরা সেটা নির্মূল করি। ঠিক সেভাবেই আমাদের সনাতন ধর্মকে অবলুপ্ত করতে হবে। ‘সনাতন’ শব্দটা এসেছে সংস্কৃত থেকে। এটা সামাজিক ন্যায় ও সাম্যের বিরুদ্ধে। কারণ এই ধর্ম সামাজিক ন্যায়কে অস্বীকার করে। বর্ণভেদ প্রথায় বিশ্বাস করে।” পাশাপাশি তাঁকে আরও বলতে শোনা যায়, “এই ধর্ম নারীদের স্বামীর সঙ্গে সহমরণে যেতে বাধ্য করেছে। এই ধর্ম স্বামীহারা নারীদের সাদা থান পরতে বাধ্য করে। অন্যদিকে, ‘দ্রাবিড়ম’ অর্থাৎ ডিএমকে অনুসৃত দ্রাবিড় মতাদর্শ অনুসরণ করে আমাদের সরকার মহিলাদের জন্য বিনা ভাড়ায় ভ্রমণের সুযোগ দিয়েছে। মেয়েদের কলেজের শিক্ষার জন্য মাসে হাজার টাকা সহায়তা দিচ্ছে। ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে সব মহিলা মাসে হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।”

spot_img

Related articles

রাজনীতি, অসুস্থতাকে পিছনে ফেলে না ফেরার দেশে মুকুল রায়

প্রয়াত বঙ্গ রাজনীতির পালাবদলের অন্যতম কারিগর মুকুল রায় (Mukul Roy)। রবিবার মধ্যরাতে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস...

আজকের রাশিফল: মেষে জমি-সংক্রান্ত বাধা, বৃষে অর্থযোগ, কুম্ভে সম্পত্তি কেনার শুভ সময়

কোথাও কাজের চাপ, আবার কোথাও সম্পর্কের উষ্ণতা। গ্রহের অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে নতুন সুযোগ ও সতর্কতার মিশেল। চলুন, একটু...

পোর্টাল বন্ধ, কীভাবে নথি আপলোড: কমিশনকে প্রশ্ন বিচারকদের

সোমবার থেকেই লজিকাল ডিসক্রিপেন্সিতে আটকে থাকা ভোটাদের নথি যাচাইয়ের কাজ শুরু করবেন রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক ও বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা।...

পিজির মুকুটে নয়া পালক! স্বাস্থ্যসাথীর হাত ধরে রাজ্যে প্রথম ‘সিউচারলেস হার্ট ভালভ’ প্রতিস্থাপন

রাজ্যের মুকুটে নতুন পালক। খাস কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে সফলভাবে সম্পন্ন হলো রাজ্যের প্রথম সরকারি ‘সিউচারলেস হার্ট ভালভ’ বা...