Tuesday, April 7, 2026

উৎসবের মরশুমে ছুটি নেই বিদ্যুৎ দফতরের ৭০ হাজার কর্মীর!

Date:

Share post:

উৎসবের মরশুমে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে তৎপর রাজ্য বিদ্যুৎ দফতর (State Electricity Department)। প্রতি বছরের মতো এবারও খোলা হচ্ছে বিশেষ কন্ট্রোল রুম। দুর্গাপুজোর মরশুমে জেলায় জেলায় সব অফিস খোলা থাকবে এবং সেখান থেকেও সর্বক্ষণ পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হবে। রাজ্যে মোট ৩ হাজার ৩৫৭ টি মোবাইল ভ্যান রাস্তায় থাকবে, জানিয়েছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। পুজোর জন্য দফতরের সব কর্মীদের ছুটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ দফতরের মোট ৭১ হাজার ৭৯২ জন স্থায়ী ও ঠিক কর্মী রাস্তায় থাকবেন।

এছাড়া পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যুৎ বণ্টন পর্ষদের তরফেও একটি ২৪ ঘন্টার টোল ফ্রি নম্বর রাখা হয়েছে। সেটি হল – ১৯১২১। এর পাশাপাশি ৮৯০০৭৯৩৫০৩ এবং ৮৯০০৭৯৩৫০৪ নম্বর ফোন করেও কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগ করা যাবে। কোনওরকম সমস্যা হলে তা দ্রুত সিইএসসিকে জানানোর জন্য রয়েছে একটি টোল ফ্রি নম্বর – ১৯১২। এছাড়া সিইএসসি-র কন্ট্রোল রুমে ৯৮৩১০৭৯৬৬৬, ৯৮৩১০৮৩৭০০ এই দুটি নম্বরে ফোন করেও জানানো যাবে সমস্যার কথা।

উল্লেখ্য, এই বছরে দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে বিদ্যুতের বিলের উপর ৬৬ শতাংশ ছাড়া দেওয়াও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদের এলাকার প্রায় ৪৫ হাজার পুজো কমিটি এই সুবিধা পাবে। প্রসঙ্গত, এবার পুজোর মরশুমে বৃষ্টি হলে সেই পরিস্থিতির জন্য দফতর যে তৈরি রয়েছে, সেই কথাও এদিন জানালেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস।

এর পাশাপাশি প্রতিটি পুজো কমিটি পরিদর্শনে যাবেন বিদ্যুৎ দফতরের আধিকারিকরা। সেখানে পুজো কমিটিগুলি কী কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, কী ধরনের তার ব্যবহার করা হচ্ছে, কী কী সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সেই সব বিষয়গুলির উপর নজরদারি চালানো হবে বলেও জানান বিদ্যুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। সব মিলিয়ে দুর্গাপুজোর আগে বিদ্যুৎ দফতর যে পুরোপুরি তৈরি, সেই কথা এদিন বুঝিয়ে দিলেন মন্ত্রী।

এদিন সাংবাদিক বৈঠকে বিদ্যুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস বিদ্যুৎ পরিষেবা ও ট্যারিফ বৃদ্ধি নিয়ে বিরোধীদের কুৎসা ও মিথ্যাচারের জবাব দেন। পরিসংখ্যা তুলে ধরে বিদ্যুৎমন্ত্রী দাবি করেন, তথাকথিত ডবল ইঞ্জিন রাজ্যগুলির তুলনায় বাংলায় যা অনেক কম। যেখানে ২০১৬ সালের পর থেকে অসম, মহারাষ্ট্র, উত্তর প্রদেশের মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে ট্যারিফ অনুযায়ী বিদ্যুতের দাম ক্রমাগত বেড়েছে, সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের আমলে ট্যারিফ অনুযায়ী কোনও দাম বৃদ্ধি হয়নি। এই সরকার মানবিক সরকার। এই সরকার মা-মাটি-মানুষের কথা ভাবে।

অন্যদিকে, বাংলা বিদ্যুৎ গ্রাহক সমিতি (অ্যাবেকা) যে বিদ্যুৎ বিল বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে, তাদের সেই দাবিও ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী। বিদ্যুৎ দফতরের তরফে জানানো হয়েছে গৃহস্থ হোক, কৃষি কিংবা শিল্প কোনও ক্ষেত্রেই গ্রাহকের উপর বাড়তি বিলের বোঝা চাপেনি বাংলায়। ফিক্সড কস্ট-এর উপর বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে গ্রাহকের বিল বাড়লেও, বাংলায় কোনও গ্রাহকের বিলে তার প্রভাব পড়েনি।

বিদ্যুৎ দফতরের আরও দাবি, মিটার অনুসারে বিল গিয়েছে। এবার অত্যাধিক গরমের মরশুমে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। সে কারণেই কিছু ক্ষেত্রে বিল বেড়েছে বলে মনে হলেও, তা সম্পূর্ণ মিটার অনুযায়ী হয়েছে। তবে কোনও গ্রাহকের মিটারে কোনও সমস্যা থাকলে অভিযোগের ভিত্তিতে তা পরীক্ষা করে সুরাহা করা হবে বলেও জানিয়েছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস।

Related articles

ভোটার তালিকায় বহিরাগত ঢোকানোর ছক! প্রভুকে খুশি করতেই ব্যস্ত, কমিশনকে কটাক্ষ তৃণমূলের

বিজেপিকে খুশি করতে বিহার-উত্তরপ্রদেশ থেকে ভোটার আনা হচ্ছে বাংলায়! আর সুপরিকল্পিত চক্রান্তে বাংলার বৈধ ভোটারদের নাম কেটে ভোটাধিকার...

ভোটার তালিকায় জটিলতা মেটাতে তৎপর কমিশন, সিইও দফতরে বিশেষ দায়িত্বে বিভূ গোয়েল

ভোটার তালিকা সংশোধন তথা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে সাম্প্রতিক টানাপড়েনের আবহে রাজ্যের নির্বাচনী পরিকাঠামোয় বড়সড় রদবদল ঘটাল ভারতের নির্বাচন...

গেরুয়া শিবিরে বিতর্কিত বাম নেতা অনিল বসুর পুত্র সৌম্য

বাবা বাম জমানার বিতর্কিত নেতা অনিল বসু (Anil Basu)। এবার তাঁর ছেলে সৌম্য বসুকে এবার দেখা গেল বিজেপির...

কারণ না দেখিয়ে একতরফা সিদ্ধান্ত! খারিজ জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ প্রস্তাব

দেখানোর মতো কোনও সুনির্দিষ্ট যুক্তিই নেই কেন্দ্রের। তাই কোনও কারণ ব্যাখ্যা না করেই সম্পূর্ণ একতরফাভাবে খারিজ করে দেওয়া...