Tuesday, January 13, 2026

মীরজাফরের ইন্ধনে টাকা আটকাচ্ছে কেন্দ্র! মোদি সরকারের বিরুদ্ধে গ.র্জে উঠলেন কল্যাণ-সামিরুল

Date:

Share post:

কেন্দ্রীয় বঞ্চনার বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার রাজভবন অভিযানের ডাক দিয়েছিল তৃণমূল (TMC)। আর সেই মতোই বৃহস্পতিবার রবীন্দ্র সদন থেকে বাংলার বঞ্চিতদের নিয়েই পথে নামেন তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। এদিনের মিছিলে কার্যত জনসমুদ্র লক্ষ্য করা যায়। তবে এদিন অভিষেকের সঙ্গে ছিলেন দলের সাংসদ, বিধায়ক থেকে শুরু করে শীর্ষস্থানীয় নেতারা। অভিষেক মিছিল নিয়ে রাজভবনে (Rajbhawan) পৌছলেও সেখানে ছিলেন না রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে উত্তরবঙ্গ পরিদর্শনে গিয়েছেন তিনি। পরে সেখান থেকে সোজা পৌঁছে যান রাজ্যপাল বোস। রাজ্যপাল যে ভয় পেয়েই শহর ছেড়ে পালিয়েছেন এমন অভিযোগ তৃণমূলের। এদিন রাজভবনের সামনে একে একে ভাষণ দেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব।

তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Kalyan Banerjee) অভিযোগ, গত ২ অক্টোবর দিল্লির বুকে যে আন্দোলন সংঘঠিত হয়েছিল আজ তা রাজভবনের সামনে। এই আন্দোলনের কারিগর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কৃষি দফতরের অধিকারিক জানিয়েছিলেন, বাংলার বিরোধী দলনেতা ও বাংলার বিজেপি সাংসদরা টাকা দিতে বারণ করেছে। তবে বাংলার কিছু ভাঁওতাবাজ, দলবদলুর কথায় একজন প্রধানমন্ত্রী বাংলার গরিব মানুষের অধিকারের টাকা আটকে রেখেছে। যাদের ভরসায় একুশ সালে ২০০ আসন নিয়ে বাংলা দখলের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তাদের কথায় বাংলাকে বঞ্চনা করেছেন মোদি। দিল্লির অলিতে গলিতে মানুষ বলছে, তৃণমূল কংগ্রেসের মতো এমন আন্দোলন তাঁরা আগে দেখেননি। বিজেপি টাকা আটকে অন্যায় করছে। ব্যক্তিগত পর্যায়ে গিয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা আগে ছিল না, এটা নরেন্দ্র মোদি আমদানি করেছে। যে আওয়াজ তুলবে তার বিরুদ্ধে ইডি, সিবিআই দিয়ে গ্রেফতার করতে চাইছে। ভারতবর্ষের বুকে বিজেপি ছাড়া আর কোনও রাজনৈতিক দল রাখতে চায় না নরেন্দ্র মোদি। গোটা বিশ্বে এমন প্রতিহিংসা পরায়ণ রাজনৈতিক নেতা আর নেই। আমি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, এ জন্মে যেন নরেন্দ্র মোদি তার পাপের ফল পায়।

সাংসদ সামিরুল ইসলামের (Samirul Islam) অভিযোগ, বাংলার যে ২০ লক্ষ বঞ্চিত মানুষ টাকা পাননি তাঁরা তৃণমূল করেন না। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সকল গরিবের জন্য এই লড়াই করছে। মোদি সরকার গরিব, তপশিলি, আদিবাসী মানুষের বিরোধী। আর শুভেন্দু অধিকারী বাংলা বিরোধী, হিংসুটে। তাঁর ইন্ধনেই কেন্দ্র টাকা আটকে দিচ্ছে। উনি একজন মিরজাফর। আর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষের স্বার্থে লড়ছে। এই টাকা বিজেপির টাকা নয়, বাংলার গরিব মানুষের হকের টাকা। আমাদের দিল্লির আন্দোলন দেখে মোদি সরকার ভয় পেয়েছে। তাই পুলিশ দিয়ে আমাদের মহিলা সাংসদ থেকে শুরু করে নেতা-মন্ত্রীদের নিগ্রহ করেছে। কিন্তু মোদি ভুলে গিয়েছেন বাংলার মানুষের শরীরে স্বাধীনতা সংগ্রামের রক্ত আছে। এভাবে আমাদের আটকানো যাবে না।

 

 

 

spot_img

Related articles

পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন মেরি কম! বিস্ফোরক অভিযোগ প্রাক্তন স্বামীর

দুই বছর আগেই বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছে মেরি কম (Mary Kom) এবং তার স্বামী কারুং অনলারের মধ্যে ।এবার...

যৌনতার ট্যাবু ভেঙে সোশ্যাল মিডিয়ার নির্ভীক কণ্ঠস্বর, জনপ্রিয়তার শিরোনামে গল্পকার সীমা!

ভারতীয় সংস্কৃতিতে যৌনতা (Sex) নিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে বরাবরই একটা ট্যাবু কাজ করেছে। খুব সহজ স্বাভাবিক বায়োলজিক্যাল একটা...

এসআইআর শুনানি ঘিরে রাজ্যজুড়ে ক্ষোভ! অবরোধ-বিক্ষোভে উত্তাল একাধিক জেলা

ভোটার তালিকায় ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা তথ্যগত অসঙ্গতি সংশোধনের নামে বিশেষ নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়া (SIR) ঘিরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায়...

বিজেপি বিধায়কের মুখে অশ্লীল ভাষা: শাস্তির বদলে সাফাই দিল রাজ্য নেতৃত্ব!

বাংলায় যে ধরনের ভাষা সন্ত্রাস আগে কখনও দেখা যায়নি, বিজেপির বাড় বাড়ন্ত হওয়ার পর সেই ছবিই এই রাজ্যে...